somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার নেপাল ভ্রমন কাহিনি - পর্ব ৪ নাগরকোট

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৪র্থ পর্ব
১ম পর্ব
২য় পর্ব
৩য় পর্ব
সকাল ৭ টায় বাস ছারবে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে, তাই ৬ টায় উঠে পড়লাম। উঠে জানালার দিকে তাকিয়েই দেখতে পেলাম অপূর্ব সুন্দর অন্নপূর্নার মাউন্ট ফিশটেইল এর চূরা। আমার জানালা থেকে এটা সরাসরি দেখা যায়।




গতকাল না দেখতে পাওয়ার খেদ ভুলে গেলাম। গোসল করে রেডি হয়ে নিলাম। গাটকি বোচকা বেধে নিয়ে একবারে নিচে চলে এলাম। হোটেল ম্যানেজার রমেশ তার গাড়িতে করে বাস স্ট্যান্ডে পৌছে দেয়ার ব্যাবস্থা করল। ট্যুরিস্ট বাস স্ট্যান্ডে পৌছে উঠে পড়লাম ব্লুস্টার ট্রাভেলস এ কাঠমান্ডুর উদ্দ্যেশ্যে।

কিছুদুর যাওয়ার পরেই প্রচন্ড কুয়াশায় সব কিছু অন্ধকার হয়ে গেল। ১ মিনিট আগেও কড়া রোদ ছিল, হঠাৎ করে এতো কুয়াশা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম।



একটু পরে অবশ্য কুয়াশা ছেরে আবার রোদের মধ্যে চলতে শুরু করল।

বাসের মধ্যে বসে হঠাৎ চিন্তা এল নাগরকোটটা ঘুরে আসলে কেমন হয়। যেই চিন্তা সেই কাজ, প্ল্যান করে ফেললাম কিভাবে কি করব। ফোন দিলাম বিজয় দাদা কে। (এনার কথা বলেছি প্রথম পর্বে)। বিজয় দাদা নেপালে প্রথম দিন পরিচিত একজন বাঙ্গালী যিনি বাংলাদেশে ছিলেন। যাহোক, দাদাকে ফোন দিয়ে বললাম নাগরকট ঘুরবো, হোটেল আর প্রাইভেট কার কত খরচ হবে জানাতে। বিজয় দাদা কিছুক্ষন পর জানাল খরচ পড়বে ৯০ ডলার। এবার আমি ধরলাম তাকে যে এত দিতে পারবো না। ৬০ ডলারের মধ্যে ব্যাবস্থা করেন। দাদা কিছুক্ষন পরে ফোন করে ৬৫ ডলারে নাগরকোটের ১ নাম্বার ৩স্টার হোটেল এবং একটা প্রাইভেট কার ঠিক করলেন। সাথে পরের দিন আসার পথে ভক্তপুর ট্যুর। যেহেতু আমি একা, সেহেতু এই বেশি খরচ।

বিকেল ৩ টায় পৌছালাম কাঠমান্ডু। বাস নামিয়ে দিল। বাস থেকে নেমে বিজয় দাদাকে ফোন দিলাম। দাদা ট্রাভেল এজেন্টকে বলে দিল, ১৫ মিনিটের মধ্যে ট্রাভেল এজেন্টের ম্যানেজার গাড়ি নিয়ে হাজির। পুরা পেমেন্ট করে গাড়ি নিয়ে রওনা হলাম নাগরকোটের উদ্দ্যেশ্যে






ছবির নাম নিয়ে নো কমেন্টস ;)

গাড়ি চলতে শুরু করল, আর আমি কাঠমান্ডু দেখতে শুরু করলাম। নাগরকোটের কাছাকাছি এসে গাড়ি উঠতে শুরু করল পাহারে।

আমার ড্রাইভার সরাসরি নিয়ে এল হোটেল ভিউ পয়েন্টে। এটাই এখানকার সবচেয়ে সুন্দর যায়গার হোটেল এবং সম্ভবত সবচেয়ে দামি হোটেল। এর ভারা ঠিক হয়েছে এক্রাত ১৬০০ রুপি। খাওয়া দাওয়া বুফে, খাওয়ার বিল আলাদা।

হটেলে উঠেই আমি অবাক, সরাসরি দেখা যাচ্ছে ল্যাংটাং হিমালয়ান রেঞ্জ। জীবনে প্রথম বরফের পাহার দেখলাম তাও দুনিয়ার সব চেয়ে বড় পাহার গুলার একটা। অন্যরকম অনুভুতি।

রুমে গিয়ে কাপর ছেরে জ্যাকেট পরে আগে ক্যামেরা নিয়ে বেরহলাম ছবি তোলার জন্যে।












হোটেল থেকে নেমে এলাম। ড্রাইভার কে জিজ্ঞাসা করলাম কোথায় নিয়ে যাবে। বলল নাগরকোট টাওয়ারে। অখান থেকেই সবাই দেখে পাহার। উঠে বসলাম গাড়িতে। নাগরকোট টাওয়ারে পৌছালাম। আমি উঠতে শুরু করলাম, ড্রাইভার পেছনে এল। টাওয়ারে উঠেই অদ্ভুদ সুন্দর হিমালয় পর্বত দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল।





আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হয়ে এল। হিমালয় ও কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়তে লাগল, ঠান্ডার পরিমান ও বাড়তে লাগল। নেমে এলাম টাওয়ার থেকে। সরাসরি হোটেল এ চলে এলাম। ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিলাম। মূলত জাপানী আর চীনা পর্যটকে ভর্তি এই হোটেল। রাতের বেলা হোটেল বয় এসে জানান দিয়ে গেল খাবার রেডি। চলে গেলাম ডাইনিং এ। বুফে খাবার, ভালই মেন্যু। খেয়ে দেয়ে রুমে এসে বিজয় দাদার ফোন, ঠিম ভাবে পৌছেছি কিনা। কিছুক্ষন পর ঘুমিয়ে পরলাম সারা দিনের ক্লান্তির কারনে।

আগামী পর্বে নাগরকোটের ২য় দিন এবং ভক্ত পুর ট্যুর নিয়ে লিখবো।
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×