somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মতি মিয়া

২৯ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হাসান সাহেব, এলাকার একজন পরিচিত মুখ। আশেপাশের লোকজন যাকে ভালোভাবে চিনে। তিনি হাসিখুশি এবং সবসময় মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করেন। শোনা যায়, হাসান সাহেবের অনেক অবৈধ ব্যবসা আছে। এসব অবৈধ ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি নাকি অনেক মারাত্মক অপরাধও করেছেন। কেউ তো এটাও বলে হাসান সাহেবের নির্দেশে বেশ কিছু খুনও হয়েছে। এগুলো সবই শোনা কথা। এসবের কোন প্রমান মেলেনি।

আজকাল বিশ্বস্ত মানুষ পাওয়া কষ্ট। হাসান সাহেবের গ্রাম থেকে মফিজ নামের একটি ছেলেকে এনেছেন। ছেলেটি খুব বিশ্বস্ত। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করে। মাঝে মাঝে রাত জেগে বড়ি পাহারা দেয়। হাসান সাহেব ও অনেকবার বলেছে, পাহারা দেবার জন্য দারোয়ান আছে, মফিজকে পাহারা দিতে হবে না। মফিজ খুব বিশ্বস্ত ও কর্তব্য পরায়ন। সে হাসান সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই বাড়ীটির প্রতি তার মায়া আছে। সে বাড়িটি যত্ন নিয়ে দেখাশোনা করে। মাঝে মাঝে রাত জেগে পাহারা দেয়। মফিজ সব সময়

এই সপ্তাহে হাসান সাহেবের ছেলের জন্মদিন। হাসান সবের টাকার অভাব নেই। খুব ধুমধাম করে জন্মদিন পালন করা হবে। অন্য কর্মচারীদের সাথে মিলে, মফিজ দুইদিন ধরে বাড়িটি সাজিয়েছে। এমনিতেই অনেক বড় বাড়ী, তার উপরে ফুল ও লাইট লাগিয়ে একেবারে রাজপ্রাসাদের মতন লাগছে বাড়িটিকে। সন্ধ্যের সময় কেক কাটা হবে। বিকেল থেকেই একে একে অতিথীরা আসতে শুরু করল। হাসান সাহেব কর্মচারীদেরকে বলে দিলেন - খেয়াল রাখবে, আজেবাজে লোক যেন না ঢোকে। অন্যান্য কর্মচারীরা সেটা শুনে কি বুঝলো, কে জানে। তবে মফিজ প্রতিজ্ঞা করল, যেভাবেই হোক, কোন আজেবাজে লোককে ঢুকতে দিবে না।

একে একে অতিথী আসছে, মফিজ গেটে দাঁড়িয়ে সবার হাতে একটি একটি ফুল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। খুব সুন্দর কেটে গেল আধা ঘন্টা। তখনই গেটের সামনে একটি কালো রঙের গাড়ী দাড়ালো। সেই গাড়ী থেকে ভুড়িওয়ালা একটি লোক নামলো। তাকে দেখে সবাই চিনেছে। কেউ কেউ তাকে সালাম দিলো। মফিজ তাকে দেখে চেনেনি, তবে নাম শুনে চিনতে পারলো। এটা হল মতি মিয়া, ক্ষমতাসীন দলের নেতা। তার নামে কয়েকটি হত্যা মামলা আছে, কয়েবার জেল খেটেছে, আর দুর্নীতি তো তার কাছে কোন ব্যাপারই না।

মফিজের মাথায় চিন্তা আসলো, এমন একটি বাজে লোক এখানে কেন? আজকের এই খুশির দিনে, এই লোকটিকে বাড়ীতে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। সাহেব তো বলেই দিয়েছেন, আজেবাজে লোক যেন না ঢোকে। মফিজ এসব চিন্তা করছে, ঠিক তখনই দেখতে পেলো গেটের ভেতর দিয়ে মতি মিয়া ঢুকছে। দেরী না করে, দৌড়ে গিয়ে সামনে দাড়ালো মফিজ। মতি মিয়া জিজ্ঞেস করলো - এই ছোকড়া, কি হয়েছে? মফিজ বলল - আপনি ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। মতি মিয়া এনেকদিন এমন আবাক হয়নি। সামান্য এক চাকর, তাকে এভাবে অপমান করবে, সেটা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। বাড়ির দারোয়ান ও অন্য করমচারীরা মতি মিয়াকে ভেতরে পাঠাতে চায়, কিন্তু এই এক মফিজ ভ্যাজাল করছে। শুরু হয়ে গেল হট্টগোল, ও চেচেমেচি। এসব শুনে ভেতর থেকে হাসান সাহেব দৌড়ে বেড়িয়ে এলেন।

মতি মিয়াকে দেখে হাসান সাহেব বললেন - আসুন, ভেতরে আসুন। কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করলেন - কিরে চেচামেচি কেন? ঘটনা শুনে, হাসান সাহেব প্রচন্ড রেগে গেলেন। বললেন - মফিজকে মারতে মারতে এই বাড়ী থেকে বের করে দাও। হারামজাদার কত বড় সাহস, ও মতি ভাইকে আসতে বাধা দেয়। মতি ভাই, আপনি কিছু মনে করবেন না। হতচ্ছাড়া গ্রামের থেকে এসেছে, এখনো ঘটনা বোঝে নি।

এই কথাটা শেষ হতে না হতেই, মফিজের উপরে হামলা শুরু হয়ে গেল। ডানে-বায়ে, সামনে-পিছে শুধু কিল ঘুষি আর লাথি। চোখে মুখে অন্ধকার দেখে, মাটিতে পড়ে গেল। যখন জ্ঞান ফিরলো, তখন দেখতে পেলো, বাড়িটির সামনের ফুটপাতে শুয়ে আছে। তাকে জ্ঞান ফিরতে দেখে দারোয়ান তাকে বলল - এই যে তোরে ব্যাগ এখানে। আর সাহব তোরে বেতনের টাকাও দিছে। ব্যাগটা নিয়ে গ্রামে চলে যা। কোন কথা না বলে, মফিজ সেই ব্যাগ ও টাকা নিয়ে ওখান থেকে চলে গেল।

এসব ঘটনার নীরব দর্শক ছিল রাস্তার এক পাগল। পাগলটি মফিজকে বলল - কিরে, গ্রামে ফিরে যাবি? মফিজ কাদো-কাদো স্বরে বলল - হ্যা। কেন, কি হয়েছে, এমন দু-একটি কথা বলতে বলতে, পাগলটির সাথে অনেক কথা বলল মফিজ। বোঝা গেল, লোকটি পাগল হলেও, কঠিন কথা বলে। সাহস করে পাগলকে জিজ্ঞেস করেই ফেলল - আচ্ছা, মতি মিয়াকে বাধা দেবার অপরাধে, আমার চাকরী চলে যেতে পারে, আমাকে বের করে দিতে পারে, বড়োজোর, সাহেব আমাকে একটি চড় মারতে পারেি। কিন্তু ওরা আমাকে এমন নির্দয়ভাবে মারলো কেন?

পাগল বলল - মতি মিয়া হলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। হাসান সাহেব বিভিন্ন আবৈধ ব্যাবসা করতে পারেন এই মতি মিয়ার ছত্রছায়ায়। শুধু তাই নয়, এই বাড়ির আসল মালিক হাসান সাহেব নয়। মতি মিয়ার সহায়তায়, হাসান সাহেব অন্য একজনের বাড়ি দখল করে বসে আছেন। সেই বাডিতে মতি মিয়াকে ঢুকতে না দিলে তোমাকে তো পেটাবেই।

এসব কথা শোনার পরে, মফিজ বিদায় নিয়ে গ্রামের পথে রওনা দিল। মনে মনে বলল - এসব পাগলের কথা শুনে কি লাভ। পাগলের কথার কোন মুল্য নেই।
দ্রস্টব্যঃ গল্পের সকল চরিত্র ও ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। আপনি যদি, এই গল্পের সাথে কোন জীবিত বা মৃত ব্যাক্তির ঘটনার মিল খুজে পান, তাহলে সেটা শুধুমাত্র আপনার বিকৃত চিন্তার ফসল।


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১:২৯
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×