যে জায়গাটাতে প্রতিদিন অফিস বাসের জন্য অপেক্ষা করি, সেখানে আমার বাস আসার আগে দুইটা লালবাস আমাকে অতিক্রম করে যায়।
আর আমি ভালোবেসে লাল বাসদুটির দিকে তাকিয়ে থাকি।
যতক্ষণ দেখা যায়, ততক্ষণ তাকিয়ে থেকে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলি, নস্টালজিক হয়ে যাই।
আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটির লাল বাসের কথা বলছি, আমার প্রিয় বাস, লাল বাস।

আমি উল্লাসের যাত্রী ছিলাম। তখন লালবাসটাকে বলতাম রহমতের বাক্স। ছাত্র উঠানোর জন্য লাল-বাসটাতে জায়গার অভাব হত না। যত স্টুডেন্টই ঢুকাও না কেন, ভিতরে ঠিকই যায়গা হয়ে যেত। একজন আরেকজনের উপর চেপে, এক পায়ের পাতায় ভর করে আরেক ভাইয়ের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বাকীদেরকে জায়গা করে দিতাম। মাথা সোজা রাখা যেত না কখনও কখনও, তারপরও সব ভাইদেরকে নিতে হবে, নিয়েই যাব।
এরপর যখন আর জায়গা থাকত না, তখনও অনেকে বাইরে দাঁড়িয়ে, এবার জানালার পাশে বসে থাকা ভাই-বোনেরা জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিত, সাহায্যের হাত। হাত বাড়িয়ে নিয়ে নিত অন্য ভাইদের ব্যাগ, আর ব্যাগ রাখার যায়গা পেয়ে তারা দরজায় ঝুলে পড়ত। জানালার পাশের সীটে বসা ভাই-বোনদের কোলের উপর ব্যাগ আর ব্যাগ। আর গেটে ঝুলে থাকা ভাইদেরকে ধরে রাখত ভিতরে থাকা অন্য কোন সহযোদ্ধা ভাইয়ের হাত। একজন আরেকজনকে ধরে রাখত, সে অন্য আরেকজনকে। এভাবে বাসের গেটের পেট ফুলে যেত। একটা যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি বা যুদ্ধ শেষে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি শুরু হত। সবাই মিলে হাতে হাত ধরে ঘাড়ে ঘাড় মিলিয়ে প্রায় ৬/৭ বছর।
এরপর এক যুগ পার করে ফেললাম, এখনও লালবাস দেখলে নস্টালজিক হয়ে যাই। মন চায় দৌড়ে আবার ঐ বাসটার হ্যান্ডেল ধরি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

