সত্যিকারের বিরোধীদল ছাড়া সরকারও যে অনেকটা একঘরা, দিশা হারা, অচল, হালকা ধরনের হয়, তা এই সরকারকে দেখলেই বুঝা যায়। নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আছে, তারপরও অনেক কিছুই যেন নেই। কেন এমন হলো। সয়ং প্রধানমন্ত্রীকে আর আগের বারের মত এতটা মানানসই দেখায় না। অথচ গতবার ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি যোগ দেয়ায় তারা হেরে গেলেও বিজয় হয়েছিল গণতন্ত্রের। বিএনপি তখন নির্বাচনে না গেলে আওয়ামিলীগের পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব হতোনা। কারন তখন সেনাবাহিনীই পুরো ক্ষমতা নিয়ে নিত। তাই আওয়ামিলীগের বিএনপির কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে তারা ক্ষমতায় যাবার পর থেকেই বিএনপির প্রতি অতি অন্যায় আচরন শুরু করে, যার শেষ এখনও হয় নাই। তবে ইতিহাস সাক্ষি, এভাবে কোন দিনই বিএনপির মত জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলকে নিঃশেষ করা যাবেনা। তারা নিজেরাই আস্তে আস্তে নিঃশেষ হয়ে যাবে। যার শুরু নারায়গঞ্জের ঘটনার মাধ্যমে।সরকার যখন কোনো বাহিনীকে বেআইনী প্র্যাকটিসের হুকুম দেয়, তখন থেকেই বাহিনীগুলির মনজগতে বেআইনী প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অধিকারবোধ, ইচ্ছে ও প্রবণতা তৈরী হতে বাধ্য । মনে করে দেখুন গত দুইটি বছর সরকার বিরোধী আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধিদের বিচার সংশ্লিষ্ট জামাত-শিবির নিধনে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলিকে কীভাবে ব্যবহার করেছে এবং কত সংখ্যক মানুষ লঘু পাপে কিংবা বিনা পাপে বিনা বিচারে নৃশংস মৃত্যুদণ্ড পেয়েছে । কথায় কথায় দেখামাত্র গুলী চলেছে । বাড়ী-ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে । এই লেঃকঃ তারেক’কে ফেনীতে পাঠানা হয়েছিলো, সেখানে তিনি কী করেন নাই? উনি নির্বিচারে মানুষ মেরেছেন । এভাবেই বর্তমান সরকারের প্রতিষ্ঠা ও টিকি থাকা । কাজেই এই সরকারের পক্ষে কেনো মতেই সম্ভব নয় এইসব বাহিনীকে নিয়ণ্ত্রন করা, কারণ সেই নৈতিক ভিত্তি এই জনভিত্তিহীন সরকারের নেই এবং থাকতে পারে না । তার চাক্ষুষ প্রমাণ : ঘটনার বেশ কিছুদিন পূর্বে স্বরাষ্ট্র প্রতিমণ্ত্রী জানা সত্যেও উনি ব্যবস্থা নিতে পারেন নি এবং ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে খোদ প্রঃমণ্ত্রী জানার পরেও তিনিও কিছুই করতে পারেন নি । কী জানি হয়তো উনি করতে চানও নি ।যারা এতোদিন গনতন্ত্র (democracy) বলে বলে কান ঝালাপালা করেছে সেই সব লোক এখন Autocracy-বা বাকশাল কায়েমের জন্য ব্যকুল। যারা এতোদিন বিএনপি-এর সহিংসতা বলে বলে কান ঝালাপালা করেছে সেই সব লোক এখন কোথায় ? পুলিশ, র্যাব আর আওয়ামিলিগ একতরে যে সহিংসতা করছে তা চোখে পরছে না ? বরং কিছু মিডিয়া ও কিছু আওয়ামি বুদধিজিবি খুন, গুম, অপহরন, ভোটডাকাতি, আওয়ামি সহিংসতা তথা বাকশালী রাজতত কায়েমের অভিলাসকে সমরথন দিয়ে যাচছে। কোথায় আজ ব্য. আমিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, রেহমান সোবহান, ড আবুল বারাকাত, ড খলিকুজ্জামান, ভিসি আরেফিন সিদ্দিক, সাংবাদিক বুলবুল, সোহরাব হোসেন ও তাদের তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধের চেতনার বুদধিজিবি ।শুশীল সমাজের আনদোলনেও তারা নেই কেনো ? এতো বড় ঘটনার পর আপনাদের কোন ভুমিকা নেই কেনো ?আওয়ামী লীগ নীরব কারণ ওরা 'ধরা' খাইয়া গেছে।
যে নির্লজ্জ সরকারের নিজেরই ইজ্জত নেই , তার বাহিনির ইজ্জতের রশি আর কি কাজেইবা লাগবে।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....
দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...
তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর
আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন
Sajna

Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।