এক ছিলো এক মদারু। মদারু শব্দটা ক্যামন জানি হয়ে যাচ্ছে! মাতাল আর কি! অই লোকের দুইটাই কাজ, মদ খাওয়া আর বাসায় ফিরে বউ পিডানো। মদারুর ছিলো দুই ছেলে। সময় বয়ে যায়... মদারুর ছেলেরা বড় হয়, বিয়ে করে। সংসার হয়। মদারুও এক সময় বিদায় নেয় জীবন থেকে।
মদারুর বড় ছেলে হয় মদারুর কার্বন কপি। মদ খাওয়া আর বউ মারা ছাড়া আর কিছুই তাকে দিয়ে ঠিক মতো হয় না। তার সংসারে সুখ বলতে কিছু নেই।
অন্যদিকে ছোট ছেলে খুবই ভদ্র। মদ গাজাতে তার কোন দুর্বলতা নেই। হ্যাপি ফ্যামিলি।
ভিনদেশী এক কৌতুহলি এই দুই ভাইয়ের চারিত্রিক এমন পার্থক্যে খুবই বিচলিত হয়ে এর কারন অনুসন্ধানে নামে। সে দুই ভাইকেই একই প্রশ্ন করে, "আপনার এমন চারিত্রিক গঠনের কারন কি?"
বড় ছেলের উত্তর ছিলো, আমার বাবা এমনই ছিলো। তাই আমি এমন। রক্তের দোষ। বুঝলেন!
ছোট ছেলের উত্তর, আমার বাবা ছিলেন মাতাল, সংসারের কোন খেয়াল রাখে নি কখনই, মা কে বেধরক মারতো। বাবার কারনে আমাদের সংসারে কখনই শান্তি আসে নি। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই আমার বাবার দোষগুলো যেন কখনই আমার মধ্যে না আসে।
দেখার বিষয় হলো তারা দুই ভাই একই পরিবেশে বড় হলো, একই ঘটনা দেখে শিক্ষা নিলো। তবুও তাদের শিক্ষায় কতো ব্যাবধান। ঘটনা শুনে ভিনদেশী ভদ্রলোক কতোটা অবাক হয়েছিলো তা আমার জানা নেই, তবে আমি খুবই অবাক হয়েছি।
ঘটনা ঘটনার মতোই প্রবাহিত হবে। তবে সেই ঘটনা থেকে আমি কি শিক্ষা নিবো সেটা সত্যিই ঘটনার উপর নির্ভর করে না। আরেকটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ে গেল। বলে শেষ করে দিচ্ছি।
টমাস আলভা এডিসনের একজন সহকারি ছিলো। তো মি. এডিসন মসাই যখন তার ৯৯৯ তম বারেও বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাতে অক্ষম হলেন, সহকারি ভদ্রলোক মন্তব্য করেছিলো "আমরা ৯৯৯ বার ব্যার্থ হলাম।" আর এডিসনের জবাব ছিলো, " উহু! আমরা বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর ক্ষেত্রে ব্যার্থতার ৯৯৯ টি কারন আবিস্কার করেছি।"
মোরাল: দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে।
*** গল্প এবং ঘটনা কিঞ্চিৎ নিজের ভাষায় লিখা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
