একদিন একজন মাদ্রাসার শিক্ষকের নিকট একটি ঘটনা শুনেছি, যেটা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাইছি ।
একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ঢাকার তথাকথিত আধুনিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ৭-৮ বছরের একটি ছোট মেয়েকে বলেছেন, ”মা!
তুমি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।” এই
কালিমাটি বলতো?
সাথে সাথে সেই ছোট্ট মেয়েটি উত্তর দিল- ছিঃ ছিঃ আংকেল!
এটা তো আমাদের বাড়ীতে ভিক্ষা নিতে আসা ফকিরদের মুখের ভাষা।
এটা তো আব্বু- আম্মু কেউ কোনদিন বলেনি। আপনি যদি আমাকে কোন হিন্দী বা ইংরেজী গান বলতে বলেন,
তাহলে আমি বলতে পারব।
উল্লেখিত ঘটনাটির মধ্যে বর্তমান যুগের শিশু কিশোরদের চালচিত্র সুস্পষ্টভাবে ফুটে ঊটেছে।
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। ছোট শিশুরা যখন টিভিতে কাটাকাটি,
মারামারি,হানাহানি,নগ্ন-অশ্লীল দৃশ্য দেখে, তখন সেও
সেভাবে ফিল্মী স্টাইলে চলাফেরা করে। ফলে তার চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
আজকের কোমলমতি শিশুরাই তো আগামী দিনের জাতির পথপ্রদর্শক।
শিশুরা যখন রোড মডেল বা অনুসরণীয় হিসাবে চিত্রজগতের স্টারদের বেছে নেয়,
তখন তাদের কাছে আমরা ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারি না।
কারণ,চিত্রজগতের স্টাররা নিজেদের রূপযৌবন প্রদর্শন করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার চেষ্টা করে।
তাদের মানসিকতা হল ভোগবাদী মানসিকতা।
তাই অনুকরণপ্রিয় শিশুদের সামনে তাদের উদাহরণ পেশ করতে হবে যারা নির্যাতিত
মানুষকে রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সংগ্রাম করেছেন।
শিশুদের জানাতে হবে- তারেক বিন জিয়াদ, মুহাম্মদ বিন কাসিম, গাজী সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর বীরত্বগাথা ইতিহাস।
এসব বিরপুরুষের ইতিহাস তাদের সামনে উপস্থাপন করলে, তারা চিত্রজগতের ভোগবাদী নায়ককে তাদের রোড
মডেল স্বীকৃতি দিবে না আর বিপ্লবী কালিমাকে ফকিরের মুখের ভাষা বলতে পারবে না।
বরং তারাই চিত্রজগতের চরিত্রহীন স্টারদের প্রত্যাখান করবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



