somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিড়াল ও মানুষের বাচ্চা..এবং দুইটি হাদীস

০৭ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সিঁড়িকোঠায় একটা বিড়াল থাকতো।একবার বিড়ালটা বেশ কয়েকটা বাচ্চা বিয়ালো;বাচ্চাগুলো সারাদিন ট্যাঁট্যাঁ করে কাঁদে,অবিকল মানুষের বাচ্চার মতন স্বর।মা বিড়ালটা আমাদের খা ওয়ার সময় কার্নিশে অপেক্ষায় থাকে;মাছের কাঁটাটা,খাবারের এঁটোটা সযত্নেকুড়ায়ে নিয়ে যায়..বাচ্চাগুলোও মায়ের স্তনে আর এঁটো-কাঁটা খেয়ে কয়েকদিনেই দিব্যি পুষ্ট হয়ে ওঠে,ওদের কান্নার শব্দ আর শোনা যায়না..

কি আশ্চর্য!কয়েকদিন বাদেই আবার অবিকল ট্যাঁ ট্যাঁ কান্না শুনে একটু চমকে উঠলাম।আমাদের সীমানার ওপারেই কয়েকঘর বস্তি; জানলাম, সেখানেই নাকি এসেছে এক নবজাতক-"সুতীব্রচিৎকারে" তাই সে আমাদের জানাতে চায় তার পদার্পণের সংবাদ..(হায়রে অবোধ শিশু! আরেকটুবড় হলেই বুঝতা,তোমার জন্ম অথবা মৃত্যুর সংবাদে আমরা ভদ্্রলোক দের কিছুই আসে যায়না)..

মাসখানেক গত হয়ে গেল,'মানুষের বাচ্চা' টার ট্যাঁট্যাঁআওয়াজ আর থামেনা..থামবেই বা কি করে?অপুষ্ট মা'র মুখেও পথ্য নাই,বুকেও দুধ নাই-দুধের শিশু কি আর তা বুঝে?আস্তে আস্তেহয়তোবা চ্যাঁচানোর জোরটা ক্ষীণ হয়ে আসছিলো,আমার কানে অবশ্য ধরা পড়ে নাই..বস্তি থেকে তো কত রকম চেঁচামেচি ই কানে আসে-আমি তখন আস্তে করে স্টেরিও'র ভল্যুম বাড়ায় দিতাম..

তারপর একদিন আওয়াজটা একদম থেমে গেল।না,আমি নিজে থেকে উৎসাহী হয়ে খবর নিতে যাই নাই,শুনতে পেলাম যে-বাচ্চাটা নাকি পৃথিবীর মায়া কাটায়ে ফেলছে(সামনে না জানি আরো কত সাঙ্ঘাতিক মায়া অপেক্ষা করছিল!!)..কিভাবে মায়া কাটালো-অতদূর পর্যন্ত অবশ্য আমি আর খোঁজ নিতে যাই নাই।মারী ও মড়ক,এবং আরো কতভাবেই না এইসব ছোটলোক মানুষের বাচ্চারা পৃথিবীর মায়া কাটায়!!আমরা ভদ্্রলোকরা শুধু গান শুনি,গান গাই,কবিতা লিখি-এইভাবে পৃথিবীর মায়া বাড়াই..

বেচারা!! বিড়ালের বাচ্চাগুলো পর্যন্ত এঁটো-কাঁটা খেয়ে টিকে গেল,আর তুই কিনা মানুষের বাচ্চা হয়ে টেঁসে গেলি?

পাদটীকা:দুইটা হাদীস জানতাম( আমার জানায়ভুল ও থাকতে পারে..)
1."তোমাদের সামনে,পিছনে,ডানে,বাঁয়ে চল্লিশ ঘর পর্যন্ত তোমাদের প্রতিবেশী।" 2."যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে নিদ্্রা যায়,সে ব্যক্তি আমার উপর ঈমান আনে নাই।"

দোয়া করি,হাদীস দুইটা যেন স হীহ হাদীস না হয়!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ২:৫১
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ দাগের খিদা

লিখেছেন রাজসোহান, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৫৭



আমার দাদা মাটিতে টানা দাগ পার হতে পারতেন না।

কথাটা যত সহজে লিখে ফেললাম, ব্যাপারটা তত সহজ না। দড়ি পার হতেন। বাঁশ পার হতেন। ক্ষেতের আইল, হালের ফালে ওল্টানো মাটি, সাঁকো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদা কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মাপা যায় না...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬



একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদা কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মাপা যায় না...

বিউটি রাণী পালঃ ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকান জীবন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৪

গত সপ্তাহে এক আত্মীয়র বিয়েতে গিয়েছিলাম। কনে বাংলাদেশী বাবা মার আমেরিকায় জন্ম নেয়া বাঙালি, বর সাদা আমেরিকান। সমবয়সী, দুজনের বয়সই বাইশ বছরের মত। বর ইসলাম গ্রহণ করেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×