somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুর্ঘটনার দুর্যোগ বাংলাদেশে

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে অনেক দিন আগের কথা, আমার হিমেল নামের বন্ধুটির কণ্ঠস্বর তবুও অতীত দৃশ্যপট থেকে প্রায়ই তুলে এনে আবৃত্তি করি, যেহেতু তার অস্তিত্ব এখন আর বর্তমান নেই। এইচ, এস সি’র রেজাল্ট পেয়ে খুব স্বাভাবিক হাসি মাখা মুখ নিয়ে আমাকে এক সন্ধ্যায় জানিয়েছিলো, ”মাকে এখনো ফোন দেইনি বন্ধু, ভাবছি সরাসরি গ্রামে গিয়েই মাকে চমকে দিবো আর সুসংবাদটি জানাবো” । অতঃপর পরবর্তী সন্ধ্যায় জানতে পেলাম সুসংবাদটি আর পৌছাতে পারেনি আমার বন্ধু, সড়ক দুর্ঘটনা মায়ের মুখ দর্শনের আকুল ইচ্ছাটিকেও পরিণত করেছিলো মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাসে । ছেলে মৃত্যুর দুঃসংবাদ হয়তো পৌঁছে যাবে মায়ের কাছে কারো হাত ধরে ।

গবেষণায় দেখা গেছে বিগত দুর্নীতির মতো সড়ক দুর্ঘটনাতেও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন সারা বিশ্বে । পুলিশের হিসাবে প্রতি বছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্র বলছে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যাটি ১২ হাজার থেকে ২০ হাজারও হতে পারে।বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালের মধ্যেই দেশে দুর্ঘটনার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সংস্থার সড়ক নিরাপত্তা-বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০১৩-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির ১.৬ শতাংশ।
সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য ভাণ্ডার এবং ক্ষতির বিবেচনায় এ অতি ক্ষুদ্র বনর্ার২ । স্বজন হারানোর পরবর্তী ক্ষতিও দুর্দশার হিসেব হয়ত বিশ্বের কোন গবেষণা সংস্থাই দিতে পারবেনা ।এক এক ফোঁটা অশ্রু মানব উপলব্ধির কতটা খনিজ তা মূল্যায়ন করা অসম্ভব । যার দায়ভার কখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অথবা প্রশাসন নিতে এগিয়ে আসেনি, হয়তো সে স্পর্ধাও দেখাবেনা কখনো ।

দুর্ঘটনার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনা গবেষণা সেন্টার-এআরআই দেখেছে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা; অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ি চালানো; নির্দিষ্ট গতি-সীমা না মানা; মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য পরিবহন; গাড়ি চালানোর আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকা; বিপদজনকভাবে ওভারটেক করা; প্রতিযোগিতা করা, সামনের গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা; ত্রুটিপূর্ণভাবে গাড়ি চালানো; চালকের বদলে সহকারী দিয়ে গাড়ি চালানো; ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে অসচেতনভাবে গাড়ি চালানো; যথাসময়ে যথোপযুক্ত সঙ্কেত দিতে ব্যর্থতা; যথাযথ লেনে গাড়ি না চালানো; প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না নিয়ে অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় একটানা গাড়ি চালানো; নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো; মানসিক অস্থিরতা বা অতিরিক্ত চাপ ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো; দৈহিক অযোগ্যতা নিয়ে গাড়ি চালানো, শিক্ষার স্বল্পতা, পেশাগত জ্ঞানের অপর্যাপ্ততা ইত্যাদিই দায়ী বেশিরভাগর দুর্ঘটনা পেছনে।

দুর্ঘটনার কারণগুলো আমরা সূক্ষ্ম ভাষা এবং বর্ণনায় না জানলেও দৈনন্দিন জ্ঞানে আমাদের অজানা নয় । তবুও দুর্ঘটনা হচ্ছে যেহেতু কারণ জানাটাই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা এবং সচেতনতা।
জীবিকা নির্বাহের দায় দেখিয়ে আমরা কেউ ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিচ্ছি কেউ দিচ্ছি, ট্রাফিক সার্জেন্টকে ঘুষ দিয়ে দুর্ঘটনার কারণ বাহি বিষয়গুলো সাধিত করছি । এমনি করে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশাসন থেকে পথচারী পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী । অথচ আমরা একে অপরের প্রতি আঙুল দেখিয়ে নিজ স্বজন হারানোর পথটিকে করে রাখছি সুরক্ষিত ।

অধ্যাপক হাসিব বলেন, পরিসংখ্যান দেখলে বুঝা যায় দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ঈদে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এর অন্যতম কারণ মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অতিরিক্ত ট্রিপ চালানো। কোনো কোনো সময় চালকরা ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চালান। বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটে ভোরে বা রাতে

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশের চালক-পথচারী কেউই ঠিকমতো আইন মানেন না। আবার এই অপরাধের কোনো শাস্তিও হয় না।

বুয়েট পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাসিব মোহাম্মদ হাসান বলেন, বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পর এখন আর মামলা হয় না। কারণ, মামলা হলেও বিচার হয় না। তাই ভুক্তভোগীরা এই পথ মাড়াতে চান না।

পরিশেষে বলতে হয়, ঘর থেকে বেরুলেই আমরা প্রত্যেকেই যেন এক একটি হিমেল । তবে হিমেলের পরিণতি থেকে সুরক্ষা পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার এবং সেই সাথে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা আমাদের ব্যক্তিক সচেতনতার অন্যতম অংশ । এবং আমাদের একটাই কামনা “আমাদের ঘরে ফেরা হোক নিরাপদ ।”
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ২:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×