somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ছন্নছাড়া বেনজামিন আবির
আমি খুব সহজে মানুষকে ভালোবেসে ফেলি এবং তাদের খুব কাছে চলে আসি। যখন দেখি তারা আমার ভালোবাসার মর্ম বুঝেনা তখন ভাবি তারা আমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না।n.nআবার যখন দেখি কেউ আমাকে ভালোবাসে এবং আমি মনের অগোচরে তাদের কষ্ট দিয়ে ফেলি তখন ভাবি আমি কারো ভালোবাসা প

সহযাত্রী

১৭ ই মার্চ, ২০১৫ ভোর ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

#সহযাত্রী

অনেক দিন পর আমার শরীরের রক্তকনা গুলো হিম শীতল হয়ে জমাট বাধলো । মানুষের জীবনে বাস্তবতা যে কি গুরুত্ববহন করে তা আজ জানাতে পারলাম । সময়ের সাথে স্বপ্নগুলো চোখের পলকে কিভাবে মিশে যায় । আমি যেন তার রাজসাক্ষী ।

**

মনটা অনেক খারাপ । কিন্তু সব সময়ের মত না । অল্প সময়ে একজনের মানুষের সাথে পরিচয় হয় । যে মানুষটার সাথে ৫ দিন পাশাপাশি বেড এ কাটিয়েছি । সে মিষ্টি মানুষটা প্রচন্ড মিস করছি ।
*
*
এই তো কয়েক মাস আগে আমি সুস্থ একজন মানুষের তালিকায় ছিলাম । হঠাৎ করে নিজেকে ধীরে ধীরে অসুস্থ অনুভব করতে থাকি ।অসুস্থ হওয়ার পর মানষিক দিক থেকে ভেঙ্গে পরে ছিলাম । অনেক ডাক্তার দেখালাম কিন্তু কেউ রোগটা ধরতে পারেনি । অবশেষে এপোলো হসপিটালে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা করার পর ডাক্তার আমার বাবাকে বলল ব্রেইন ক্যানসার । ভালো হওয়ার চান্স ৫০% । খবরটা ফেসবুকে ছড়িয়ে পরতেই অনেকের অনেক কথা , মন্তব্য ও কেউ কেউ বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল । প্রথম প্রথম সবাই খোজ খবর নিত । কিন্তু আস্তে আস্তে সবাই ভুলে গেছে ।

**

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাই । মাউন্ট এলিজাবেথ এ এডমিট করা হয় । আমার বেড এর পাশে একজনকে আবিষ্কার করলাম । ছেলে সব সময় চুপচাপ থাকতো । মাঝে মাঝে দু একজন এসে তার সাথে দেখা করে যেত । একদিন না যেতেই তার সাথে বন্ধুত্ব করে ফেললাম । প্রতিদিন সারারাত জেগে কথা বলতাম জিসান ভাইয়ের সাথে । ছেলেটার নাম জিসান । একবছর হলো এম.বি .এ করে চাকুরী নামক সোনার হরিনের পেছনে ছুট ছিলেন । অবশেষে বাইংহাউজের খুব ভালো বেতনের একটা চাকুরী পেয়েছিলেন । কিন্তু ডাক্টার এর একটি রিপোটের্র জিসান ভাই জীবনের সব কিছু পাল্টে যায় ।
*
*
পর দিন ডাক্টার এর দেয়া টেষ্টগুলো করিয়ে যখন বেডে ফিরছিলাম । বেডে ঢুকতেই দেখলা পরীর মত একটা সুন্দরী মেয়ে জিসান ভাই এর হাত ধরে কান্না করছে । আমিতো অবাক !
আমি বেডে ঢুকতেই মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল । আমি নির্বাক হয়ে জিসান ভাই এর দিকে তাকিয়ে ছিলাম ।
লোকটার চোখে যেন ভালোবাসা এক জ্বলন্ত প্রদিপ দেখতে পেয়েছিলাম ।

**

দুই দিনের মাথা আমাদের সর্ম্পক আরো এগিয়ে যায় । তার সর্ম্পকে কিছু জানতে চেষ্ঠা করি । কিন্তু পারি না।
*
*
একদিন রাতে জিসান ভাই বলল আবির চল একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি । আমি বললাম কিভাবে সম্ভব । আপনার তো শরীর প্রচন্ড খারাপ । জিসান ভাই বলল যাবি কিনা বল ?
আমি কোন কথা না বলে জিসান ভাইয়ের পথ অনুসরন করতে লাগলাম । জিসান ভাই রিসিপসনে কি যেন বলল তাতেই কাজ হল । নিচে নেমে একটা দোকানে বসে কফি খেলাম । কফি খেতে খেতে জিসান ভাই বলল জানিস আবির মেয়েটা না আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে । আজ প্রায় ৬ বছর ধরে আমাদের রিলেশন । বন্ধুদের দেখছি গালফেন্ড এর সাথে কথা কাটাকাটি , ব্রেকআপ হয় । কিন্তু আমাদের মাঝে তা আজ পযর্ন্ত হয়নি । ভেবে ছিলাম কিছু দিনের মধ্যে ছোট্ট একটা বাসা নিবো তারপর মেয়েটাকে বিয়ে করবো । আমাদের ছোট একটা পরিবার হবে । মনে হয় আমার স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে ।

**

জিসান ভাইয়ের কথাগুলো শুনে খুব কান্না পাচ্ছিল । মনে মনে বলছিলাম আল্লাহ তুমি আমাকে নিয়ে যাও কিন্তু জিসান ভাইকে সুস্থ করে দাও । তারপর হসপিটালে ফিরে যাই । বাকি দু দিন জিসান ভাই সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারেছিলাম । আমাকেও ডাক্তার বললেন কেমোথেরাপি দিলে ভালো হয়ে যাবো । তাই ফিরে আসতে হয়েছিল । আসার আগে জিসান ভাই আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল । জিসান ভাইকে কথা দিয়েছিলাম । আবার আসলে তার সাথে দেখা করবো ।

**

ঈদের আগে ব্যবসার কাজে সিঙ্গাপুর গিয়ে ছিলাম । জিসান ভাই এর কথা মনে হতেই তার সাথে দেখা করতে ছুটে গিয়ে ছিলাম । কিন্তু মানুষটাকে আর খুজে পাইনি । হসপিটালে খোজ করে জানতে পারি জিসান ভাই হারিয়ে গেছে না ফেরার দেশে । মানুষটার স্বপ্ন ভরা চোখ দুটো এখনো আমার দু চোখের ভাসে । যেন মনে হয় এই তো সেদিন একই পথের সহযাত্রী ছিলাম . . . .

(উৎসর্গঃ জিসান ভাইকে )

লিখাঃ ছন্নছাড়া বেনজামিন আবির
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×