খালেদা জিয়ার ছেলেরা সৎ না হয়ে পারেন!?
২১ শে নভেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:১০ |
খালেদা জিয়া গত ১৯ তারিখে বরিশালের জনসভায় বললেন ‘আরেকবার ক্ষমতায় পাঠালে দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন’। উনি যে দেশের চেহারা পাল্টাবেন, নাকি ২০০১-২০০৬ এর মত নিজের পরিবারের চেহারা পাল্টাবেন সেটা বোঝা গেছে গতকাল তারেকের জন্মদিনের আলোচনা সভায় তার বক্তৃতায়। তিনি বললেন ‘তারেক জিয়া সৎ জীবন জাপন করতেন, কোন দূর্নীতির সাথে তারেকের সংশ্লিষ্টতা ছিলনা’। পুত্রের পক্ষে তার এই নির্লজ্জ সাফাইই বলে দেয় আরেকবার প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি তার পুত্রদের দেশে ফিরিয়ে এনে লুটপাটের বৈধতা দিয়ে দেশের রাজনীতিতে আবারো তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।
তারেক, কোকো সৎ এই গায়েবি কথা বোধ করি বিএনপি’র রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত এমন কেউও বিশ্বাস করবেনা। বরং তারাই সবচেয়ে ভাল বলতে পারবে কোন কাজের জন্য কত পার্সেন্ট, পদোন্নতির জন্য কত টাকা হাওয়া ভবনে জমা দিতে হয়েছে। খালেদা পুত্রদের দূর্নীতি আর অর্থ পাচারের বিষয়টি আজ আন্তর্জতিকভাবে স্বীকৃত। যক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলি তো সৎ তারেক রহমানের দূর্নীতির কথা তুলে বলেছিলেন 'বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর তারেক রহমানকে দেখতে চাইনা'। সিমেন্স কোম্পানীকে টেলিটকের কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে কোকো যে বিশাল অঙ্কের টাকা ঘূষ নিয়েছিল তার তদন্ত করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এফবিআই কর্মকর্তা লিন্ডা বাংলাদেশের কোর্টে এসে কোকোর দূর্নীতির প্রমান দিয়ে গেছেন। কোকোকে 'ঘুষ' হিসেবে দেওয়া ১০ মিলিয়ন ডলার জব্দ করেছে এফবিআই। মালয়শিয়া ও সিঙ্গাপুরের কোর্টে কোকোর বিচার হয়েছে।
ছেড়া গেঞ্জি আর ভাঙ্গা সুটকেস ছাড়া জিযাউর রহমান নাকি কিছুই রেখে যাননি, জিয়ার মৃত্যুর পরে খালেদা দুই পুত্রকে নিয়ে বিধবা ভাতার টাকায় চলতেন। তাহলে তারা ড্যান্ডি ডাইং, ৭-৮ খানা কোকো জাহাজ, খাম্বা কোম্পানি, চ্যানেল ওয়ান সহ নামে বেনামে আরো অনেক কোম্পানী কিভাবে করলেন? বলিউডের নায়িকা আমিশা প্যাটেলকে ঢাকায় রেখে দিনের পর দিন আমোদ ফূর্তি করার টাকা তারা কোথায় পেলেন? কোন চাকরি-বাকরি না করেই তারেক জিয়া তিন বছর ধরে গাড়ী-বাড়ি নিয়ে লন্ডনে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন কিসের টাকায়?
খাম্বা কোম্পানীর নামে দেশের বিদ্যুৎ খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তারেক-মামুনরা বিদ্যুৎ খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রাত্ব ব্যাংকগুলো থেকে নেয়া তারেকের সব ঋণের সুদ মাপ করা হয়েছে। ঢাকা শহরের সকল বিলবোর্ড দখল করে কোকোর কোম্পানী শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিশ্বের সেরা অর্থপাচারকারীদের তালিকায় কোকোর নাম এসেছে। গ্যাটকো, বড়পুকুরিয়া, না্ইকো দূর্নীতি বলে খ্যাত আন্তর্জাতিক কুকর্মের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে লক্ষ লক্ষ ডলার পকেটে পুরেছে পুরো পরিবার।
এহেন সুপুত্রদের সাফাই গাচ্ছেন খালেদা। করবেননাইবা কেন? এরাতো তারই প্রোডাকশন! তিনি নিজেই জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট গঠন করে এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, ২০০৭ সালে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাসায় পাওয়া গেছে হাজার পাউন্ডের ফ্রেঞ্চ শিফন, বিদেশী রঙীন পানীয়। যিনি নিজে একটি সরকারী বাড়ির লোভ ত্যাগ করতে পারেননা, নিজের করা মামলায় বাড়ি হারিয়ে প্রকাশ্যে হাউ-মাউ করে কাদেন তার পুত্ররা এমন সৎ! না হয়ে পারেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

