স্টাফ রিপোর্টার ॥ নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে রোম সংবিধির আওতাধীন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) রাষ্ট্রপক্ষসমূহের সম্মেলনে প্রত্যেক প্রতিনিধিই দীর্ঘ ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী বিচারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বর্তমান বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়াও পাকিস্তানী অপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই বিচারের মাধ্যমেই দেরিতে হলেও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের নিজস্ব আইন ও ট্রাইব্যুনালে স্বাধীন নিরপেক্ষভাবে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নানান ধরনের বিভ্রান্তির জাল ছড়িয়ে আসলে সুবিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল) এ কেএম সাইফুল ইসলাম এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, সম্মেলনে ১১তম অধিবেশনে সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে। এছাড়া বিচারকদের কাছে টোবি ক্যাডম্যানের চিঠিসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। সভাস্থলেই আইসিএসএফ সদস্য নিঝুম মজুমদার তুলে ধরেন সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী মূলত প্রায় ৯ মাস আগেই নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাকে খুঁজে না পাবার ব্যাপারে থানায় জিডি করেন তাঁরই মেয়ে মনিকা রানী ম-ল (জিডি নম্বর -৭১৩)। অথচ যখন প্রসিকিউশনের এই সাক্ষীকে খোঁজা হচ্ছিল তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীদের হেফাজতে এই সাক্ষী ছিল। এমন তথ্যে উপস্থিত সকলেই বিস্মিত হন। এই সাক্ষী নিখোঁজের ব্যাপারটি যে বিচার ব্যবস্থাকে নষ্ট করার একটি অপকৌশলও হতে পারে। সে ব্যাপারেও সেখানে ব্যাপক আলোচিত হয়। এ বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী ও তাঁদের প্রতিনিধিরা কোন বক্তব্য দেননি।
প্রসিকিউটর বলেন, কিছু কিছু খুঁটিনাটি উপাদানের কথা বলতে গিয়ে টোবি ক্যাডম্যান বিদেশী আইনজীবীদের এই বিচারে আসার পক্ষে দাবি তুলে ধরেন। বর্তমান আইনকে রোম স্ট্যাটিউটের আদলে পাল্টে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই দাবি তোলেন ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস বার কাউন্সিল মানবাধিকার কমিটির প্রতিনিধি সোনা জলি। এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম তাদের বুঝিয়ে বলেন, কার্যবিধিতে স্পষ্ট বলা রয়েছে বিদেশী পরামর্শকদের কথা। কিন্তু যদি বার কাউন্সিল অনুমতি না দেয় তাহলে ট্রাইব্যুনালের কিছু করার নেই। এছাড়াও তাদের বোঝানো হয় বাংলাদেশে বিদেশী আইনজীবী প্র্যাকটিস করতে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ ছাড়া কার্যবিধির বিধানটি (বিধি ৪২) মূলত বিচারকগণই প্রণয়ন করেছেন। আর অন্যদিকে বার কাউন্সিলের মূল নিষেধাজ্ঞাটি সংসদের আইন দ্বারা প্রণীত। সুতরাং বিচারকদের তৈরি করা বিধিতে যাই লেখা হোক না কেন তা সংসদ প্রণীত আইন অতিক্রম করার ক্ষমতা নিশ্চয়ই রাখে না। এ সব উত্তরের পরে টোবি ক্যাডম্যান বুঝতে পেরেছেন এবং মাথা নেড়েছেন। পরবর্তীতে ক্যাডম্যান এ বিষয়ে আর কিছু বলেনি।
ঐ হেগ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আসামি পক্ষে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ব্যারিস্টার টোবি ক্যাডম্যান (তাঁর দাবি অনুযায়ী) ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস বার কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিটির প্রতিনিধি মিস সোনা জলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন, ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল জাস্টিসের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ডক্টর কেল এন্ডারসন, যুগোসøাভিয়া ট্রায়ালের প্রসিকিউটর মিস স্যলি, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর গ্রেগর গাই স্মিথ এবং রোম স্ট্যাটিউট প্রণেতা এনিড এডলার। প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম তাঁদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পর্কে সব কিছু বুঝিয়ে দেন। এতে করে প্রতিনিধিদের মাঝে যে দোদুল্যমান অবস্থান ছিল তা দূর হয়েছে। সোমবার সংবাদ সমেম্মলনে উপস্থিত ছিলেন চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুসহ অন্য প্রসিকিউটরবৃন্দ। জনকণ্ঠ, ২৭।১১।২০১২
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

