somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আওয়ামী লীগের মিছিল: থামানো যাচ্ছে না

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর আবার আপনাদেরে মাঝে ফিরলাম, পুরোপুরি সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।

আওয়ামী লীগের মিছিল: থামানো যাচ্ছে না, বরং প্রতিদিন বড় হচ্ছে


রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল—যেখানেই চোখ ফেরানো যায়, আওয়ামী লীগের মিছিলের ঢল। বিরোধী পক্ষ যতই চেষ্টা করুক, কোনোভাবেই এই মিছিলকে থামানো যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই মিছিলগুলো আরও বড় হচ্ছে, আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

কেন এই মিছিল থামানো যাচ্ছে না?
এখানে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—
দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শক্তি:
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত তাদের সাংগঠনিক কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে একটি মিছিল সফলভাবে দমন করতে হলে প্রথমে এর ভিত্তিকে দুর্বল করতে হতো—যা এখনো সম্ভব হয়নি।

নেতৃত্বের দৃঢ়তা:
দলীয় প্রধানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বেশ কিছু বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছে। নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা হলো, “পিছু হটার প্রশ্নই আসে না।” এই বার্তা তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

বিরোধী পক্ষের দুর্বলতা:
বিরোধী দলগুলো এখনো সুসংগঠিত হতে পারেনি। তাদের ভেতরে নানা মতপার্থক্য, অনৈক্য এবং অনিশ্চিত কৌশল আওয়ামী লীগের জন্য সুবিধা তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতিরোধ গড়তে না পেরে শুধুই সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকছে।

সরকারি মেশিনারির নিয়ন্ত্রণ:
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তাদের মিছিল তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। বিরোধীরা যখন মিছিল করতে যায়, তখন নানা বাধার মুখে পড়ে, কিন্তু আওয়ামী লীগের মিছিলে সেই বাধা কার্যত দেখা যায় না।

প্রতিদিন বড় হওয়ার কারণ
প্রথমদিকে অনেকেই ভেবেছিলেন আওয়ামী লীগের মিছিলগুলো সময়ের সঙ্গে ক্ষীণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো।

জনগণের ভয়ের রাজনীতি:
রাজপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলে সাধারণ মানুষও ধীরে ধীরে জয়ী পক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়।

পেইড অ্যাক্টিভিজম এবং প্রণোদনা:
অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া এবং এমনকি নগদ অর্থ দিয়ে সাধারণ মানুষকে মিছিলে আনা হচ্ছে।

মিডিয়া কাভারেজ:
টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিটি মিছিলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, যা একটি “মানসিক তরঙ্গ” তৈরি করছে।

সামনের দিনগুলোতে কী হতে পারে

যদি বিরোধী দলগুলো দ্রুত নতুন কৌশল না নেয়, তবে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঢল আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। এতে কয়েকটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে—

১. রাজপথে একচ্ছত্র আধিপত্য: বিরোধী পক্ষের রাজপথ কার্যত দখল হয়ে যাবে।

১. ভোটের মাঠে প্রভাব: ভোটের আগে শক্তিশালী মিছিল ক্ষমতার বার্তা দেয়, যা ভোটারদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করে।

৩. হিংসা-সংঘাত বৃদ্ধি: মিছিল যত বড় হবে, সংঘর্ষের সম্ভাবনাও তত বাড়বে।

শেষ কথা
আওয়ামী লীগের মিছিলের এই অপ্রতিরোধ্য ধারা থামাতে বিরোধীদের শুধু অভিযোগ করলেই চলবে না। তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নতুন কৌশল গ্রহণ করা এবং জনমানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

রাজপথের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত সংখ্যার খেলা। আর এখন সেই খেলায় আওয়ামী লীগ প্রতিদিনই নিজের সংখ্যা বাড়াচ্ছে।আওয়ামী লীগের মিছিল: থামানো যাচ্ছে না, বরং প্রতিদিন বড় হচ্ছে।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:২৭
১২টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্কাইভ থেকে: ঈশ্বর ও ভাঁড়

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১০




বিরাট কিছু চাইনি। পরিপাটি দেয়ালে আচানক লেগেছিলো একরত্তি দাগ। কোনও ঐশী বলে মুছে যেতো যদি—ফিরে পেতাম নিখুঁত দেয়াল। তাতে কী মহাভারত অশুদ্ধ হতো কার! (সে দাগ রয়ে গেছে!)

পাখিদের মতো উড়বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×