somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাষ্ট্র যখন হত্যার দর্শক

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাষ্ট্র যখন হত্যার দর্শক
দায়হীন সরকারের শাসনে বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে?


দিপু চন্দ্র দাস মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন—
“আমি নবীকে নিয়ে কিছু বলিনি, আমাকে মারবেন না।”
রাষ্ট্র তখন কোথায় ছিল?

আগুনে পুড়তে পুড়তে ছোট্ট আয়েশা চিৎকার করেছিল—
“আব্বু আমাকে নাও।”
সেই আর্তনাদ কি রাষ্ট্র শোনেনি?

আর শরীফ ওসমান হাদি—প্রকাশ্য রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকলেন, মাথার ভেতর ঢুকে যাওয়া বুলেট নিয়ে। তিনি জানতেন, তাকে মারা হতে পারে। তিনি বলেও গিয়েছিলেন। তারপরও রাষ্ট্র তাকে নিরাপত্তা দেয়নি। কারণ এই রাষ্ট্র এখন আর নাগরিক রক্ষার রাষ্ট্র নয়—এটি ক্ষমতাসীনদের সুবিধা রক্ষার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

এই তিনটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এগুলো কোনো “দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা”ও নয়। এগুলো একটি ব্যর্থ, দায়িত্বহীন ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বাভাবিক ফল।

অন্তর্বর্তী সরকার ১৬ মাস ধরে ক্ষমতায়। এই সময়ে রাষ্ট্র কি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছে?
উত্তর এক শব্দে—না।

খুন হয়, পুড়িয়ে মারা হয়, প্রকাশ্যে গুলি চলে—আর সরকার বিবৃতি দেয়। তদন্ত কমিটি হয়। ফাইল ঘোরে। অপরাধীরা ঘুরে বেড়ায়। এটিই এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রচরিত্র।

ক্ষমতার রাজনীতি, নাগরিকের মৃত্যু
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বাংলাদেশ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে—
ভোটাধিকার নেই,
বিচার নেই,
নিরাপত্তা নেই,
জবাবদিহি নেই।

সংসদ নির্বাক, প্রশাসন দলীয় অনুগত, আইন শক্তিশালীদের ঢাল। নাগরিক অধিকার এখন আর সাংবিধানিক অধিকার নয়—রাষ্ট্রের করুণায় পাওয়া সাময়িক সুবিধা।

২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এই কারণেই হয়েছিল। মানুষ আর ভয় নিয়ে বাঁচতে চায়নি। তারা রাজপথে নেমেছিল রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাতে। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর কী বদলেছে?

সরকার বদলেছে,
কিন্তু শাসনের দর্শন বদলায়নি।
ক্ষমতার ভাষা বদলায়নি।
রাষ্ট্রের ঔদ্ধত্য অক্ষুণ্ন আছে।

রাষ্ট্র ব্যর্থ, তাই মানুষ তাকিয়ে আছে
এই শূন্যতা থেকেই আজ জনগণের দৃষ্টি তারেক রহমানের দিকে। এটি কোনো দলীয় আবেগ নয়। এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ব্যর্থতার পর জন্ম নেওয়া এক ধরনের শেষ আশার প্রতীক্ষা।

মানুষ চায় এমন নেতৃত্ব—
যে নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানাবে না,
ন্যায়বিচারকে প্রতিশোধে পরিণত করবে না,
রাষ্ট্রকে দলের সম্পত্তি ভাববে না।

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ২০১৮ সালে যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তা আজ আরও প্রাসঙ্গিক। তারেক রহমানের সামনে পথ কণ্টকময়—চারপাশে সুবিধাবাদী, তোষামোদকারী, ক্ষমতালোভী মানুষ। তাকে বাঁচতে হবে নিজের বিবেক দিয়ে, দলের নয়—রাষ্ট্রের স্বার্থে।

জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি না হলে এই দেশ বাঁচবে না
শ্রমিক আজ নিরাপত্তাহীন।
কৃষক ন্যায্য দাম পায় না।
মধ্যবিত্ত নিঃশেষ।
মূল্যস্ফীতি মানুষের শ্বাসরোধ করছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিলাসে পরিণত হয়েছে।
নারী, শিশু, সংখ্যালঘু—কেউই নিরাপদ নয়।

এই বাস্তবতায় “সবার বাংলাদেশ” কোনো স্লোগান হতে পারে না—এটি হতে হবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ন্যূনতম শর্ত।

কিন্তু তার জন্য আগে দরকার—
আইনের শাসন,
বহুদলীয় গণতন্ত্র,
জবাবদিহিমূলক সরকার।

আর কত দিপু, কত আয়েশা, কত হাদি?
আমরা আর কোনো দিপুকে পুড়ে মরতে দেখতে চাই না।
আর কোনো আয়েশার কান্না শুনতে চাই না।
আর কোনো হাদির রক্তে রাজপথ রাঙাতে চাই না।

আমরা চাই এমন রাষ্ট্র—
যেখানে আইন দুর্বলের আশ্রয়,
শক্তিশালীর ঢাল নয়।

এই দাবি কোনো অলৌকিক কিছুর নয়।
এটি নাগরিকের ন্যূনতম অধিকার।

রাষ্ট্র যদি আবার ব্যর্থ হয়—
জনগণ আবার কথা বলবে।
ইতিহাস তার সাক্ষী।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:২৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরানকে হারানো পসিবল না

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০

সবাই বলতাছে
-ইরানের কাছে কত মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আছে??
-ইরান কত দিন যুদ্ধ চালাতে পরাবে??
- কে আগে টায়ার্ড হবে???
ট্যাকা কম, অর্থনীতি ভাঙ্গা, মিত্র দেশ নাই, চিকিৎসা নাই...
but..

মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর ইন্টারসেপ্টর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬



ইরানের মাটি পানি ও আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই অনুকূল পরিবেশ। বাংলাদেশের তুলনায় ইরানের সমতল ভূমি কম তারপরও ইরানে গম উচ্চ ফলন হয়। ভোজ্য তৈল জাত শষ্য উচ্চ ফলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধোলাই-৭১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



মধ্যপ্রাচ্যে আছি। দেশে ফেরার টিকেট কাটা ছিল ২ তারিখে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধের দামামা।আমি আরবি বুঝিনা। এয়ারপোর্টে কাউকে ইংরেজিতে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে ''খালাস খালাস'' মাফি মাফি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিলে কাজ হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৩


সম্প্রতি শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'জিহাদের' ডাক দেওয়া হয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব রক্ষার দোহাই দিয়ে এই আহ্বান জানানো হলেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

হা হা রিয়্যাক্ট না করে কেউ যাবেন না

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই লোকটা বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের ধ্বংস চেয়ে আসছে, তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করার মত ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়ে আসছে; অথচ যুদ্ধ শুরুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×