
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনা নিয়ে আলোচনা চলছে, সরকার বলছে তারা ট্রাভেল পাশ দিবে না। এ নিয়ে একটি পক্ষ বলছে, প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে, তাই ভারত বাধ্য। চুক্তির পুরো চিত্রটা কিন্তু একটু আলাদা।
প্রথম কথা, এটি প্রত্যর্পণ চুক্তি, যা নিয়ে অনেকে "বন্দি বিনিময়" বলে ভুল পরিভাষা ব্যবহার করছেন। দুই দেশ চুক্তিটি স্বাক্ষর করে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনাই। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত পেরিয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের মোকাবিলা।
দ্বিতীয় কথা, এই চুক্তিতে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি প্রত্যাখ্যানের পথও খোলা আছে। অপরাধ রাজনৈতিক প্রকৃতির হলে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। অভিযোগ সরল বিশ্বাসে করা না হলে, বা প্রত্যর্পণ অন্যায্য ও পীড়নমূলক হলে, সেটাও নাকচের কারণ হতে পারে। ভারত নিজেই জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তার আদালত। ঢাকার অনুরোধ এলেই ফেরত দিতে হবে, এমন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই।
তৃতীয় কথা, বেনজীর আহমেদের উদাহরণ। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে ১২ জুন তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আবার তিনি জামিনও পেয়েছেন। সরকার এখনো কূটনৈতিক পথে তাঁকে ফেরত আনার চেষ্টাই করছে। যেখানে গ্রেপ্তার সত্ত্বেও একজনকে ফেরত আনা যায়নি, সেখানে ভারতে আশ্রয়ে থাকা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পাওয়া মানুষকে ফেরত পাওয়ার আশা কতটা বাস্তবসম্মত নয়ই বরঞ্চ হাস্যকর, এ প্রশ্ন উঠবেই।
চতুর্থ কথা, ট্রাভেল পাসের প্রশ্ন। হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তিনি নিজে দেশে ফিরতে চাইলে সরকারের উচিত ট্রাভেল পাস দেওয়া, এটা সমর্থকদের যুক্তি। বিচারের মুখোমুখি করাই যদি উদ্দেশ্য হয়, তবে ফেরার পথ খুলে দেওয়াই স্বাভাবিক।নয়কি? একদিকে প্রত্যর্পণের চাপ দেওয়া, অন্যদিকে ফেরার ন্যূনতম নথি বা সুযোগ না দেওয়া একসঙ্গে চলে কি।? আরও মনে করিয়ে দিই, আওয়ামী লীগ আমলে লন্ডনে থাকা তারেক রহমানকে ফেরত চাওয়া হয়েছিল, আর ব্রিটিশ সরকার তা দেয়নি। আজ তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী।
অন্য পক্ষের কথাও শোনা দরকার। সরকারের বক্তব্য, ভারত ফেরত না দিলে তা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হবে।কেন? এই ব্যতিক্রম হত্যা ও হত্যায় প্ররোচনার মতো অভিযোগে প্রযোজ্য নয়। মৃত্যুদণ্ড নিয়েও এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চুক্তিতে মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থাকলেই ফেরত দেওয়া যাবে না, এমন কথা লেখা নেই। আর ট্রাভেল পাস দিয়ে ফেরার পর আইনি প্রক্রিয়া চলবে, এটাই সরকারের অবস্থান হওয়া দরকার।
শেষ কথা: চুক্তি আছে, প্রত্যাখ্যানের ধারাও আছে। শেষ পর্যন্ত আইনি ব্যাখ্যা, ভারতের আদালত ও কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশই ঠিক করবে কী হবে। ট্রাইব্যুনালের ন্যায্যতা নিয়ে মতভেদ আছে, ভারতের সিদ্ধান্তও এখনো অনিশ্চিত। তাই স্লোগান বা অজুহাতে নয়, আইন আর তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিতর্ক হওয়া উচিত।
ফেরার পথ খোলা না রেখে ফেরত চাওয়া, এ কেমন যুক্তি?"
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




