*** সাইকেল নিয়ে ছোটবেলায় বেশ ফ্যান্টাসীতে ভুগতাম আমরা দুই ভাই। আমাদের বাড়ীতে আগত ফুফাতো, মামাতো ও খালাতো ভাইদের সাথে প্রায়শই বাই-সাইকেল থাকত। কখন সা্ইকেলের চাবি পাব আর সাইকেল চালাব এই চিন্তায় পেরেশান হতাম আমরা। নাবিস্কো চকলেট কিংবা সল্টটেস্ট বিস্কুট কোন কিছুই সাইকেল চালানোর ইচ্ছাকে নিবৃত্ত করতে পারত না। তবে আমরা ছোট বলে সাইকেলের চাবী দেওয়া তো দুরের কথা, সাইকেল ধরে দেখাও বারন ছিল।
*** তবে এ সময় কাজিনরা প্রায়শই আমাকে নিয়ে সাইকেলে ঘুরতেন। বিশেষ করে কেরামত ভাই, রুস্তুম ভাই, নেয়ামত বেয়াই ও দেলোয়ার মামা আমাকে খুবই স্নেহ করতেন।তখন এতটাই ছোট ছিলাম এবং সাইকেলে উঠায় এতটাই উৎফুল্ল থাকতাম যে মাঝে মাঝে বেখেয়ালে আমার পা চাকার ভিতরে চলে যেত। এরকম কয়েক বারই হয়েছে চাকার স্পোকে ঘষা খেয়ে পায়ের ছাল উঠে গিয়েছিল যার স্বাক্ষী আজও বহন করে চলছি।
*** ক্লাস থ্রিতে ওঠার পর একটু প্রমোশন হল, এখন সাইকেল ধরে দেখা যাবে, ইচ্ছা করলে ঠেলা যাবে, তবে কিছুতেই ফেলে দেওয়া যাবে না এই সতর্ক বানী মাথায় নিয়েই বড়দের সাইকেল ঠেলা শুরু করলাম। বড় ভাই ততদিনে স্থানীয় ফুফাতো ভাইয়ের গ্যারেজ থেকে সাইকেল ভাড়ায় নিয়ে চালানো শিখে ফেলেছে।
*** আমি তখনও সাইকেল ঠেলে যাচ্ছি। বড়দের সাইকেল কি করব? ঠেলেই যেটুকু শান্তি। যাক এ অবস্থার পরিবর্তন হল ভাইয়ার সহযোগীতায় সাইকেলের ভিতর দিয়ে পা ঢুকিয়ে দিয়ে বাম হাতে হ্যান্ডেল ধরে সাইকেল চালানো শিখে ফেললাম। আমাকে আর পায় কে? এভাবে চলল কিছুদিন। পরবর্তীতে ফুফাতো ভাইয়ের গ্যারেজ থেকে ঘন্টা হিসেবে সাইকেল ভাড়া নিয়ে চালাতাম। ফাইভে পড়তে পড়তেই ছোট বড়, মাঝারী সব সাইকেল চালানো শিখে ফেললাম। তবে এখনকার বাচ্চারা পারিবারিক আনুকুল্যে আরো আগেই সাইকেল চালানো শেখে।
*** আমার ছেলেও মনে হয় সাইকেল প্রীতি উত্তারাধীকার সূত্রে পেয়েছে। সাইকেল দেখলেই হয় আর মোটর সাইকেলের শব্দ শুনলেই হয়, ওঠার জন্য উথাল পাথাল শুরু হয়ে যায় তার।
*** সত্যি বলতে কি, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারনেই নিজের জন্য সাইকেল কেনা হয় নি। ভালো রেজাল্টের পুরষ্কার স্বরুপ ভাতৃস্থানীয় দুইজন সাইকেল গিফট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর আমার সাইকেল পাওয়া হয় নি।
27-06-17, পাবনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


