somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময় কাটানো সংবাদ

০৭ ই মে, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(১)প্রথম রোজা।
দর্শক, জমে উঠেছে চকবাজারের ইফতারি আয়োজন। সেখানকার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চলে যাচ্ছি আমাদের রিপোর্টার "চর্বিত চর্বন" এর কাছে।
-চর্বিত চর্বন আমাকে শুনতে পাচ্ছেন?
-(একটু ভাবগাম্ভীর্যের সহিত কানে হেডফোন লাগিয়ে মুখ ভাঁজ করে) জ্বী "একঘেঁয়ে একশেষ " আমি শুনতে পাচ্ছি। একঘেঁয়ে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন সারিসারি দোকান।এই দেখুন শাহী জিলাপি অনেক বড়,এখানে পেঁয়াজু চপ,কাবাব,হালিম সহ সব ইফতারি সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।ইফতার সামগ্রী বাদে অন্য কিছু কেন পাওয়া যাচ্ছেনা সেটা নিয়ে সাংবাদিক "খুঁতখুঁতে খোঁচাখুঁচি"র ৭ পর্বের ধারাবাহিকের প্রথম পর্ব দেখবেন পরবর্তী সংবাদে।যাইহোক জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ইফতার বাজার..."

(২)দশম রোজা।
দর্শক, জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। কেনাকাটার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চলে যাচ্ছি হুজুগ শপিং কমপ্লেক্স এ। সেখানে আছে আমাদের রিপোর্টার "অতিউৎসাহী উদ্ভট"।সরাসরি যাচ্ছি তার কাছে,
-উদ্ভট আমায় শুনতে পাচ্ছেন?
-হ্যাঁ অদ্ভুত উপদ্রব শুনতে পাচ্ছি"।
-উদ্ভট ঈদ কেনাকাটার সর্বশেষ জানান দর্শকদের
-জ্বী উপদ্রব, দেখতে পাচ্ছেন এই হুজুগ কমপ্লেক্সে চরম ভীড়,প্রচুর মানুষ আসছে। খবর নিয়ে জানা গেছে মার্কেটে মানুষ কেনাকাটাই করতে আসে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রতিবারের মত ছেলেরা এখনো শার্ট-প্যান্ট-পাঞ্জাবী ই কিনছে,মেয়েরা থ্রিপিস-শাড়ি-প্রসধনী ই কিনছে,এর ব্যতিক্রম হয়নি। যদি হয় তাহলে পরবর্তি সংবাদে আমি আবার হাজির হবো। যাইহোক এই যে এক নারী কে পাওয়া গেছে,উনি অনেক কেনাকাটা করেছেন।
-আপু কি কি কিনলেন?
-হুম,আমি জামা,পায়জামা,ওড়না,শাড়ী,লিপস্টিক,নেইলপলিশ,জুতা,তারপরে...
-না না ঠিক আছে আপু বুঝতে পেরেছি।আপনাকে ধন্যবাদ।তো অদ্ভুত এই ছিলো হুজুগ কমপ্লেক্স থেকে ঈদ কেনাকাটার সর্বশেষ খবর"

(৩) বিশ রোজা।
দর্শক ঈদ উপলক্ষ্যে অগ্রিম টিকেট ছেড়েছে বাস-ট্রেন। স্টেশনগুলোয় অগ্রীম টিকেটের জন্য উপচেপড়া ভীড়। আমাদের রিপোর্টার "খবর বানাই" আছেন কমলাপুর রেলস্টেশনে। সরাসরি যাচ্ছি তার কাছে।
-বানাই, আপনি আমাকে শুনতে পান? কি অবস্থা কমলাপুরে?
-জ্বী 'হুদাই জিগায়' আমি শুনতে পাচ্ছি, হুদাই আপনি দেখতে পাচ্ছেন অনেক মানুষ এখানে,রাত থেকে বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে,টিকেটের আশায়।
-আচ্ছা ভাই আপনি এই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
-আজব তো? অগ্রিম টিকেট ছাড়লে রেলস্টেশনে মানুষ কেন লাইনে দাঁড়ায়? আপনি জানেন না? রাত জাইগা পায়ে খাড়ায় আছি,আপনি মিয়া ফাইজলামী করেন?
-না মানে ঠিক আছে ঠিক আছে বুঝতে পেরেছি..."।

এই যে আমরা দেখতে পাচ্ছি এক ভাই টিকেট পেয়েছেন,উনি খুব খুশি।
-আচ্ছা ভাই আপনি এত খুশি কেন?
- মানে? কষ্ট করে লাইনে দাঁড়ায়া সোনার হরিণ টিকেট পাইলে মানুষ খুশি না হয়ে কাঁদবে?
-আচ্ছা আচ্ছা জ্বী বুঝতে পেরেছি...।
তো হুদাই,এই ছিলো কমলাপুর স্টেশন থেকে সর্বশেষ।

(৪) আটাশ রোজা।
দর্শক,দুদিন বাদেই ঈদ। বাড়ি ফিরছে মানুষ। রেল বাস আর লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। বাড়ি ফেরার সবশেষ খবর জানতে আমরা যাচ্ছি কমলাপুর রেলস্টেশনে।
সেখানে আছেন রিপোর্টার "কুমিরের কেচ্ছা"। -"কেচ্ছা,নাড়ীর টানে বাড়ি ফেরার গল্পটা দেখান"।
-"জ্বী গল্পিতা,আপনি দেখতে পাচ্ছে অনেক মানুষ,সবাই বাড়ি ফিরতে স্টেশনে ভীড় জমিয়েছে।আমাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিক খবর নিয়ে জানতে পেরেছেন সবাই ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছে। এই এখানে ট্রেনের জানালার পাশে বাচ্চাসহ এক আপুকে পাওয়া গেছে,
-আপু কোথায় যাচ্ছেন?
-কোথায় মানে? ২৮ রোজায় পোঁটলাপুঁটলী বেঁধে,বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে মানুষ কই যায়?
-জানিইতো ঈদে বাসায় যাচ্ছেন,একটু নিজের মুখে বললে কি হয়? খবর বানাচ্ছি বোঝেন না?
আচ্ছা এখানে আরেক ভাইকে ভাইকে পাওয়া গেছে,
-ভাই বাড়ি ফিরছেন?
-হ ভাই,বউ আছে বাসায়। "নারী"র টানে বাড়ি যাই।
-অনুভূতি কেমন?
-চরম,ওসাম,সুপার,অহ। এ ভাই, এই খবরটা কয়টার সংবাদে দেখাবে রে ভাই?
-(মনে মনে) ধুর শালা।
"তো গল্পিতা এই ছিলো বাড়ি ফেরার সর্বশেষ অবস্থা।"
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×