somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঠিক আছে-আমরা আর প্রতিবাদ করবো না!

১৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

==>> জানি এখন যে বালক ক'দিন পর যুবক হবে, সে ইভ টিজিং করবেই। সুতরাং আমরা ইভ টিজিংয়ের বিরুদ্ধে কিছু বলবো না।

==>> আমরা জানি যে, বর্তমান সরকার তার মেয়াদকালে চাহিদামতো বিদ্যুতের যোগান দিতে পারবে না, সুতরাং আমরা বিদ্যুত সংকট নিয়ে কিছুই বলবো না।

==>> আমেরিকার সাথে তৃতীয় বিশ্ব কখনোই যুদ্ধে টিকবে না। সুতরাং আমরা অন্যায় যুদ্ধ নিয়ে কিছুই বলবো না।

এরকম আরো অনেক কিছু নিয়েই কিছু বলবো না। সহ্য শক্তি বাড়িয়ে নিবো। যার জন্য আন্দোলন করবো, কাংখিত সময়ে তা যদি আদায় না হয় তবে সে আন্দোলন করে আর লাভ কি? কোন দরকার নেই।

বলে রাখি লেখাটি ব্লগের জন্য লেখা। কোন মন্তব্য সংকলনের জন্য নয়। টিপাইমুখী বাঁধ নিয়ে অ-ভিজ্ঞ আর বিজ্ঞ ব্লগারদের এ ক'দিনের দরকষাকষির উপর সামান্য দৃষ্টি রাখলে দেখি অলরেডি পক্ষে বিপক্ষে একাধিক দল বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব সৃষ্টি হয়ে গেছে। এটা খুবই স্বাভাবিক। আমাদের পিতাদিগকের বীর্য বড়ই বজ্জাত শ্রেণীর।

টিপাইমুখী বাঁধ নিয়ে মোটামুটি ৩ মতের পাবলিকের দেখা মিলে।

১। কোনমতেই টিপাইমুখী বাঁধের বিষয়ে ছাড় দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চলমান আন্দোলনে যেন যুদ্ধাপরাধী তথা ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো সম্পৃক্ত হতে না পারে।

২। কোনমতেই টিপাইমুখী বাঁধের বিষয়ে ছাড় দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চলমান আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে জামাত শিবিরসহ ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

৩। বাংলাদেশের জনগনের আন্দোলনের উপর কিন্তু ভারতের বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা নির্ভর করে না। তারা তাদের বাঁধ নির্মাণ করবেই। কারণ তারা অবশ্যই তাদের রাষ্ট্রের পক্ষেই কাজ করবে। সুতরাং অযথা প্রতিবাদ প্রতিবাদ করে মৌলবাদীদের সক্রিয় করা যাবে না।


==>>
১ম থিওরির বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকার কথা নয়। এটিই আমাদের রাষ্ট্রের পক্ষে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। এ প্রতিবাদে সর্বস্তরের জনগনের সম্পৃক্ত না হলেও চলবে। এক টিপাইমুখী বাঁধের ওপর বাংলাদেশের টিকে থাকা নির্ভর করে না। অথবা এটিই বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য প্রধান হুমকী নয়। আমরা টিপাইমুখী বাঁধের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হবো, এটা সত্য। কিন্তু এটা ঠেকাতে গিয়ে সামান্য ভুলের কারণে যদি রষ্ট্রের অভ্যন্তরের শত্রুরা জনগনের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পায় তাহলে টিপাইবাঁধ নির্মাণ হয়ে যাবার পর আমাদেরকে একটি দৈত্যাকার বিষধর সাপের মোকাবেলা করতে হবে। সুতরাং নো জামাত'স কানেকশন।

==>>
২য় থিওরিকে আংশিক গ্রহণযোগ্য বলাও ঠিক হবে না। আন্দোলনের জন্য নির্বাচিত সমস্যা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট মিত্র যদি পরবর্তীতে এর চাইতে কয়েকগুন সমস্যা বলে বিবেচিত হয় তবে কোন দু:খে আমরা ওই প্রস্তাবিত মিত্রকে ছুড়ে ফেলে দিবো না? ওই জঙ্গী মৌলবাদীরা ছাড়া কি এধরনের প্রতিবাদ চলে না? চলে চলে, অবশ্যই চলে।

==>>
৩য় থিওরিটাকে আমার কাছে সবচে বিপদজনক মনে হয়। ব্লগে এ থিওরি নিয়ে বেশ কিছু সেলিব্রিটি (?) ব্লগারকে লিখতে দেখলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা কেবল অন্যদের চাইতে একটু ব্যতিক্রম হওয়ার জন্যই এ ধরনের থিওরির জন্ম দিয়ে থাকেন। অবশ্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে কথা !


দু:খজনক বিষয় হলো ল্যাম্পপোষ্টের তরুন যুবাদের জঙ্গী আখ্যায়িত করে প্রথম আলোর রিপোর্ট পরবর্তী সময়ে ব্লগে প্রতিবাদের পোস্টগুলোতে কিছু মন্তব্য এবং বিস্তরিতে এসে দু'একটি পোস্ট কি এক অদ্ভুত স্বাতন্ত্র্য নিয়ে ঝুলে আছে। সৃজনশীলতার যন্ত্রনা যে কি ভয়াবহতা হতে পারে! ওপস!


উপসংহার :
না থাকুক বাবা, আমরা এতো জটিলতায় যাবো না। ভারতের জনগন যদি প্রস্রাব করে দেয় তবেতো আমরা ভেসে যাবো। ওদের জোরখাটানোর বিরুদ্ধে কোন কথায়ই বলা যাবে না। জাতি হিসেবে ক্ষুদ্র এবং দরিদ্র হওয়ার কারণে প্রতিবেশী বা আন্তর্জাতিক কোন ইস্যুতে প্রতিবাদ করা যাবেই না।

স্কচটেপ মুখে লাগাই, নিরাপদে থাকি।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ১:৫৯
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেষ বিকেল Last Afternoon

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:০৫

এই পৃথিবীতে শেষ বিকেলে আমরা কেটে ফেলি দিনগুলো
আমাদের শরীর থেকে, আর গুনি সেই হৃদয়গুলো যা আমরা নিয়ে যাব
এবং যেগুলো যাব এখানে রেখে। সেই শেষ বিকেলে
আমরা কোনো কিছুকে বিদায় বলি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ খাওয়ার ফাঁদ

লিখেছেন আবু সিদ, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

এ পাড়ায় দশ - বারো জন ছেলেপেলে মিলে আমরা খেলাধুলা করি। খেলা মানে নানান ধরনের খেলা। তার মধ্যে ফুটবল আর ক্রিকেট বেশি। আমাদের কারও ওরকম খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন নেই। তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন অবস্থানে বাংলাদেশ

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১৬

দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন অবস্থানে বাংলাদেশ। ইউনেস্কো প্রকাশিত বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং মালদ্বীপের মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজয় দিবস, সংবিধান, পহেলা বৈশাখ, পান্তা-মাছ কিছুই ভালো লাগে না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪১


ধরুন আপনি একদিন ঘুম থেকে উঠলেন আর সিদ্ধান্ত নিলেন যে আপনার চারপাশের সবকিছুই ভুল। ক্যালেন্ডারের তারিখ ভুল, রান্নাঘরের খাবার ভুল, দেশের সংবিধান ভুল, এমনকি বাইরে যে ঝড়ো হাওয়া বইছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরীক্ষায় নকল ও বাস্তবতা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৬



শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন সাহেবের বক্তব্য পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধের বিষয়টি গত কিছুদিন যাবত সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এমনকি সামহো্য়্যারইন ব্লগেও সমালোচনা হয়েছে! বাংলাদেশে স্কুল কলেজ পরীক্ষা সহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×