somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রবাস জীবন-৩

০৬ ই মে, ২০১৪ রাত ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসলেও দেখলাম তাই। সিগারেট কিনতে বাকালা মানে দোকানে যেয়ে দেশে যে ব্রান্ড খেতাম Wills সেটা নেই। আছে শুধু ট্রিপল ফাইভ আর বেনসন। সাদেক বললো ওটা পাবেন না এরমধ্যে থেকেই কিনতে হবে। এক প্যাকেট নিয়ে ১০দিনারের নোটটা বাড়িয়ে দিতে মিসরীয় দোকানদার হরবরিয়ে কি যেন বললো (অন্ততঃ তখন আমার কাছে আরবী ভাষাটা এমনই লাগছিলো)। সাদেক আবার ২মাসের পুরানো বলে অল্প-স্বল্প কিছু বঝতো বলে আমাকে টাকাটা ফেরত নিতে বলে ২০০ না ২৫০ পয়সা মানে ফিলস দিয়ে দাম মিটিয়ে দিল। এত অল্প দাম! ১০০০ ফিলসে এক দিনার মানে টাকা।
বাসায় মানে ব্যারাকে ফিরে দেখি হুলুস্থুল কারবার। হাড়ি-পাতিলের ঠোকাঠুকি,প্লেটের –পানির আওয়াজ, এরমাঝে আবার কারো কারো কথা-তর্কের মাঝে ভাসছে রসিক গায়কের হেড়েগলার গান। এক রান্নাঘরে ১০/১২জন!! দেশে যার অভিজ্ঞতা আমার ছিলো না। জানলাম নীচের ৫রুমের জন্য একটাই রান্নাঘর। দোতালারও একই অবস্থা। রুমে ঢুকে দেখি এককোনায় রাখা পুরানো একটা টিভিতে আরবী গান চলছে তারই মাঝে পাল্লা দিয়ে চলছে ২০,১৮,ডাবল,রিডাবলের হৈচৈ। দেশে আমরা যাকে “গামছা বিছানো”মানে টোয়েন্টি নাইন খেলা চলছে। বেশীর ভাগ রুমেই একই দৃশ্য। আমাকে কেউ কেউ নিজের আসন ছেড়ে দিতে চাইলে সবিনয়ে খেলতে জানি না বলে প্রত্যাখান করলাম। কোথায় ফ্লাস,রামী,কাচ্চু আর ব্রিজ!! আর কোথায় এটা?? যাক এসব এক/দেড় ঘন্টার মাঝেই রান্নাঘর থেকে একে একে আসতে লাগলো ভাত তরকারির পাতিল। দেখে একজন প্লেটগুলি নিয়ে ধুতে চলে গেল আর বাকীরা খেলাবন্ধ করে মাঝে পেপার বিছিয়ে দুই লাইনে মুখোমুখি বসে পড়লো। খাওয়ার মাঝেই গল্পচ্ছলে জানলাম রুমের ৮জনই একসাথে খায়।বাজার মিলে-মিশে সবাই করে।রান্না দিন ভাগ করে দেওয়া আছে। দুজন করে। যাদের সিরিয়াল পড়বে তারাই সেদিনের খাদ্যমন্ত্রী। (কয়েকমাস পর একক সংসার ভেঙ্গে কয়কটা হয়েছিলো। রান্না আর বাজারের অভিযোগে)। আমাকেও জুড়ে দেওয়া হলো বেজোড় ছেলেটার সাথে। মাসের শেষে একজনের কাছে রাখা হিসাব দেখে সব সমান ভাগে পড়বে। বেশী হলে ফেরত দেয়া হবে,কম হলে নেয়া হবে।
বেশ হাসি-খুশীর মাঝেই খাওয়া শেষ করার পর সবাই আমাকে ঘিরে বসে পড়লো আড্ডায়। তবে প্রায় সবারই মূল প্রশ্ন ছিলো দেশের হাল হকিকত। আইন-শৃখলা পরিস্থিতি। তবে আজকের মত দলীয় রেশারেশির কনমাত্রও ছিল না। ঢাকার যারা তারা নিজ নিজ এলাকার কথা জানতে চাইলে,যতটুকু জানতাম তাই বললাম। এতেই মনে হলো দেশ থেকে প্রায় ৬০০০মাইল দুরে থেকেও আমার চোখ দিয়েই যেন ওরা সব দখতে পেলো। একদিনেই মিশে গেলাম সবার মাঝে। নিজের বন্ধুদের বাহিরে যে কাউকে এতো অল্প সময়ে কাউকে আপন করে নেওয়া যায়,আমার অন্ততঃ এটা জানা ছিল না। সুদুর প্রবাসে শুধুমাত্র একদেশের মানুষ হবার সুবাদে মুহুর্তেই কাছাকাছি চলে এলাম সবাই।বলাই বাহুল্য কথায় হোক বা নুতন মানুষকে দেখাই হোক পাশের সবকটি রুমের কেউ না কেউ উপস্থিত ছিল। কথায় কথায় রাত গভীর হয়ে যাওয়াতে একজন ডিউটির কথা মনে করিয়ে দেওয়াতে ঘোর ভাঙ্গলো সবার। চললো ঢালাও বিছানা। শুনলাম কোম্পানী নুতন বলে খাট তৈরী হচ্ছে,চলে আসবে দু/তিন দিনের মাঝেই। সাথে প্রতিটি রুমের জন্য একটি করে এসি। শুয়ে পড়লাম প্রায় সবাই। ঘুমিয়ে পড়লোও কয়েকজন প্রায় সাথে সাথেই। আর এই অভ্যাসটা ছিল না বলে জেগে রইলাম শুধু একাই।
মাথার মধ্যে এলোমেলো ভাবনা। ভাই-বোন,স্ত্রী-কন্যার কথা। সেই কৈশর থেকে একসাথে বড় হওয়া বন্ধুদের কথা। এলাকার কোনার এক বিল্ডিংএর আলো-আধারী মাঠে রাত ১১/১২টা কখনো বেশী,আড্ডা দেয়া। সেই তর্ক-বিতর্ক,(তবে শর্ত ছিল আর যাই হোক নিজেদের মাঝে থাকবে না রাজনৈতিক বিরোধ আর....। কিন্তু রতনরা সে শর্ত ভেঙ্গে আবার মাফ চেয়ে নিজেদের রক্ষা করেছিলো)।। রাগ আবার সব ভুলে হোটেলে বসে পুরো হোটেল গরম করে চা খাওয়া। মহল্লার দোকানে বাকী খাওয়া না দিলে ভয় দেখানো আরও অনেক কিছুই, সব সেলুলয়েডের পর্দার মত চোখের সামনে একে একে ভেসে উঠতে লাগলো। মিটিং-মিছিল, আর নেতাদের বড় বড় মহৎ বানী কানে ভাসতে লাগলো। মনে মনে বললাম তোমাদের জন্যই আজ আমাকে নাড়ীর বাধন কেঁটে সব ফেলে এই অজানা,অচেনা পরিবেশে এসে পড়তে হলো। আমার ক্ষমা তোমরা কোনদিনও পাবে না। আমি ফারুকের মত সাহসী হলেও অতটা নই যে,তোমাকে খুন করতে যাবো। তাই বিড়ালের মতই চলে এলাম। মিউ মিউ করতে করতে। আপনি বাঁচলে বাপের নাম। তাই আগে নিজেকে তো রক্ষা করি। মনে পড়ে গেলো এক প্রবীন রাজনীতিবীদের কথা,যার সাথে কথা হয়েছিলো বেঙ্গলের সেগুন বাগিচার অফিসে। বলেছিলেন তখন না মানা একটি অমোঘ বাক্য “prostitution is better then politics”. তখন ভুয়া আবেগ আর আদর্শের মোহজ্বালে পড়ে বুঝি নি, এমনকি বুঝতেও চাই নি।। কিন্তু আজ এতগুলো বছর পরও উনার সেদিনের প্রতিটি আলাপচারিতা কানে বাজছে। কিন্তু শুধরাবার সময় নেই।। ……………চলবে…………..।।

৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×