somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাত এবং পলাশের বিক্ষিপ্ত ভাবনা

০৮ ই আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুবই হাসি-খুশী এবং মিশুক। অহরহ চেষ্টা থাকে কাওকে আঘাত না দিয়ে, মিলেমিশে থাকার। কিন্তু এই মানুষটিই রাতের গভীরতার সাথে বদলে যেতে থাকে ক্রমশ। এই সময়টাতে সে থাকে তার গড়া অন্য এক পৃথিবীতে। যেখানে কারো প্রবেশাধীকার থাকে না।এটা থাকে একান্তই তার নিজস্ব। না সে এর বাইরে যায়,না সে কাউকে প্রবেশেধীকার দেয়।এ সময়টাতে সে মগ্ন থাকে ভিন্ন এক পৃথিবীতে।
আজ তেমনি এক রাত। শুয়ে পড়েছিলো বেশ আগেই। কিন্তু ভাবনার আসা-যাওয়ায়, ঘুম গেল পালিয়ে। কিছুক্ষন এপাশ-ওপাশ করে বসে পড়লো ডায়রী নিয়ে।।
রানীর কথা মনে পড়লো। যেদিন তাকে দেখেছিল প্রথম শাড়ীতে। সেই হাফপ্যান্ট পড়া রানীকে দেখলো এক ভিন্নরূপে,নুতন সাঁজে। তার মুগ্ধ দৃষ্টির সামনে রানীরও জড়োসড়ো অবস্থা। হারিয়ে গেছে তার সপ্রতিভতা। সেখানে স্থান করে আছে ল্জ্জারাঙ্গানো পরিবেশ। থেকে থেকে অকারনেই হাতের তর্জনীতে শাড়ীর আঁচল পেচানো আর খোলা। আর অজানা,অচেনা লজ্জার লালিমায় রেঙ্গে উঠা। সেই দিনটির কথা এতোদিন পরেও আজ পলাশের দৃষ্টিতে অমলিন। চোখ বন্ধ করে একটু মনে করলেই মনে হয় আজকেই যেন এটা ঘটেছে। মানুষের বয়স বাড়লেও স্মৃতির বয়সতো আর বাড়ে না।।
আর তা বাড়ে না বলেই পলাশের হৃদয়ে আজ অতীত দিনের ভীড়। কবে,কোথায় কি হয়েছে সব কিছুই আজ মনর কোনে এসে দাড়িয়েছে। সেই ভাললাগার দিনটিতে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রথম বারের মত বাহিরে বেড়াতে যাওয়ার। আর বেড়াতে বের হয়ে,এইদিনটিকে চির স্মরনীয় করে রাখার জন্য যুগল ছবি তোলা।তারপর রমনাপার্কে বেড়ানো।আর সেই দিনটিতে দুরন্ত,দূর্দমনীয় পলাশেরও ভয়ে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে উঠা। যাকে কি না বন্ধুরাও ভয় পেত। সেই যেন কেমন হয়ে গেল।আর রানীর সপ্রতিভ এবং সাহসী হয়ে উঠার ব্যাখ্যা সে আজো পায় নি। সে দিনের পরিবেশটা এমনি উলোট-পালোট হয়ে গিয়েছিলো।চিরদিনের শান্ত আর ভীরু রানী হয়ে উঠলো দুরন্ত সাহসী আর পলাশ হয়ে উঠলো ভীতু!! কেন যে সেদিনর পরিবেশটা এমন করে পাল্টে গিয়েছিলো তা আজো পলাশের কাছে ব্যাখ্যার অতীত।।
রানীর শেষ পত্রের কয়েকটি লাইন আজো তার হৃদয়কে ভাড়াক্রান্ত করে তুলছে। কেন সেদন তাকে ও এমন করে লিখেছিলো?? তাহলে ও কি জানতো যে,সে এমন করেই অকালে হারিয়ে যাবে। মিশে যাবে নিঃশ্বীম শুন্যতার মাঝে,সব লেন-দেন চুকিয়ে?? ছেড়ে যাবে নিজের একান্ত প্রিয়জনকেও??মনে হয় এটাই হবে তা ও জানতো। বুঝতে পেরেছিল বলেই শেষ পত্রে ও পলাশকে বলেছিলো আমি চলে চলে গেলে আমার কবরে দু’মুঠো মাটি দিয়ে দোয়া করো। যেটা হবে আমার শেষ শান্তনা।।আর কেউ তো থাকবে না। সবাই ঠিক ভুলে যাবে। কিন্তু তুমি পারবে না,শত চেষ্টা করেও।। আমাকে বোধহয় আমা থেকেও বেশী চিনতো রানী। তাই এমন কথা বলতে পেরেছিলো।।পলাশের সুখই ছিলো যার ধ্যান,জ্ঞ্যান। যে কারনে বোধহয় ওর শেষ নসীহত অনুযায়ী ওর বাসার কাছে ঢাকার বৃহৎ বিশ্রামের স্থান থাকা সত্বেও পলাশের বাসার কাছেই ওর চিরনিদ্রার স্থান নির্ধারন করা হয়।যাতে পলাশের কষ্ট না হয়।।
মানুষের মানষিকতা বিধিরও বোঝা ভার। যাকে ফুলমালা দিতে পারে নি,নিজের সমাজ আর আত্মীয়দের কথা চিন্তা করে। যার শত চেষ্টা আর আবেগকে অবহেলা করেছে অবলীলায়,আজ শেষমুহুর্তে সেই হয়ে রইলো শেষ অবলম্বন!! না এতে অবাক হবার কিছুই নেই। পলাশ সেই প্রথম থেকেই জানতো যে, সে ছাড়া রানীর আর অবলম্বন নেই।।
তবে অনেক বেদনার সাথে পলাশ আজ ভাবছে, যাদের জন্য রানীর এই রিক্ততা,ত্যাগ তারা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওর চিরবিদায়ের দিনটিকেও মনে করে দু’টো কথা,দু’টো শান্তনার কথাও লিখতে পারছে না। ধীক আমাদের মানুষ প্রজাতিকে,ধীক আমাের সভ্যতাকে।।
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×