খুবই হাসি-খুশী এবং মিশুক। অহরহ চেষ্টা থাকে কাওকে আঘাত না দিয়ে, মিলেমিশে থাকার। কিন্তু এই মানুষটিই রাতের গভীরতার সাথে বদলে যেতে থাকে ক্রমশ। এই সময়টাতে সে থাকে তার গড়া অন্য এক পৃথিবীতে। যেখানে কারো প্রবেশাধীকার থাকে না।এটা থাকে একান্তই তার নিজস্ব। না সে এর বাইরে যায়,না সে কাউকে প্রবেশেধীকার দেয়।এ সময়টাতে সে মগ্ন থাকে ভিন্ন এক পৃথিবীতে।
আজ তেমনি এক রাত। শুয়ে পড়েছিলো বেশ আগেই। কিন্তু ভাবনার আসা-যাওয়ায়, ঘুম গেল পালিয়ে। কিছুক্ষন এপাশ-ওপাশ করে বসে পড়লো ডায়রী নিয়ে।।
রানীর কথা মনে পড়লো। যেদিন তাকে দেখেছিল প্রথম শাড়ীতে। সেই হাফপ্যান্ট পড়া রানীকে দেখলো এক ভিন্নরূপে,নুতন সাঁজে। তার মুগ্ধ দৃষ্টির সামনে রানীরও জড়োসড়ো অবস্থা। হারিয়ে গেছে তার সপ্রতিভতা। সেখানে স্থান করে আছে ল্জ্জারাঙ্গানো পরিবেশ। থেকে থেকে অকারনেই হাতের তর্জনীতে শাড়ীর আঁচল পেচানো আর খোলা। আর অজানা,অচেনা লজ্জার লালিমায় রেঙ্গে উঠা। সেই দিনটির কথা এতোদিন পরেও আজ পলাশের দৃষ্টিতে অমলিন। চোখ বন্ধ করে একটু মনে করলেই মনে হয় আজকেই যেন এটা ঘটেছে। মানুষের বয়স বাড়লেও স্মৃতির বয়সতো আর বাড়ে না।।
আর তা বাড়ে না বলেই পলাশের হৃদয়ে আজ অতীত দিনের ভীড়। কবে,কোথায় কি হয়েছে সব কিছুই আজ মনর কোনে এসে দাড়িয়েছে। সেই ভাললাগার দিনটিতে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রথম বারের মত বাহিরে বেড়াতে যাওয়ার। আর বেড়াতে বের হয়ে,এইদিনটিকে চির স্মরনীয় করে রাখার জন্য যুগল ছবি তোলা।তারপর রমনাপার্কে বেড়ানো।আর সেই দিনটিতে দুরন্ত,দূর্দমনীয় পলাশেরও ভয়ে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে উঠা। যাকে কি না বন্ধুরাও ভয় পেত। সেই যেন কেমন হয়ে গেল।আর রানীর সপ্রতিভ এবং সাহসী হয়ে উঠার ব্যাখ্যা সে আজো পায় নি। সে দিনের পরিবেশটা এমনি উলোট-পালোট হয়ে গিয়েছিলো।চিরদিনের শান্ত আর ভীরু রানী হয়ে উঠলো দুরন্ত সাহসী আর পলাশ হয়ে উঠলো ভীতু!! কেন যে সেদিনর পরিবেশটা এমন করে পাল্টে গিয়েছিলো তা আজো পলাশের কাছে ব্যাখ্যার অতীত।।
রানীর শেষ পত্রের কয়েকটি লাইন আজো তার হৃদয়কে ভাড়াক্রান্ত করে তুলছে। কেন সেদন তাকে ও এমন করে লিখেছিলো?? তাহলে ও কি জানতো যে,সে এমন করেই অকালে হারিয়ে যাবে। মিশে যাবে নিঃশ্বীম শুন্যতার মাঝে,সব লেন-দেন চুকিয়ে?? ছেড়ে যাবে নিজের একান্ত প্রিয়জনকেও??মনে হয় এটাই হবে তা ও জানতো। বুঝতে পেরেছিল বলেই শেষ পত্রে ও পলাশকে বলেছিলো আমি চলে চলে গেলে আমার কবরে দু’মুঠো মাটি দিয়ে দোয়া করো। যেটা হবে আমার শেষ শান্তনা।।আর কেউ তো থাকবে না। সবাই ঠিক ভুলে যাবে। কিন্তু তুমি পারবে না,শত চেষ্টা করেও।। আমাকে বোধহয় আমা থেকেও বেশী চিনতো রানী। তাই এমন কথা বলতে পেরেছিলো।।পলাশের সুখই ছিলো যার ধ্যান,জ্ঞ্যান। যে কারনে বোধহয় ওর শেষ নসীহত অনুযায়ী ওর বাসার কাছে ঢাকার বৃহৎ বিশ্রামের স্থান থাকা সত্বেও পলাশের বাসার কাছেই ওর চিরনিদ্রার স্থান নির্ধারন করা হয়।যাতে পলাশের কষ্ট না হয়।।
মানুষের মানষিকতা বিধিরও বোঝা ভার। যাকে ফুলমালা দিতে পারে নি,নিজের সমাজ আর আত্মীয়দের কথা চিন্তা করে। যার শত চেষ্টা আর আবেগকে অবহেলা করেছে অবলীলায়,আজ শেষমুহুর্তে সেই হয়ে রইলো শেষ অবলম্বন!! না এতে অবাক হবার কিছুই নেই। পলাশ সেই প্রথম থেকেই জানতো যে, সে ছাড়া রানীর আর অবলম্বন নেই।।
তবে অনেক বেদনার সাথে পলাশ আজ ভাবছে, যাদের জন্য রানীর এই রিক্ততা,ত্যাগ তারা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওর চিরবিদায়ের দিনটিকেও মনে করে দু’টো কথা,দু’টো শান্তনার কথাও লিখতে পারছে না। ধীক আমাদের মানুষ প্রজাতিকে,ধীক আমাের সভ্যতাকে।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



