somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের পরিচিত কয়েকটি ঘটনা।বা ভারতের তথাকথিত জেট-সেট জীবনের ধনীদের পতন!!

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুধু আমাদের দেশেই নয় সারাবিশ্বে এরা পরিচিত তাদের প্রতিষ্ঠানের নামডাক তথা লোগোর জন্য। পুজির খেলাতো আছেই।কিন্তু বর্তমানে তিনটি সর্বপরিচিত প্রতিষ্ঠান এবং তাদের মালিকরা ঋনের এবং দূর্নীতির দায়ে বিচারের সম্মুখিন হয়ে জেলের ভিতরে অথবা যাব যাব করছে।তদন্তে প্রকাশ,এতদিন এরা যা করে এসেছে তার সবই জনসাধারনর টাকায়। বিশেষ করে আমাদের অতিপরিচিত সাহারা গ্রুপ বা এর মালিক তথাকথিত ধনী মিঃ সুব্রত রায়।আর বাকী দু’জন হচ্ছেন বিজয় মালিয়া এবং ভেঙ্কেটারম রেড্ডী।।
ভারতের সর্বোচ্চ স্বার্থক পারিবরিক ব্যাবসা যেমন টাটা,বিড়লা বা সাম্প্রতিক রিলায়েন্সের ব্যাবসা পরিচালিত হয়েছে প্রচারবিমুখ পেছনের মুখ তথা মিডিয়ার সামনে না আসা ব্যাক্তিদের দ্বারা।
কিন্তু kingfisherরের মালিয়া এবং সাহারা গ্রুপের সুব্রত রায় যখন প্রকাশ হলেন তাদের লক্ষ্য অর্জনে নির্ভিকভাবে ২০০০সালে তখন অনেকেই ভাবছিল কি করে, কি হলো??
মালাইয়া(Mallya,the king of good times)পরিনত হয় তার উক্তরাধীকার সুত্রে প্রাপ্ত ইউনাইটেড ব্যাভারেজ গ্রুপের মালিকানায়। যা সে সময়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্পিরিট কারখানা।।
ব্যাবসায়ের উর্ধগতির সাথে সাথেই মালিয়া Kingfisher এয়ারলাইন্স নামে আরেকটি মলিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা করে। যা ছিল তার বি্খ্যাত বিয়ার কম্পানীর নামে।তার নামের মাহাত্ব আরো বেড়ে যায় যখন সে ভারতীয় F1 টিম এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার অফ ব্যাঙ্গালোরের অধিকার স্বত্ত কিনে নেয়।।
কিন্তু যখনই গতযুগের মাঝে ভারতীয় অর্থনীতি নিম্নমুখী হতে শুরু করে প্রথমেই এ্যাভিয়েশন শিল্পকে আঘাত করতে শুরু করে তখনই টল খয় মালিয়ার সা্ম্রাজ্যও।।
পিতার প্রতিষ্ঠিত লিকার ব্যাবসা বেচে দিয়ে কিংফিসারকে অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টা করেও এর কর্নধার অসহায় হয়ে পড়েন ব্যার্থতার বেড়াজালে। পাইলটদের আনপেইড বেতন আদায়ের অধিকারের আন্দোলনে ফলে কিংফিশার মাটি থেকে আর আকাশে উঠতে পারলো না।।মালিয়ার বর্তমান ৬০ মিলিয়ন ঋনের প্রেক্ষিতে ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া তাকে “willful defaulter” অর্থাৎ নূতন ঋনের জন্য অবাঞ্চিত ঘোষনা করেছে।।
যেখানে মালিয়া তার সম্পত্তি দায়গ্রস্থতার হাত থেকে মুক্ত রার চেষ্টা করে যাচ্ছে,সেখানে সাহারা গোষ্ঠির প্রধান সুব্রত রায় চেষ্টা করছেন নিজ সম্পত্তি বিক্রয় করে জামিন লাভের চেষ্টা করছে।যার মধ্যে আছে নিয়োইয়োর্কের বিলাসবহুল প্লাজা হোটেল এবং লন্ডনের গ্রসভেনর হাউস।যা তাকে ১.৬বিলিয়ন ডলারের বেল দিয়ে তিহার জেল থেকে মুক্ত করবে।
সুব্রতর বিভিন্ন পত্রিকা এবং হিন্দী চ্যানেলের মালিকানার সাথে মালিয়ার সাথে ফোর্স ইন্ডিয়া এবং বিশেষ করে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ততা তাকে রাতারাতি বিখ্যাত করে তোলে। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেটদলের সার্টের লোগো সাহারা।।এছাড়াও ছিলো পুনের টিমের মালিকানা।
গতমার্চেই সুব্রতর পতন শুরু হয় যখন সে এবং তার কম্পানী ৩.২ বিলয়ন ডলার ফেরত দিতে ব্যার্থ হয়। যা ছিলো লক্ষ্য লক্ষ্য আমানতকারীর পূজী। যার প্রায় সকলেই মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্রশ্রেনীর্।(অনেকটা মিলে যায় আমাদের দেশের ডেসটেনির সাথে) ফলশ্রুতিতে সে হয় গ্রেফতার।সাহারার এই স্কিমটা ভারতে চিটফান্ড নামে অভিহিত।।
যেখানে রায় হোয়াইট হাউস এবং বাকিংহাম প্যালেসের আদলে বাড়ী বা হোটেলের মালিক সেখানে রেড্ডির দৃষ্টি ছিল বিলাসবহুল গাড়ীর প্রতি।যার মাঝে ছিল রোলস রয়েস ফ্যানটমও।এর পাশাপাশি IPLর চাকচিক্যও তাকে বিমোহিত করেছিল। ফলে সে কিনে নেয় ডেকান চার্জারস।তবে রেড্ডী এবং তার ভাই টি ভিনায়ক রভী রেড্ডীর অর্থ ছিল উত্তরাধীকারসুত্রে তাদের পিতার কাছ থেকে পাওয়া।।হায়দ্রদাবাদের বহুল প্রচারিত পত্রিকার সুবাদে তারা বিভিন্ন বুকষ্টোর এবং চার্টার্ড জেটের আনুকুল্যে ঋন নিতে পেরেছে অবাধে।
এই তিনজনই এখন দায়গ্রস্থতা বোঝায় জর্জরিত। ব্যাংক থেকে অকাতরে ঋন নেয়ার ফলে বাংকগুলিও তাদের ডিফল্টার খেতাবে ভূষিত করায় এদের নূন ঋন পাওয়ার পথও বন্ধ। এরমাঝেই মি:সুব্রত সাহেব জেলের ঘানী টানছেন। বাকীরাও সেই পথ দেখছেন বা গন্ত্যব্যে আছেন।
আমাদের দেশের সাথে তুলনীয়ই না। আমাদের এখানে ৫০০ কোটি কেন হাজার হাজর কোটি টাকার ষ্টক বাটপারী করে লোকে পর পেয়ে যায়। কারো ভাষায় ভাষুরের নাম নিতে মানা,করাও ভাষায় সংবেনশীল। তাই মুখে তালা। যেভাবে আছো তাই নিয়েই খুশী থকতে হবে। অনেক কষ্ট করে আমরা বাক-স্বাধীনতা অর্জন করেছ!!
আমরা বেকুবরা ভাবছি তুমি অবশ্যই ভিন্ন দলের,তা না হলে এত দোষ-ত্রুটি খুজে বার করছো কেন? আমি বলি না,নাগরিক হিসাবে যখন দেখি হাজার কোটি বেআইনী ভাবে আমাদের স্বার্থ ছাড়া বেড়িয়ে যাচ্ছে তখন চুপ করে বসে থাকি কি করে?? এখানে কোথায় সেই বিচার?? না কি বিচারের বানী অর্থবিত্তের পদতলে?? পাঠকদের কাছে এই প্রশ্ন??
সুত্রঃ পত্রিকা।।
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×