প্রতিটি দিনক্ষন মিলে আবার ফিরে এলো ২১শে ফেব্রুয়ারি।। মাতৃভাষা তথা তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সন্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর দিনটি।।আশা করবো নির্বিশেষে সবাই যেন এইক্ষনটিতে তাদের শ্রদ্ধার্ঘ অর্পন করতে পারেন।।সুদুর থেকে রইলো আমারও শ্রদ্ধার্ঘ,যাদের জন্য আজ ‘মা’ডাকতে পারি।। মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি নিজেরই ভাষায়।।
আজ বুকে জ্বালা ধরে যখনই দেশের খবর জানতে খবর বা টিভির স্বরনাপর্ন হই।।সবাই শান্তির,গনতন্ত্র আর সমাজবদলের কথা বলছে।। যেন ছেলের হাতের মোয়া চাইলেই,বা দু’চারটা ‘টকশো’বা জ্বালাময়ী বক্তব্যেই পাওয়া যাবে।।ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা।।
হাজার হাজার তরুন-যুবা, এমনকি বয়ষ্করাও বুকের রক্তে আল্পনা একেঁও যা আজ পর্যন্ত আনতে পারে নি,তা এমনিতেই হয়ে যাবে!!ছোটবেলায় পড়েছিলাম “অসীর চেয়ে মসী”বড়।। কিন্তু আজো দেখতে হচ্ছে ঠিক তার উল্টোটি মানে মসীর চেয়ে অসীই বড়।। যার প্রমান প্রতিদিনের বাংলাদেশ।।আজ আবাল-বৃদ্ধ-জনতা সবাই(আমি নিজেও বাদ নই)উটপাখির মত ঝড় দেখে মাথা লুকিয়ে বসে আছি আসন্ন মোকাবেলায়!!যাও হাতেগোনা কিছু আছে,সমাজে তাদের মূল্যই নেই।।আছে শুধু বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ।।কিন্তু সবাই যে অন্ধ তাও নয়।।বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে সবাই সঠিক।।বিশেষ করে করে তরুন-যুবাদের।।তাদের দেশপ্রেমে নেই ঘাটতি,প্রানও হাতে নিয়ে বসে আছে তারা এজন্য।।তবে পার্থক্য হলো পথ ও মতের।। যদি তাদের বিপথে চালনা না করা হয়।।
ভাবছি সকাল হলেই সন্তানদের যেতে হবে স্কুল,কলেজ আর ভার্সিতে।।মেয়েটার এই সেমিষ্টারের অর্ধেক চলে গেল হরতালের অতলে।। বাকিটারও ভবিষ্যত দেখছি না।।শুনলাম ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে সপ্তাহের প্রতিদিনই খোলা রাখার।। সেমিষ্টার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটিতে ৬টির বেশী ক্লাস মিস দিলে অবধারিত ফেল।।মানে আবার ৪মাস পিছনে পড়ে যাওয়া।।এখন আমার প্রশ্ন টাকা নয় এবং পিছনে পড়াও নয়, জীবন।। যেটা আমার সন্তানের।।তাকে তো ক্লাসে যেতেই যদি হয় সে না ফেরা পর্যন্ত প্রতিটি পিতা-মাতাকে থাকতে হবে দুঃশ্চিন্তায় অর্ধমৃত।।আল্লাহর রহমতে সুস্থ ফিরলে হাসি আবার পরদিনও একই পরিনতি।।আমরা কি এমনি করেই প্রতিদিন বাচঁবো আর মরবো??
শুধু সন্তান কেন, ৬০জনের পরিবরের এক তৃতীয়াংশকে প্রতিদিন করতে হচ্ছে স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি আর অফিস-আদালত।।তাদের ব্যাপারেও তো একই অবস্থা।।গতবছর এমনই এক দূর্ঘটনার কথা লিখেছিলাম।।খোদা না করুন আবারও যদি তার পূনরাবৃত্তি ঘটে তবে কা কে দায়ী করবো??সরকার,বিরোধীদল না স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে?? সরকার বলবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের শিকার আর বিরোধীদল বলবে গনতন্ত্র আদায়ের অর্ঘ!!বাকীরা বলবে আমরা শুধু সরকারী হুকুম মান্য করতে বাধ্য হয়েছি।। আমি জানি এটা।। কথা হলো এতকিছুর পরও যদি সত্যিকারের গনতন্ত্র আসতো,তাহলে আমি নিেই সবার আগে এগিয়ে যেতাম।।কিন্তু এই খেলাতো দেখে আসছি ’৭৩ থেকেই।।আজ ২০১৫ পর্যন্ত অনেক সরকারইতো এলো-গেলো।। কিন্তু আম-জনতার পরিবর্তন কই??আমরা আছি একই স্থানে জিম্মি আর শুধু ক্ষেত্রবশেষে ৫বছর পর একটি ভোট দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে!!এগোতে পারি নি (রাজনৈতিক দিক দিয়ে)এক’পাও।।পারবোও না বলে প্রতিভাত হচ্ছে।। তাহলে সারাটা পৃথিবী যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে,সেখানে সার্টের বুতাম পিঠের দিকে এটেঁ আমরা পিছনেই হেটে চলবো??!!
কিন্তু পিছে হঠারও তো একটা শেষ আছে,তাই না??সবশেষে বঙ্গোপসাগর।। আমার মনে হচ্ছে শুধু সরকার এবং বিরোধীদলকে রেখে নিরপেক্ষ আম-জনতাকে ধরে-বেঁধে বঙ্গোপসাগরে একসাথে ডুবিয়ে দিয়ে চলুক “গনতন্ত্রের”খেলা।।
ভাবছি দেশ তথা মানুষের জন্য গনতন্ত্র না গনতন্ত্রের জন্য দেশ ও মানুষ??বর্তমান পৃথিবীর দিকে তাকালে দেখবো সেসব দেশের রাজনীতিবিদরা যেখানে তাদের পরবর্তি জেনারেশনের নিরাপদ ও শান্তির আবাস নিঃশ্চিত করার চেষ্টায় মগ্ন,সেখানে আমরা কি রেখে যাচ্ছি আমাদের পরবর্তিদের জন্য??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



