এই হল বাংলাদেশি! কিংবা বাঙ্গালী, যাই বলেন আরকি! নিজের তুচ্ছ স্বার্থেও যদি আঘাত আসে তাইলেই এরা বাচ্চার মতো চিল্লায়, নাচাছোড় বান্দা নাবালকের মতো কেঁদে কেটে চোখের জলে নেয়ে একাকার হয়ে যায়। কিন্তু নিজের চোখের সামনেই যদি অন্যের জীবনটাও খোয়া যায় তাহলেও এদের কিছুই যায় আসে না। নিজের আঁতে ঘা লাগলেই শুধু এদের যতো তর্জন গর্জন।
দেশে এখন ফেসবুক বন্ধ। ফেসবুক বন্ধ হয়েছে তো কি হয়েছে? প্রক্সি ও ভিপিএন দিয়ে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে একটু এদিক সেদিক করে ফেসবুক তো চলানো যাচ্ছে! তাতেই ফেসবুক খুলে দেয়ার জন্য মানব বন্ধন পর্যন্ত হয়ে গেছে! এ যেন ফেসবুক বন্ধ হওয়াতে গোটা বাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে গেছে। অথচ বিগত কয়েক বছরে দেশ তছনছ করে ফেলেছে সরকার। চেতনার ফেরিওয়ালারা চেতনার দোহাই দিয়ে সাত খুন মাফ পেয়েই শুধু থেমে নেই বরং যার যখন যা ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা করে যাচ্ছে। দেশের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ছে। গোটা দেশকে অরাজকতায় ভরে দিয়ে বিভাজিত এক সংক্ষুব্ধ ও জিঘাংসায় লোলুপ্ত জনপদে পরিণত করেছে। যখন যাকে ইচ্ছা চেতনা বিরোধী বলে গ্রেফতার করছে, ফাঁসি দিচ্ছে, গুম করছে, ক্রসফায়ারে দিচ্ছে, ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করছে, মামলা করছে। পুলিশ দেদারছে করে যাচ্ছে গ্রেফতার বাণিজ্য। চাকরির বাজারে টাকার ছড়াছড়ি, শিক্ষায় নকল, মসজিদে নজরদারিসহ গোটা জাতির পরিচয় ভচকে দেয়া একেকটি কাজ করে যাচ্ছেন সরকার মশাই। এতকিছুর পরেও এই কাপুরুষ বাঙ্গালের রাস্তায় নামতে সৎসাহসে কুলায় নাই। কারণ সরকারের এইসব স্বৈরাচারী আচরণে তাদের প্রতিবেশী কেউ কেউ অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এরা ছিল ক্ষয়-ক্ষতির বাইরে। নিজের গায়ে যতক্ষণ ঘা লাগে নি ততক্ষণ এরা চামচিকার মতো খোঁয়াড়ে ডিম পেড়েছে, তা দিয়েছে। এখন ফেসবুকহীন তুচ্ছ ঝক্কি ঝামেলা যখন ঘাড়ে এসে পড়লো তখন ঠিকই তারা অনেক প্রতিবাদী হয়ে উঠলো।
ফেসবুক ছাড়াও বাংলাদেশ তার জীবনের সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল সময়টি সফলতার সাথে অতিক্রান্ত করেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ তাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল সময়টি পার করছে। মানুষ হিসেবে অন্যায় কে অন্যায় হিসেবে স্বীকার করা, অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এখন বাঙ্গাল মানুষের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য খুবই দরকার। ফেসবুক এইখানে কোনও ম্যাটার না। মানুষের মৌলিক অধিকার, এবং সততার সাথে মানবতা বোধের জয় হলে ফেসবুক থাকলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, না থাকলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এভাবে কাপুরুষ স্বার্থপরদের চেতনার চাদর জড়িয়ে অনেক দেশ প্রেমিক সেজে খোঁয়াড়ে বসে বসে ডিম পাড়তে থাকলে বাংলাদেশ হয়তো ধুঁকে ধুঁকে টিকে থাকবে কিছুকাল, কিন্তু বাঙ্গাল মানুষ যদি ঘুরে দাঁড়াতে না পারে তাহলে বাংলাদেশ হেরে যাবে কাপুরুষদের স্বার্থপরতার জন্য। তখন অনেক জয়বাংলা করেও কাজ হবে না। অনেক ফাঁসি ফাঁসি করেও ঝাল মিটবে না। তাই স্বার্থের উপরে উঠে সবার জন্য এক হয়ে দাঁড়াতে হবে, তুচ্ছ ফেসবুকীয় ঝামেলার জন্য নয়।
দল ও মত নির্বিশেষে সত্য কে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা এবং অবিচার কে অবিচার বলতে শেখা অনেক জরুরী। চেতনার অজুহাতে অবিচার কে বিচার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং শুধুমাত্র এই অজুহাতে সকল স্বৈরাচারী অনাচারকে মেনে নেয়ার মধ্যে স্খলন ছাড়া আর কিছুই নাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




