
বহুদিন পর বিশেষ একটা কাজে রাস্তায় বের হলাম। পথে দেখলাম ছেলেটা একজনের প্যান্টের পকেট ধরে টানছে, আর বলছে 'আমাকে চিংড়ি কিনে দেন, চিংড়ি খাব...!' লোকটি ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিল, আমার কলিজায় খুব লেগেছে, কাছে যেতেই আবার সেই একই ভাবে আমার কাছে বায়না ধরল চিংড়ি খাবে। একটা চিংড়ি কিনে দিলাম, খুব খুশিতে খাওয়া শুরু করল।
সত্যি বলতে, আমরা এই পথশিশুদের অনেক বেশি অবহেলা করি, ৫ টাকার একটা খাবার কিনে দিতে আমাদের কলিজা ছিঁড়ে যায়, অথচ আমরাই আবার হাজার হাজার টাকা অকাজে কুকাজে ব্যয় করে বেড়াচ্ছি (!) আমরাই বাচ্চার বার্থডে পার্টিতে অহেতুক কাজে লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট করছি। বিবেকবোধ আমাদেরকে বাঁধা দেয়তো? নাকি বিবেকবোধ কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে? ফুটপাতে যখন পঁচা খাবারগুলো খাওয়ার জন্য এক শিশুর পিঠে অন্য শিশুটি ছড়ে খাবার নিয়ে খায়, তখন আপনি হয়তো গাড়িতে করে আপনার বাচ্চাকে হাতে খাবার ধরিয়ে দিয়ে স্কুলে নিয়ে যান, আপনার কলিজায় কি তখন আঘাত লাগে? নাকি আপনি তখনো অন্ধের মত না দেখার ভান করেন। আমাদের বাচ্চাদের জন্য আমরা বস্তায় বস্তায় খেলনা এনে বাসা ভর্তি করছি। গতকাল এক ভাইয়ের ফেবু স্ট্যাটাসে দেখলাম খাটের উপর বসে তার বাবুটা শ'খানেক খেলনা নিয়ে খেলছে (!) ওনার টাকা আছে, আছে বুকভরা শখ, কিনে দিতে অসুবিধে কোথায়? হয়তো উনি অন্যের শিশুকেও কিনে দেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষইতো অপচয় করছে, অপব্যয় করছে! কখনো কি অসহায়ের মুখে হাসি ফুটাতে ১০ টাকা ব্যয় করেছেন? যেমনি ভাবে আপনার সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে হাজার হাজার টাকার ব্যাগভর্তি খেলনা এনে অপচয় করছেন। অথচ একটা খেলনা কম এনে কিন্তু এই পথশিশুদের মুখে হাসি ফুটানোটা খুবই সহজ কাজ। আপনার ৫ টাকা ব্যয়ে ছোট্ট একটি মহৎ কাজই শেষ দিবসের দিনে আপনার মুক্তির ওসিলা হতে পারে। আসুন আমরা পথশিশুদের অবহেলা না করি, তাদের অবমূল্যায়ন না করি, তাদের পাশে দাঁড়াই দেশের সম্পদ হিসেবে তাদেরকে গড়ে তুলি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




