somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্ন পত্র ফাস ও একজন ন্যায় পরায়ণ শিক্ষকের করুন বাস্তবতা

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রকিব সাহেব সমস্ত বাংলাদেশের বিশেষ বিশেষ স্থানে জব করেছেন । কিন্তু কোথাও তিনি সামান্যতম সুবিধা পর্যন্ত পাননি ।তাই রাগে , দু:খে বার বার তিনি চাকরি ছেড়েছেন্ এবং ধরেছেন । অবশেষে, তিনি শিক্ষকতায় এলেন এই ভেবে যে অন্তত একটু সততার সাথে কায়ক্লেশে জীবন যাপন করার যাবে । ীভালই কাটছিল তার শিক্ষকতা জীবন । কিন্ত বিধীবাম সুখ আর সহ্য হল না । সেই অশ্লীল প্রবাদ বাক্যটির মত যে, মনে দু:খে বনে এলাম বানর কয় আমার -------------চুলকা ! সাথে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের সীমাহীন দূর্নীতি আর তারই ধারাবাহিকতার তিক্ত ফল প্রশ্ন পত্র ফাস ,ফাস খেলা ..........!!!!!!!!!!!!!!!!! . সেই আবদ্ধ পুকুরের ব্যাঙ আর দুষ্টু ছেলের দলের কথাই মনে পড়ে ।


তেমনী রকিব সাহেবের ভাগ্য ! তিনি কিছুদিন হল (তবুও মাস ছয় হল) একটা কেজি স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীতে ক্লাস নিলেন তাদেরকে পি এসি পরীক্ষার উপযোগী করে তুললেন এবং ভাল ভাবেই তুললেন । ছাত্র/ছাত্রীদের তিনি এত কনফিডেন্ট করে গড়ে তুললেন যেন তার জিপিএ পাঁচ পাবেই । সাথে সাথে তিনি ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে সবচেয়ে দুর্বল ছাত্র/ছাত্রীদের সম্পর্কেও অবহিত করলেন এবং ওদের দ্বারা জিপিএ পাঁচ পাওয়া সম্ভব তখনই যখন আবার ওদের ক্লাস ওয়ান থেকে নিবিড় পরিচর্চার মাধ্যমে বড় করে তুলে পরীক্ষা দেওয়ালে তবেই ।যাই হোক পরীক্ষা দেয়ানো হল এবং কি আশ্চার্য পরীক্ষার দিন রাতেই প্রশ্ন পত্র এসে হাজির !!!!! রকিব সাহেব এরকম কথা আগেই শুনেছিলেন কিন্ত বিশ্বাস করেনি । তবে তার প্রধান শিক্ষক তাকে সরাসরি না বললেও তার ১০০% সম্মতি ছিল যে রকিব সাহেব যেন ফাস হওয়া প্রশ্ন পত্র ছাত্র/ছাত্রীদের সরবরাহ করেন । কিন্তু তিনি তো তা করবেন না সে কথা কয়েক দিন আগেই প্রধান শিক্ষককে বলে দিয়েছিলেন। এই রাগে উনি (প্রধান শিক্ষক) ইংরেজী পরীক্ষার দিন আগের রাতে প্রশ্ন পেয়েও না পাওয়ার ভান করেন এবং পরীক্ষার দিন সকালবেলা ছাত্র/ ছাত্রীদের সাথে অত্যান্ত দুরব্যবহার করেন ! এবং তাদের কে মানসিক ভাবে নাজেহাল করে ফেলেন। কচি কচি ছাত্র ছাত্রী ভয়ে ডরে আহত পাখির মত হয়ে পরীক্ষার হলে যায় ! ইংরেজী পরীক্ষা প্রথম দিনে শেষ হয়ে গেল । এবং ভালরা ভাই করল ।কিন্তু দুর্বলরা একটু খারাপই করল কিন্তু সবাই পাশ করবে এমন পরীক্ষা দিল । পরের পাঁচটি পরীক্ষা :বিশ্বাস করেন পাঠক, হুবহু প্রশ্ন পত্র এনে প্রধান শিক্ষক নিজে সরবরাহ করেন তার উপর প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীও একজন শিক্ষিকা । এখানে বলে রাখা ভাল কেজি স্কুল টি একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারী ডিফেন্স পারসোনেলের তাছাড়াও তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে কোন প্রফিট নেন না । ঐ কেজি স্কুলের প্রতিযোগী আরও দুটি স্কুল আশে পাশে আছে ।
যাই হোক, প্রধান শিক্ষকের স্বয়ং প্রশ্ন সাপ্লাইয়ের মিশনে বাদ বাকী পাঁচটি পরীক্ষা ছেলেমেয়েরা হাসি মুখে জিপি এ পাঁচ পাওয়া প্রতিযোগীতা শেষ করল এবং তার ফলও বের হল গত ৩০ডিসেম্বর ২০১৪ । এর পরই রকিব সাহেবের কপাল পুড়ল ! ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন এ প্লাস পেল আরে বাকিরা বিভিন্ন গ্রেডে পাস করল । কিন্তু বাদ বাকী আরও দুটি কেজি স্কুলের সব পরীক্ষার্থীই জিপি এ পাঁচ পেল !!!!!!!!

ফলাফলে দেখা গেল ,রকিব সাহেবে স্কুলের শিক্ষাথীরা (ভাল গুলো ব্যাতিত) ইংরেজীতে খারাপ করেছে !

সবাই আঙ্গুল তুলল রকিব সাহেবের দিকে ! আপনি সততা দেখাতে গিয়ে আজ আমাদের প্রতিষ্টানের আজ এই অবস্থা !! আপনি যদি নকল সাপ্লাই দিতেন !!!! প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক থেকে শুরু করে গার্ডিয়ান এমন কি প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং রকিব সাহেবের উপর নাখোশ !!!
আমার অপরাধ আমি নকল সাপ্লাই দেই নাই ! এমনকি প্রধান শিক্ষকও একদিন বলে ফেললেন আপনি পড়াতে পারেন না !!!!!!!!!!!!!!


পাঠক বর্গ আত্ম পক্ষ বলছে এই কথা যে, তিনি যদি খারপই পড়াবেন তাহলে ১১ টা প্লাস পেল কি করে ?
যদি প্রশ্ন ফাস সিসস্টেম না খাকত তাহলে তো ফেলের হিসেবটাও করতে হতো !!! তাই নয় কি?

ফাস প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়ে আমরা শুরুতেই একটা অঙ্কুর কে আলো বাতাস থেকে দুরে রাখছি যার পরিনাম ঐ অঙ্কুর বা শিশুটির অবস্থা ভয়ঙ্গর তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি ?


একজন সত, নিষ্ঠাবান ন্যয়পরায়ন শিক্ষক আজ, পড়াতে জানেনা, পৃথিবী রকিব সাহেবে কাছে এখন আর সুন্দর মনে হয় না , তার কিছুই ভাল লাগে না ।

তার কেবলই মনে হচ্ছে ইস! যদি প্রশ্ন পত্র সাপ্লাই দিতাম তাহলে চাকরি টা হারাতে হত না !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:১১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষের মধ্যে এমন কেউ কী আছেন, যাঁরা AI-এর কাছে নিজেদের জ্ঞান, লেখার দক্ষতা কিংবা সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪




এআইকে বলে ছিলাম- তুমি বলতে গেলে একটা গেদা বাচ্চার মত। এর মধ্যে অনেক মানুষ তোমাকে হিংসা করে। বিষয়টা কি?

উত্তরে এআই বলল- হা হা! আপনার কথাটা শুনে হাসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুজুরের কি শরিয়াহ আইনে বিচার হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২


মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর জন্য খারাপ লাগছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ এবং এ নিয়ে লাইভ করার অভিযোগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×