somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালো থাকুক আমার প্রথম ভালো লাগা সুস্থ থাকুক আমার প্রথম অনুভূতি

১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রায় চার বছর আগের। আমি তখন একাদশ শ্রেণীতে পড়ি। আমাদের কলেজটা স্কুল এন্ড কলেজ ছিলো তাই পাশেই স্কুল ছিলো। তাই যা হয় আর কি বাঁদরামি করতাম খুব।প্রতি বৃহস্প্রতিবার তো আমাদের ঈদের দিন থাকতো বাজি ম্যাচ থাকতো সাইন্সের ছেলেদের সাথে আর খেলা শেষে গিয়ে সকলে দাঁড়াতাম স্কুলের মেয়েদের গেটের কাছে যা মজা করার বন্ধুরাই করতো আমি শুধু তাল মিলাতাম আর মাঝে মাঝে দু একটা কথা বলতাম আর সকলে হো হো হো করে হাসতো।তবে হা আমরা কিন্তু কোন মেয়েদের বিরক্ত করতাম না এমন কিছুই করতাম যা দেখে তাঁরা বিরক্ত হতো না বরং বিনোদন পেতো।

তখন আমাদের কলেজের বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা হচ্ছিলো এই ফেব্রুয়ারি হবে হয়তো এক বারেই নতুন কলেজে উঠেছি কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই। লং জাম্প শেষ করে যাচ্ছিলাম ফ্রেস হতে আর তখনই একজনকে দেখলাম দেখে তো ভুলেই গেলাম সব দেখতেই থাকলাম সকাল এগারটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত।আমার ঐভাবে দেখা দেখে সেও তাঁর কলাকৌশল দেখাতে লাগলো।সত্যি কথা বলতে প্রেম জিনিষটা কি আমি তখনও বুঝিই না।ওটাই ছিলো আমার জীবনের নিজ চোখে দেখে চোখে বিঁধে যাওয়া প্রথম মেয়ে।প্রতিদিন সকাল ছয়টায় গিয়ে মেয়েটার বাসার গেটে দাঁড়িয়ে থাকা,বৃষ্টি এলে দেখিয়ে দেখিয়ে ভেজা,ক্রিকেট খেলার সময় তাঁকে দেখানোর জন্য একটু সজোরে শট নেওয়া আরো কতো কি করতাম তাঁর ইয়াত্তা নেই।কিন্তু কখনো সাহস করে সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারি নি বলতে পারি নি আমি না তোমাকে আমার সাথে সারাজীবন রাখতে চাই।আমার খুব আগের থেকেই এমন মনে হতো চিন্তাই করতাম ভালো লাগলে সারাজীবন রেখে দিবো কিন্তু কখন ভালো লাগা আসলো না যখন আসলো তখন আর বলা হলো না।

ঠিক চার কি পাঁচ দিন আগে আমাদের বাসার থেকে একটু দূরে মিরপুরের কচুক্ষেত নামক পুলাপাড় এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল নিধারুণ হতাশা নিয়ে শলাকা পান করতে করতে আর ভাবছিলাম কি হবে আসলে আমার ছিঁড়ে ফাঁড়া জীবনে! শলাকায় একটা টান দিয়েই সামনে তাকাতেই মুখটা খুব পরিচিত লাগলো খুব পরিচিত সেও তাকিয়ে ছিলো তাকাতে তাকাতেই তাঁকে পাড় করে ফেললাম।শলাকাতে দুটা সজোরে টান দিয়েই মস্তিষ্ককে পেছনে ঠেললাম আর কয়েক মিনিটের জন্য চিন্তা করলাম চেনা মুখ কে যেনো এটা। ও হা মনে পরেছে সেই চার বছর আগের মেয়েটি না ইসারাত না!!!!!

পেছনে ফিরে দেখি অনেক দূরে চলে গেছে তাই চিন্তা করলাম কথা বলে আসি এখন তো আর আমিও ছোট নেই আর সেও নেই।
পেছন থেকে গিয়ে সোজা সামনে চলে গেলাম।

-আগের অভ্যাসটা যায় নি এখনো তাই চলে আসলাম খালি একটু পার্থক্য আগে আসতে পারতাম না এখন সামনে এসে পরেছি, কেমন আছ? নিশ্চয়ই ভালো?
-হা ভালো আছি আপনি কেমন আছেন?
-আমিও, তুমি তোমার বাসা ছেড়ে চলে গেছিলে আমি খুঁজেছিলাম অনেক তোমার বাসার দরজা পর্যন্ত গিয়ে ফিরে এসেছিলাম ভয়ে।শুনেছিলাম দু বছর আগে তোমার নাকি বিয়ে হয়েছে আর চলে যাওয়ার এক বছর পরে শুনেছিলাম তোমার প্রেমিকটা খুব ভালো
-কে বলেছে আপনাকে! হা শুনতেই পারেন!আমি পড়াতে যাবো এখন!
-আচ্ছা আমিও আসি সাথে যদি সমস্যা না হয়!
-আসুন সমস্যা নেই। তো কি অবস্থা আপনার আগের মতোই দেখি আছেন!
-হা আগের মতোই আছি বদলানোর সুযোগ পেলাম না। পড়ছ কোথায়?
-ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে আপনি নিশ্চয়ই ভার্সিটিতে পড়ছেন
-বাহ বড় হয়ে গেছো,তুমি তো বেশ মুটি হয়ে গেছো!! হা ভার্সিটিতেই পড়ছি। তো কি এখনো আগের মতোই আছ?
-একটু হয়েছি!!হে এখনো আগের মতোই আছি, আচ্ছা আমার যেতে হবে ফ্রেন্ড দাঁড়িয়ে আছে আমি যাই!!
-আচ্ছা যাও হয়তো আর দেখা হবে না কখনো আর আজ হয়ে গেলো এক্সিডেন্টের মতো
-ভালো থাকবেন বায়

চলে যাবার আগে ডাক দিতে গিয়েও থেমে গেলাম নাহ থাক পুরনো অনুভূতি চলে যাওয়াই ভালো, চেয়েছিলাম ফোন কিংবা ফেইজবুক আইডি নিবো কি মনে করে আর নেওয়া হলো না আর তাঁর সাথে আমার এমনই হতো চার বছর আগে দূর থেকে দেখা,একটু হাসি আর তাতেই বন্ধুদের একটা শলাকা পার্টি দিয়ে দিতাম আর ঠিক পাঁচ বছর পরেও তাই হলো পার্থক্য এতোটুকুই যে প্রথমবারের মতো কথা হলো কিছু সময়ের জন্য। ভালো থাকুক আমার প্রথম ভালো লাগা সুস্থ থাকুক আমার প্রথম অনুভূতি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৩৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এটাই কি সামুর প্রথম পোস্ট?

লিখেছেন অধীতি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩১


https://www.somewhereinblog.net/blog/deborah/9
২০১৩ সালের দিকে ঢাকায় আসি। তখন মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছি। ঢাকায় এসে যেই বিষয়টা নেশার মত হয়ে যায় তা হলো বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর জায়গা ছিল। ডেমরা রানী মহল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×