somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের একটি অভিজ্ঞতা

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ও আমার ৫জন বন্ধুরা মিলে একটি মেলাতে গিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে ৩৫কিমি. দূরে সেই মেলা টি বসেছিলো। রাস্তা তে দারুন মজা করেছি আজ। সারা রাস্তায় হইহুল্লোর করতে করতে গলাব্যথা হয়েগেছে একেবারে। পুরো রাস্তা আমিই ড্রাইভ করেছি।

মেলাতে যখন পৌছলাম তখন ঘড়িতে ১২টা ৩০ বাজে। সেটি ছিলো হস্তশিল্প মেলা। আমার নেবার মতো কিছুই পেলাম না সেখানে। তবে একটা ছোট সাইজের ঢোল কিনেছি ৫০রুপি দিয়ে। সেখানে প্রচুর খাবার দোকান বসেছিলো। আমি সাধারনতো বাইরের কিছু খাই না। সবাই বললো, আমি না খেলে অরাও খাবে না। তাই বাধ্যহয়ে পাটিসাপ্টা আর পায়েস নিয়ে বসলাম। ঠিক তখনই দলবেধে জনাসাতেক ডানাকাটাপড়ীর আগমণ হলো সেই খাবারের দোকানে। সেই দেখে আমার বন্ধুদের তো চোখ ছানাবড়া! আর, সেই পড়ীদের দলটি ইন্টেনসনালি ঠিক আমাদের সামনের টেবিলগুলোতে বসলো। সে কি নেকামি তাদের! ইস! চোখে দেখা জায়না সেইসব। বন্ধুদের মুখেসুনেছি "কলকাতার মেয়েদের নেকামি নাকি বিশ্বপ্রসিদ্ধ"। তারই প্রমান সেখানে পেলাম।
দু-একটা নেকামি তুলেধরছি -
১) এই! সাকা(সাগরিকা)... লঙ্ক(ক্যপসিকাম)গুলো কি ঝাল... ইস! কেন যে দেয় এইসব, একেবারে স্টুপিড কোথাকার!!
২) এই! মনা! চিমটি কাটছিস কেন রে... এক থাপ্পর দেবো... বলেদিলাম...!
৩) ওহ! এই ওয়েটর দাদাভাই! জানালাটা বন্ধো করেদেবে প্লিজ...ডাস্ট আসছে... সোওও সুইট...!
ইত্যাদি... ইত্যাদি...
আমি পায়েস খাচ্ছি আর এইসব নেকামি উপভোগ করে করে দেখছি। এমন সময় আমাকে খোচা দিয়ে একবন্ধু ফিস ফিস করে বল্লো...ওকে নাকি, ডানাকাটাপড়ী দের একজন চোখ মেরেছে! আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। আমি বললাম "কোই বুঝতে পারলাম না তো!"। ও আমাকে বল্লো "তুই একেবারে হাদারাম!"। আমি বললাম "হবে হইতো"। তারপর আমার বন্ধুরা বল্লো, "এই হুলো...চল, লাইন মেরে আসি"। আমি বললাম "ওরে বাবা, আমার দারা লাইন-টাইন মারা হবে না"। ওরা বলল "এই নিরামিস পাব্লিক কে, যে কেনো নিয়ে আসি ভগোবানই জানে"। আমি বললাম "জা ইচ্ছা বল... আমি জানো না"। আমি তো তাজ্যব বোনেগেলাম... ওদের পজেটিভ সাইনে সারা দিয়ে ৫জন মেয়ে ওদের সাথে মেলাতে বেরাতে চলে গেলো... আমাকে একলা ফেলে রেখে...! আমার তো খুব মন খারাপ হয়ে গেল। আমি সেই দুখ্যে ২ বাটি পায়েস খেয়েফেল্লম। জখন বিল দেবার জন্য উঠতে জাবো ঠিক সেই মুহুরতে... একখানা পড়ী কাচুমাচু মুখ করে ফিরে এসে আমার সামনে ধপ করে বসে পরলো। আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। আমি, চুপ করে বসে থাকলাম। পড়ী... খুব রেগে আছে বলে মনে হচ্ছিল। বির বির করে কাউকে "স্টুপিড" বলে গাল দিচ্ছিল। আমি ভাবলাম আমাকে দিচ্ছে বোধহয়। আমি তাই, তারাতারতি করে উঠে পরলাম সেখান থেকে। ওরে বাবা... ঠিক সেই সময় পেছন থেকে পড়ী আমাকে উদেশ্য করে বল্লো..."আমি কি এখানে একা বসে বসে পায়েসের বাটি গুলবো!! আমি তারকাছে ফিরে গিয়ে বললাম "কিছু বললেন ম্যডাম?"। ও বলল "জাহ! বাবা... এ আবার আমায় ম্যডাম বলে"। আমি বেস বুঝতে পারলাম সে খুব অগ্রেসিভ হয়ে উঠেছে। আমি বললাম "আমি তাহলে এখানে বসি!"। ও বল্লো "হ্যা"। আমিও চুপ ও চুপ।

আমি আবার মেয়েদের ব্যাপার-স্যপার বুঝি না। তাই তার রুপ আমাকে মোটেই আকৃষ্ঠ করতে পারছিল না। আমি বসে বসে বিরক্তই হচ্ছিলাম।

তারপর দেখি পড়ী আমাকে জিজ্ঞেস করলো "কি নাম তোমার?"।
আমি বললাম "_ _ প"।
ও বলল "বাহ! আমি অ্যস!" (মনে মনে ভাবছিলাম...খেয়েছে!!!)
আমি বললাম "ও"।
ও বলল "কি করা হয়?"
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম "ভিক্টোরিয়া তে চানাচুর বিক্রি করি"
ও বেস সিরিআস হয়ে বলল "রেট কতো!!!"
আমি বললাম "ফ্রি সাভিস দি"।
ও বলল "কেন! তোমার তো প্রাপ্য অনেক বেশি হয়া উচিত! তুমি তো রিতিমতো সেক্সি!"
আমি খেপেগিয়ে বললাম "হোআট ডু ইউ মিন????"
ও হাসতে হাসতে বলল "জাস্ট জোকিং"।
আমি বললাম "সবাই কখন আসবে???"
ও বলল "জানিনা"।
আমি বললাম "আমি চললাম!"
ও বসে বসে চেচাতে লাগলো "আমি কি একা বসে থাকবো??!!"
আমি বললাম "জানিনা।"
তা পর রেগেমেগে আমি একাই ড্রইভ করে চলে এলাম।

সন্ধাবেলায় জাদের সাথে মেলা দেখতে গেছিলাম... সবাই আমাকে "সরি" বলতে এসেছিলো।
আমি বললাম টিক আছে !!!!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×