
আপনাদের কাছে কেমন লাগে?আই মিন প্রানী হিসাবে কি রয়েল বেঙ্গলল টাইগার অন্যতম সুন্দর প্রানীদের কাতারে পড়ে না?কি চমৎকার শক্তিশালী এর গঠন!কি উজ্জ্বল গায়ের রঙ!কি চলন!কি হুঙ্কার!এই চমৎকার প্রানীটির আবাসভূমি আমাদের সুন্দরবন।কিন্ত দু:খের বিষয় বিভিন্ন কারনে বাঘের সংখ্যা এত হ্রাস পেয়েছে যে পৃথিবীর এনডেঞ্জারড প্রানীদের তালিকায় এর নাম রয়েছে।আমাদের এই অসীম শক্তিশালী প্রানীদের রক্ষায় যা কিছু করা সম্ভব তার সবকিছুর জন্যেই আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।তাইনা?
বেশ ছোটবেলা থেকেই আমার রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতি প্রচন্ড দূর্বলতা আছে।যতই অবাক লাগুক কিন্ত আমার প্রিয় প্রানী বাঘ।জীবনের অনেকগুলো আজিব ইচ্ছার মধ্যে একটা হচ্ছে বাঘের বাচ্চা কোলে নেয়া (আসলে বড় বাঘই নিতে ইচ্ছা করে কিন্ত এই চেষ্টা করতে গেলে ঘাড় মটকে দিতে পারে তাই- - -)আপনি বলবেন বাঘ হিংস্র এবং নিষ্ঠুর! মানছি কথাটা মিথ্যা নয় কিন্ত এটা একই সাথে ভীষন কিউট।কারন এটাতো আসলে একটা বিশাল বিড়াল ছাড়া আর কিছু নয়।আমার কাছে 'ভয়ংকর হলেও সুন্দর'= 'ভয়ংকর-সুন্দর'(নিপাতনে সিদ্ধ সমাস)।আমি যখন ছোটকালে প্রথম বাঘ কোলে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম আমার মা তখন ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।আমার বিশ্বাস সেদিন প্রথম তার নিজ সন্তানের মাথার সুস্থতা নিয়ে মনে সন্দেহ জেগেছিল।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris tigris(প্যান্থেরা টাইগ্রিস টাইগ্রিস)। রঙ উজ্জ্বল হলুদ আর কালোর ডোরাকাটা,পেটের কাছটা সাদা।পুড়ুষ বাঘ প্রায় ২৭০-৩১০ সে,মি লম্বা হয়----ইত্যাদি ইত্যাদি
ধুর!এগুলো তো যে কেউ নেট থেকে জেনে নিতে পারে।আমি আসলে গতকালের বাঘ দিবস উপলক্ষ্যে সংগ্রহে থাকা কিছু ছবি নিয়ে একটা পোস্ট দিতে চাই।হঠাত মাথায় এল এটাকে কেননা একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করা যাক।সো লেডিছ এন্ড জেন্টেলম্যান,মে আই প্রেজেন্ট স্বল্পদৈর্ঘ্য বাঘচিত্র "দ্যা মাইটি বেঙ্গল টাইগার"।
একদিন সকালে:
বাংলা বিহার উড়িষ্যার মহান অধিপতি আমি মজনু দ্যা মাইটি বেঙ্গল টাইগার। আমায় দেখে মানুষ দৌড়ে পালায়।হরিণ মহিষ এক ঘাটে জল খায় (লুকায়ে)

সুন্দরবন এর পোলা ভেরি ভেরি স্মার্ট।

এতদিন তো ভালই ছিলাম কিন্ত এখন শয়নেস্বপনে শুধু একটাই চেহারা--ঐ পাড়ার মরজিনা!!আমি কি ওর মন পাব?

হাগু করতে বসলাম কেউ দেখে ফেলল না তো।ছি ছিঃ! ঐ তো মরজিনা যায়।এখন আমি কোথায় পালাই!

মরজিনা ডার্লিঙ কই যাও একটু দাঁড়াও।মুখপোড়া হনুমান কে দিয়ে গতকাল যে তোমার কাছে চিঠি পাঠালাম তার উত্তর দিলানা যে!

তোমার মত মাঠে হাগু করা বাঘের সাথে প্রেম করতে আমার বয়ে গেছে।তাছাড়া আমি তো আগেই বলেছি যে আমাকে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন খাওয়াবে আর বসুন্ধরা সিটিতে শপিং করাবে আমি তারই সাথে প্রেম করব।

ইয়ে মানে ডার্লিং!ওখানে তো অনেক মানুষ।ইয়ে মানে আমাদের পিঠের ছাল এত সুন্দর,এটাও তো এভাবে নষ্ট করার রিস্ক নেয়া যায় না।তাছাড় পলুশনে যদি তোমার র্যাস ওঠে।চলে যাচ্ছ!একটু দাঁড়াও কথা শোনো!!!
এখন যাও কিন্ত একদিন ঠিকই তুমি আমার হবে।আমার ভালবাসা একদিন সার্থক হবে।

আমি বেচে থাকতে তা কখনওই হতে পারবে না।মরজিনা শুধু আমার।

অই আক্কাস মুখ সামলাইয়া কথা কইস।তুই কার জানে হাত দিসস জানস না!আই তর কইলজা টাইনা ছিঁড়া ফালাই।
ইয়াইক!! ঢিসুম!ঢিসুম!

সেদিন বিকালে:
ঐ আক্কাস দেখ ঐ যে মাল যায়।
কোন মাল রে কুদ্দুস?
মাল আবার এ জঙ্গলে কইটা আছে?দেখ মরজিনা যায়।
আহ! কি রূপ।উফ! কি চলন!!
(একসাথে)♪ মরজিনা চলেছে একা পথে সঙ্গী হতে দোষ কি তাতে---
♪♪ডোরাকাটা বাঘ পাগল করেছে--
♪♪ তু তু তু তুতু তারা,মরজিনার বাপ মার্কা মারা--

অই আক্কাস,অই মফিজ,অই কুদ্দুস!!মুখ সামলাইয়া কথা ক।নাইলে কিন্ত জান কবজ কইরা ফালামু।

কত্ত বড় হা দেখছস?দাঁতের ধার দেখছস।সবকইটারে এক্কেবারে গিলা ফালামু।এখন থেইকা ওরে ভাবি বইলা ডাকবি।

উফ! এই ছেলেগুলো যে কি?সারাদিন খালি মারামারি আর ঝগড়াঝাঁটি।একটুও রাস্তাঘাট বেড়ানো র উপায় নেই। যাই দেখি সখিনা বিউটি পারলার থেকে ফেসিয়ালটা করে আসি।

পরদিন দুপুরে:
♪♪ লা লা লা।আহ! কি সুন্দর রোদ।আশেপাশে কেউ নাই।এই সুযোগে নদীতে নেমে গোছলটা সেরে ফেলি।♪♪ রূপে আমার আগুন জ্বলে যৌবন ভরা অঙ্গে---

আরে মরজিনা সুন্দরী দেখি গোসলে নামছে--

ভিগি হোঠ তেরে,পেয়াসা দিল মেরা---

আসো সুন্দরী!! ব্লু হে আজ পানি পানি,তুমি আমার রানী রানী ---
আরে আক্কাস।ছেড়ে দে আমাকে,ছেড়ে দে বলছি! কে কোথায় আছ বাঁ চাও-- বাঁ আ আ আ চাও!! তুই আমার দেহ পাবি কিন্ত মন পাবিনা।অইটাই তো চাই। হি হা হা হা।

আমি আসছি মরজি ইইইনা আ আ!!

আক্কাইসা আইজ আর তর নিস্তার নাই

আইজ তরে ছিঁইড়া ফালামু

আইজ তর কল্লা খামু তুই আমার মরজিনার ইজ্জত নিয়া ছিনিমিনি খেলিস!!

অয়াইক ঢিসুম!ইয়াইক ঢিসু ঢিসু ঢিসু!!
ইয়া আ আ টিগিস!!!

তোমারে যে কি বলে ধন্যবাদ দিব বুঝে পাচ্ছিনা।তুমি আমার আসল হিরো এতদিনে বুঝলাম।

তাইলে বলনা ভালবাসি।তোমারে একটা চুমা দিই।আরে লজ্জা পাউ কেন?আমি তো তোমারি মজনু।

চল আমাদের মিলনের খুশিতে আমরা পানি ওয়ালা ডান্স করি।

এক বছর পর:
মরজিনা:এই যে তোমার প্রথম সন্তান।মজনু:মাশাল্লা!! এক্কেরে তোমার মতন কিউট হইছে।এর নাম দিলাম মিন্টু

মরজিনা:এই যে বাকিগুলা।
মজনু:এর নাম পিন্টু,ওর নাম চিন্টু আর ওইটার নাম--- হায় হায় এত্তগুলা কেন?নামে তো শর্ট পড়তাছে!তাও আবার সব ছেলে বাচ্চা!আমায় কি জঙ্গল ছাড়া করবা মরজিনা?আমি তো খালি একটা চুমাই দিছিলাম।
উফ!ঢং কইরো না চুমা দিয়ার পর কি করছিলা মনে নাই?তখন তো আর হুস ছিলনা আর এখন আমার দোষ!!

কয়মাস পর:
আব্বা কোলে নাও।

আব্বা পটি করাই দাও।

আব্বা আমরা স্টারের শিক কাবাব খাব।

এদের জ্বালায় জীবন ত্যাজপাতা হইয়া গেল।এখন বুঝি কেন মানুষ বিয়েকে দিল্লীর লাড্ডু বলে।আহা!আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।

আরে দারুণ তো!!পড়েনা চোখের পলক কি তোমার রূপের ঝলক!

উফ!যা গরম!ভদ্র বাঘরা কি এই অজ জঙ্গলে থাকতে পারে?

এই মিন্টুর বাপ।যেদিন থাইকা পাশের বাসায় বিদেশী বাঘ আইছে সেইদিন থাইকা তুমি দেখি উঁকিঝুঁকি মারতাছ।আমি কইলাম বাপের বাড়ি চইলা যামু।

না জানেমান।রাগ কইরো না এই দেখ তোমার জন্য ফুল তুইলা আনতেছি।আমি তো তোমারেই ভালবাসি।

ভালবাস না কচু।ফরসা রঙ দেইখা তোমার মাথা নষ্ট হইয়া গেছে

এমন কত কালা ধলা বাঘ আইব যাইব কিন্ত তুমি চিরকাল আমার।
♪♪♪চিরদিনি তুমি যে আমার,যুগে যুগে আমি তোমারি।সঙ্গী আমারা অমর সঙ্গী ---

এই গল্প গুলো বেঁচে থাক,বাঘ বেঁচে থাক।
সেইভ দ্যা টাইগার্স।
ছবি:ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



