
লা মাযহাবী সম্প্রদায় ফিকাহ মানাকে বলছে তাকলিদ বা ব্যক্তি অনুসরন অথচ বোখারী শরিফ মানাকে তাকলিদ বা ব্যক্তি অনুসরন না বলে হাদিসের অনুসরন বলছে।অথচ ব্যক্তি ফিকাহতে কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী মাসয়ালা লিখেছেন আর ব্যক্তি বোখারী শরিফে হাদিস লিখেছেন।তাহলে একটা ব্যক্তি অনুসরন হবে আরেকটা কেন হবেনা? ফিকাহতে হাদিসের সাথে কোরআন যুক্ত হওয়াতে কি হাদিসের জাত গেল নাকি? সমস্যাটা তৈরী হয়েছে ফিকাহ ও হাদিসের কিছু গরমিল নিয়ে। এখন প্রশ্ন হলো উক্ত গরমিলে ফিকাহ সঠিক নাকি হাদিসের কিতাব সঠিক? গরমিলের ক্ষেত্রে হতে পারে ব্যক্তির লেখা হাদিস মহানবির (স.) নয়, অন্যের হাদিস মহানবির (স.) নামে চালানো হয়েছে।হতেপারে ব্যক্তির মাসয়ালা সংক্রান্ত কিয়াছের কোরআন ও হাদিসের ভিত্তি নেই।এ ক্ষেত্রে যেটার সঠিকতা নিশ্চিত হওয়া যাবে সেটাই মানতে হবে। এক্ষেত্রে হানাফী ফিকাহ যে কোন হাদিস গ্রন্থের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।কারণ সহিহ লেখা হাদিস গ্রন্থ সমূহে রয়েছে অসংখ্য ভুল।এগুলোর নাম থেকেই ভুলের শুরু।যেমনঃ-
আল্লাহ বলেছেন তাঁর কিতাবে ভুল নেই। তারমানে আল্লাহর কিতাব সহিহ বা শুদ্ধ। বোখারী (র.) বলেছেন তাঁর কিতাব সহিহ বা শুদ্ধ।কিন্তু আল্লাহ আলেমুল গায়েব, বোখারী (র.) আলেমুল গায়েব নন।আল্লাহর কিতাব আল্লাহর বাণী। বোখারীর কিতাব মহানবির (স.) হাদিস হলেও বোখারী (র.) সেটা মহানবি (স.) থেকে প্রাপ্ত নন।তিনি সেটা প্রাপ্ত হয়েছেন পঞ্চম রাবী থেকে। যার চারজন রাবীর সাথে বোখারীর (র.) সাক্ষাত ঘটেনি। আর বোখারী (র.) পঞ্চম রাবীর উপর দেখেছেন ভিতর নয়।কাজেই আল্লাহর তাঁর কিতাব শুদ্ধ বলা ও বোখারীর (র.) তাঁর কিতাব শুদ্ধ বলায় পার্থক্য অনেক।আল্লাহর কিতাবের কোন তথ্য কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। কিন্তু বোখারীর (র.)ভ্রুণ সংক্রান্ত হাদিসে পরিবেশিত তথ্য শতভাগ ভুল প্রমাণ করেছেন, বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান গ্রন্থের লেখক ড. মরিচ বুকাইলি।বুকাইলি বলেছেন সমাজে প্রচলিত কিছু কথা অনেকে কায়দা করে মহানবির (স.) নামে চালিয়ে দিয়েছে। যা হাদিসের কিতাব সংকলকগণ সনাক্ত করতে পারেননি।তাতে করে যা মোটে মহানবির (স.) হাদিস নয় তা’ সহিহ হাদিস পরিচয়ে বিদ্যমান রয়েছে।তিনি বলেছেন যিনি হাদিস সংকলন করেছেন এর দায় তাঁর নয়, এর দায় হাদিসের রাবীর। যাদের অনেকের সাথে হাদিস সংকলকের সাক্ষাত ঘটেনি।এখন ভুল হওয়ার এমন সম্ভাবনার মধ্যে হাদিস সংকলক তাঁর কিতাবকে সহিহ ঘোষণা করলেন কেমন করে? আল্লাহ তাঁর কিতাব সহিহ বলবেন বিধায় তাঁরাও কি তাঁদের কিতাব সহিহ বলতে পারেন? তাদেরতো আলেমুল গায়েব হওয়ার যোগ্যতা নেই।কাজেই এসব হাদিস গ্রন্থের নাম থেকেই ভুলের শুরু।কাজেই ফিকাহ ছুড়ে ফেলে এসব হাদিস গ্রন্থের অনুসারী হওয়া যুক্তি সংগত নয়। আর মাযহাব বাদ দিয়ে লা মাযহাবী হওয়াও যুক্তি সংগত নয়।
কোরআন সহিহ হওয়ার আরেকটি কারণ যিনি কোরআন সংকলনে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন,তিনি মহানবী (স.) থেকে কোরআন সরাসরি শুনে মুখস্ত করেছেন, এরপর হাফেজে কোরআনদের সাথে মিলিয়ে তিনি কোরআন সংকলন করেছেন।কিন্তু সহিহ হাদিসের দাবী করা গ্রন্থের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেনি।কাজেই এসব গ্রন্থের তাপে গলে মাযহাব ছাড়ার দাবী শক্তিশালী নয় বিধায় সে দাবী বরাবর অগ্রাহ্য হয়ে আসছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১৮ সকাল ৮:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


