somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সনেট কবি
সনেট কবি রচিত সনেট সংখ্যা এখন ১০০৪ (৫ জানুয়ারী ’১৯ পর্যন্ত) যা সনেটের নতুন বিশ্ব রেকর্ড, পূর্ব রেকোর্ড ছিল ইটালিয়ান কবি জিয়েকমো দ্যা ল্যান্টিনির, তাঁর সনেট সংখ্যা ছিল ২৫০।

পরমাত্মার সান্নিধ্য

১৭ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পরমাত্মা মানে অসীম আত্মা।যাঁকে গুটানো যায়না। গুটাতে সীমানা লাগে যা ধরে গুটানো হয়। তো যদি সীমানাই খুঁজে পাওয়া না যায় তবে গুটানো হবে কি ধরে? আর অসীমের সীমানা খুঁজে পাওয়া যায়না।অসীমকে কোন স্থান থেকে হটিয়ে দিয়ে কোন স্থান অসীম মুক্ত করা যায়না। এ জন্য অসিমের নিবাস সর্বস্থান।এ জন্য পরমাত্মা আল্লাহ সর্বত্র বিদ্যমান।
কিন্তু জীবাত্মা সর্বত্র বিদ্যমান নয়। এ জন্য জীবাত্মা একস্থান থেকে সরিয়ে অন্য স্থানে রাখা যায়।যখন জীবাত্মাকে এর পূর্বস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তখন সে স্থান জীবাত্মা মুক্ত হয় বা প্রাণ হারায়।প্রাণ হারালে সে স্থান আর টিকে থাকেনা। সেটা আস্তে আস্তে ধ্বংস হতে থাকে।
পরমাত্মা বা আল্লাহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে কর্ম পরিচালনা করেন।আল্লাহর কর্ম পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র আরশে আজিম। এছাড়া তাঁর আরো অনেক সকর্ম পরিচালনার কেন্দ্র বা আরশ রয়েছে।যখন মু’মিনের দিলকে তিনি আরশ বানিয়ে নেন তখন মু’মিন তাঁর প্রত্যক্ষ অনুভূতি অর্জন করে। তখন সে মু’মিনকে আর তাঁর থেকে সরানো যায়না।
সুফিবাদ শিখায় কিভাবে দিলকে আল্লাহর আরশ বানানো যায়।তো দিল যখন আল্লাহর আরশে পরিণত হয় তখন দিল আল্লাহর এক একটি দূর্গে পরিণত হয়।তখন আর দিলকে আল্লাহ থেকে সম্পর্কহীন করা যায়না।শয়তান এ সব দিলকে সহজে ঈমান হারা করতে পারেনা বিধায় এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে শয়তানদের তীব্র রাগ। হক্কানী পীরগণ এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিধায় শয়তানেরা মাঝে মাঝে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
মু’মিনের দিল যখন আল্লাহর আরশ বা কর্ম পরিচালন কেন্দ্র হয় তখন সে মু’মিনকে আল্লাহ সে কেন্দ্র থেকে শয়তানদের থেকে সুরক্ষ প্রদান করতে থাকেন।শয়তানেরা সে মু’মিনকে তখন আর কিছুতেই আল্লাহর পথ থেকে সরাতে পারেনা। শয়তানেরা তখন যতই কূ-পথ দেখায় সে মু’মিন তখন আর কূ-পথ দেখেনা শয়তানেরা তখন সে মু’মিনকে অন্ধ বলে। এ অন্ধ বলার কারণ শয়তানের পথ না দেখা।
জীবাত্মার পরমাত্মার সাথের এ সীল মারা সম্পর্ককে পরমাত্মার সান্নিধ্য বলে।এর দ্বারা দুনিয়াবী লাভ তেমনটা না হলেও পরকালিন লাভ যথেষ্ট পরিমাণে হয়। কারণ কোন রকমে ঈমান নিয়ে মরতে পারলেই কোন না কোন সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি ঘটবে।
পরমাত্মার সান্নিধ্যে ঈমানের সুরক্ষা মিলে তবে আমল না করলে জাহান্নামে তো যাওয়া লাগবেই।আমল অনেক সময় করেনা আলস্য ও খামখেয়ালীর কারণে। যেহেতু আমলের আদেশ রয়েছে সেহেতু আমল না করলেতো বিপদে পড়ার কথা। এরপর কে কি মনেকরে বা না করে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়।কারো মনে করা আর বাস্তবতা এক নয় বরং বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাজেই পরমাত্মার সান্নিধ্য মিলে গেলেই আমল থেকে ছুটি মিলে যাবে ঘটনা এমন নয়। বরং তখনও পুরোদমে আমল করতেই হবে।আরআমল ছেড়ে দিলে সান্নিধ্য একদা ছুটে গিয়ে আম ও ছালা দু’টোই যেতে পারে।কাজেই যে সব পীর সাহেব ও মুরীদ সাহেব খামখেয়ালী করছেন তারা ভুল করছেন।শুদ্ধটা হলো আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য ঈমান ও আমল দু’টোই দরকার।

বিঃদ্রঃ পীর ছাড়া কারো দিল আল্লাহর আরশে পরিণত হয়ে থাকলে আওয়াজ দিয়েন। আর কিভাবে তা’হলো সেটাও বলে দিয়েন। তবে লোকেরা পীরের কাছে না গিয়েই কার্য হাসিল করতে পারবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৭:২৪
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৮



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

​ক্যালেন্ডারে নামটা দেখেছেন হয়তো— ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
​ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছেন যারা, তাদের অনেকের কাছেই নামটা পরিচিত। কারণ, এই নামটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×