
পরমাত্মা মানে অসীম আত্মা।যাঁকে গুটানো যায়না। গুটাতে সীমানা লাগে যা ধরে গুটানো হয়। তো যদি সীমানাই খুঁজে পাওয়া না যায় তবে গুটানো হবে কি ধরে? আর অসীমের সীমানা খুঁজে পাওয়া যায়না।অসীমকে কোন স্থান থেকে হটিয়ে দিয়ে কোন স্থান অসীম মুক্ত করা যায়না। এ জন্য অসিমের নিবাস সর্বস্থান।এ জন্য পরমাত্মা আল্লাহ সর্বত্র বিদ্যমান।
কিন্তু জীবাত্মা সর্বত্র বিদ্যমান নয়। এ জন্য জীবাত্মা একস্থান থেকে সরিয়ে অন্য স্থানে রাখা যায়।যখন জীবাত্মাকে এর পূর্বস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তখন সে স্থান জীবাত্মা মুক্ত হয় বা প্রাণ হারায়।প্রাণ হারালে সে স্থান আর টিকে থাকেনা। সেটা আস্তে আস্তে ধ্বংস হতে থাকে।
পরমাত্মা বা আল্লাহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে কর্ম পরিচালনা করেন।আল্লাহর কর্ম পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র আরশে আজিম। এছাড়া তাঁর আরো অনেক সকর্ম পরিচালনার কেন্দ্র বা আরশ রয়েছে।যখন মু’মিনের দিলকে তিনি আরশ বানিয়ে নেন তখন মু’মিন তাঁর প্রত্যক্ষ অনুভূতি অর্জন করে। তখন সে মু’মিনকে আর তাঁর থেকে সরানো যায়না।
সুফিবাদ শিখায় কিভাবে দিলকে আল্লাহর আরশ বানানো যায়।তো দিল যখন আল্লাহর আরশে পরিণত হয় তখন দিল আল্লাহর এক একটি দূর্গে পরিণত হয়।তখন আর দিলকে আল্লাহ থেকে সম্পর্কহীন করা যায়না।শয়তান এ সব দিলকে সহজে ঈমান হারা করতে পারেনা বিধায় এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে শয়তানদের তীব্র রাগ। হক্কানী পীরগণ এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিধায় শয়তানেরা মাঝে মাঝে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
মু’মিনের দিল যখন আল্লাহর আরশ বা কর্ম পরিচালন কেন্দ্র হয় তখন সে মু’মিনকে আল্লাহ সে কেন্দ্র থেকে শয়তানদের থেকে সুরক্ষ প্রদান করতে থাকেন।শয়তানেরা সে মু’মিনকে তখন আর কিছুতেই আল্লাহর পথ থেকে সরাতে পারেনা। শয়তানেরা তখন যতই কূ-পথ দেখায় সে মু’মিন তখন আর কূ-পথ দেখেনা শয়তানেরা তখন সে মু’মিনকে অন্ধ বলে। এ অন্ধ বলার কারণ শয়তানের পথ না দেখা।
জীবাত্মার পরমাত্মার সাথের এ সীল মারা সম্পর্ককে পরমাত্মার সান্নিধ্য বলে।এর দ্বারা দুনিয়াবী লাভ তেমনটা না হলেও পরকালিন লাভ যথেষ্ট পরিমাণে হয়। কারণ কোন রকমে ঈমান নিয়ে মরতে পারলেই কোন না কোন সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি ঘটবে।
পরমাত্মার সান্নিধ্যে ঈমানের সুরক্ষা মিলে তবে আমল না করলে জাহান্নামে তো যাওয়া লাগবেই।আমল অনেক সময় করেনা আলস্য ও খামখেয়ালীর কারণে। যেহেতু আমলের আদেশ রয়েছে সেহেতু আমল না করলেতো বিপদে পড়ার কথা। এরপর কে কি মনেকরে বা না করে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়।কারো মনে করা আর বাস্তবতা এক নয় বরং বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাজেই পরমাত্মার সান্নিধ্য মিলে গেলেই আমল থেকে ছুটি মিলে যাবে ঘটনা এমন নয়। বরং তখনও পুরোদমে আমল করতেই হবে।আরআমল ছেড়ে দিলে সান্নিধ্য একদা ছুটে গিয়ে আম ও ছালা দু’টোই যেতে পারে।কাজেই যে সব পীর সাহেব ও মুরীদ সাহেব খামখেয়ালী করছেন তারা ভুল করছেন।শুদ্ধটা হলো আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য ঈমান ও আমল দু’টোই দরকার।
বিঃদ্রঃ পীর ছাড়া কারো দিল আল্লাহর আরশে পরিণত হয়ে থাকলে আওয়াজ দিয়েন। আর কিভাবে তা’হলো সেটাও বলে দিয়েন। তবে লোকেরা পীরের কাছে না গিয়েই কার্য হাসিল করতে পারবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৭:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



