
মাযহাব ছিলনা, কারণ দরকার ছিলনা। মাযহাব হয়েছে, কারণ দরকার হয়েছে। লোকেরা অপারগ হয়ে মাযহাব মেনেছে। কারণ হাদিস বহু রকম হয়েগেছে। হাদিস বহু রকম হওয়ার কারণ চলমান ও মানসুখ হাদিস মিশেগেছে।আসল ও নকল হাদিস মিশেগেছে। এখন কোন হাদিস মানবে তা’ ঠিক করতে না পেরে একেক জন একেক হাদিস মানতে শুরু করেছে।তখন ইমাম বললেন এ হাদিস নয় ঐ হাদিস মানতে হবে। এক এলাকার লোক সেই এলাকার ইমামের কথামত হাদিস মানতে শুরু করেছে।অন্য এলাকার লোক সেই এলাকার ইমামের কথা মত হাদিস মানতে শুরু করেছে।এরপর কেউ তার ইমামের মত ত্যাগ করতে রাজি হলো না।ওলামাদের জিজ্ঞাস করা হলো এখন তবে কি হবে? তারা বললেন যে কোন ইমামের কথামত হাদিস মানলেই চলবে। তারা চারজন ইমামের মতকে সঠিক বল্লেন। সে চারজন ইমামের মত অনুযায়ী চার মাযহাব হানাফী শাফেঈ হাম্বলী ও মালেকী গঠিত হলো। ঝগড়া থেমেগেল।
এরপর হাদিসের কিতাব লিখিত হলো। যারা হাদিসের কিতাব লিখল তারা কোন ইমামের হাদিস লিখল। কোন ইমামের হাদিস লিখল না। আবার ঝগড়া শুরু হলো। বলা হলো অমুকের কথা হাদিসে আছে তমুকের কথা হাদিসে নেই। আরে বাপু তমুকের কথা যে হাদিস লিখছে সে না লিখলে হাদিসে থাকে কেমনে? বলা হলো যার হাদিস বাদগেছে তার হাদিস জয়িফ। কিন্তু কথা হলো জয়িফতো হলো একশ বছর পর। যখন তমুক হাদিসের আমল করেছে তখনতো হাদিস ছহি ছিল। তখন ছহি ছিল এখন জয়িফ হওয়ার কারণ তখন যে হাদিস বলেছিল এখন সে বেঁচে নেই।যে মরেগেছে সে ছহি ছিল।তার মরার পর এখন যে হাদিস বলছে এ জয়িফ। আর এ কারণে এখন যে হাদিসের কিতাব লিখল সে এ হাদিস আর তার কিতাবে লিখল না।আর তাতে কতিপয় বলা শুরু করল এটা হাদিসে নেই।পরিস্থিতি এমন যে একশ বছর আগে বলা হাদিসে ছিল, একশ বছর পরে লিখা হাদিসে নেই। আর এ থাকা ও না থাকা হাদিসের ছহি রাবির মৃত্যু। আর এ মৃত্যু একটি গ্রহণযোগ্য অপারগতা। কারণ কেউ মরেগেলে আর কথা বলতে পারেনা। মৃত ব্যক্তির ছহি হাদিসকে যখন কেউ জয়িফ বলছে তখন সে প্রতিবাদ করে বলতে পারছেনা যে এ হাদিস আসলে ছহি।আর তার বলতে না পারার কারণ মৃত্যু জনিত গ্রহণযোগ্য অপারগতা। আর ইসলামে অপারগতা গ্রহণযোগ্য। যেমন দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া ফরজ, কিন্তু পা না থাকলে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া ফরজ নয়।তখন বসে হলেও নামাজ পড়বে। পা নেই অযুহাতে নামাজ বাদ দিবেনা।মাযহাব ইসলামে এমন একটি অপারগতা যা না মেনে উপায় নেই। কাজেই আগে না থাকলেও অপারগতার কারণে পরে এটা না মেনে উপায় নেই।
অনেকে বলছে হাদিসের কিতাব লিখিত হওয়ার পর আর মাযহাব দরকার নেই। কেন সেই অপারগতা কি কিতাব হওয়ার সাথে সাথে উদাও হয়েছে? এখনতো একেক হাদিস গ্রন্থের হাদিস একেক রকম। কোন হাদিস কোন হাদিস গ্রন্থে আছে। কোন হাদিস কোন হাদিস গ্রন্থে নেই।ফল দাঁড়াল এই যে এতে করেও অনিবার্যভাবে হাদিস মানা বিভিন্ন রকম হবে। তারমানে বিভিন্নরকম মাযহাব হবে। তো পুরনো মাযহাব বাদ দিয়ে নতুন মাযহাব মানার দরকার কি? এতো পুরান বোতলে নতুন শরবত।কাজেই লিখিত অলিখিত সব হাদিস মানা হবে। সেই সাথে সময়ের প্রয়োজনে মাযহাব মানা হবে। লা মাযহাব প্রস্তাব অযোক্তিক বিধায় অগ্রহণযোগ্য।সেজন্য লা মাযহাব মানা হবেনা।
কেন লা মাযহাব হব? লা মাযহাব হওয়া যায়কি? লা মাযহাব হয়েও যদি মানুষ বিভিন্নরকম ইসলাম পালন করে তবে আর লা মাযহাব হওয়ার দরকার কি? মাযহাবের কথা হাদিসের কিতাবে নেই অযুহাত এই তো? তো কিতাব ওয়ালা কিতাবে না লিখলে সেটা কার দোষ? আর কিতাব ওয়ালাতো লিখে নাই ছহি রাবি মরে যাওয়ায় জয়িফ সূত্রে তার কাছে হাদিস পৌঁছায়।সংগত কারণে যেহেতু লা মাযহাব হচ্ছেনা বা করা যাচ্ছেনা, কাজেই মাযহাবই সঠিক আছে। আর যদি বল সবাই একদল হওয়া দরকার তবে বড় দলে সবাই সামিল হও। বড় দল হানাফী তাতে সবাই সামিল হলে লেটা চুকে গেল।এটা সম্ভব কিন্তু লা মাযহাব সম্ভব নয়।মাযহাব বাদ দিয়ে হাদিস মানিয়ে কোন দিন মুসলমানকে একদল করা যাবেনা। কারণ এরমধ্যে যারা আহলে হাদিস লা মাযহাব হয়েছে তারা সবাই একদল থাকতে পারেনি বরং বহুদল হয়েগেছে।কাজেই একদল হতে হলে সবাই হানাফী হও। নতুবা চারদল হয়ে হানাফী শাফেঈ হাম্বলী ও মালেকী থাক। সবার সাথে সবাই মিলেমিশে থাক। যখন যে ইমাম নামাজ পড়ায় তখন সে ইমামের পিছনে নামাজ পড়।
চলমান মানসুখ হাদিস মিলে যাওয়া। আসল ও নকল হাদিস মিলে যাওয়া। আলাদা করতে না পারা। অনিবার্য অপারগতা। যেহেতু ইসলামে অনিবার্য অপারগতা গ্রহণযোগ্য সেহেতু ইসলামে মাযহাব গ্রহণযোগ্য। সেহেতু মাযহাবের বিরোধীতা গ্রগণযোগ্য নয়। সেহেতু মাযহাবের বিরোধীতা ফিতনা। ফিতনা হত্যার চেয়ে জঘণ্য পাপ। কাজেই মাযহাবের বিরোধীতা সংক্রান্ত মহাপাপ বা মহা হারাম কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
বিঃদ্রঃ এক হাদিস গ্রন্থে যে হাদিস বলছে অন্য হাদিস গ্রন্থে এর উল্টা হাদিস বলে নাই ঘটনা হলে মাযহাব বাদ দিয়ে আহলে হাদিস হওয়া যেত, কিন্তু সেটা হয়নি। সে জন্য আবার প্রস্তাব হলো এবার আলবানীকে মান। তো আলবানীকে মানা হলে আবু হানিফার (রঃ) কি দোষ?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



