somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সনেট কবি
সনেট কবি রচিত সনেট সংখ্যা এখন ১০০৪ (৫ জানুয়ারী ’১৯ পর্যন্ত) যা সনেটের নতুন বিশ্ব রেকর্ড, পূর্ব রেকোর্ড ছিল ইটালিয়ান কবি জিয়েকমো দ্যা ল্যান্টিনির, তাঁর সনেট সংখ্যা ছিল ২৫০।

মাযহাব লা মাযহাব দ্বন্দ্ব (পর্ব-৩)

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মাযহাব ছিলনা, কারণ দরকার ছিলনা। মাযহাব হয়েছে, কারণ দরকার হয়েছে। লোকেরা অপারগ হয়ে মাযহাব মেনেছে। কারণ হাদিস বহু রকম হয়েগেছে। হাদিস বহু রকম হওয়ার কারণ চলমান ও মানসুখ হাদিস মিশেগেছে।আসল ও নকল হাদিস মিশেগেছে। এখন কোন হাদিস মানবে তা’ ঠিক করতে না পেরে একেক জন একেক হাদিস মানতে শুরু করেছে।তখন ইমাম বললেন এ হাদিস নয় ঐ হাদিস মানতে হবে। এক এলাকার লোক সেই এলাকার ইমামের কথামত হাদিস মানতে শুরু করেছে।অন্য এলাকার লোক সেই এলাকার ইমামের কথা মত হাদিস মানতে শুরু করেছে।এরপর কেউ তার ইমামের মত ত্যাগ করতে রাজি হলো না।ওলামাদের জিজ্ঞাস করা হলো এখন তবে কি হবে? তারা বললেন যে কোন ইমামের কথামত হাদিস মানলেই চলবে। তারা চারজন ইমামের মতকে সঠিক বল্লেন। সে চারজন ইমামের মত অনুযায়ী চার মাযহাব হানাফী শাফেঈ হাম্বলী ও মালেকী গঠিত হলো। ঝগড়া থেমেগেল।
এরপর হাদিসের কিতাব লিখিত হলো। যারা হাদিসের কিতাব লিখল তারা কোন ইমামের হাদিস লিখল। কোন ইমামের হাদিস লিখল না। আবার ঝগড়া শুরু হলো। বলা হলো অমুকের কথা হাদিসে আছে তমুকের কথা হাদিসে নেই। আরে বাপু তমুকের কথা যে হাদিস লিখছে সে না লিখলে হাদিসে থাকে কেমনে? বলা হলো যার হাদিস বাদগেছে তার হাদিস জয়িফ। কিন্তু কথা হলো জয়িফতো হলো একশ বছর পর। যখন তমুক হাদিসের আমল করেছে তখনতো হাদিস ছহি ছিল। তখন ছহি ছিল এখন জয়িফ হওয়ার কারণ তখন যে হাদিস বলেছিল এখন সে বেঁচে নেই।যে মরেগেছে সে ছহি ছিল।তার মরার পর এখন যে হাদিস বলছে এ জয়িফ। আর এ কারণে এখন যে হাদিসের কিতাব লিখল সে এ হাদিস আর তার কিতাবে লিখল না।আর তাতে কতিপয় বলা শুরু করল এটা হাদিসে নেই।পরিস্থিতি এমন যে একশ বছর আগে বলা হাদিসে ছিল, একশ বছর পরে লিখা হাদিসে নেই। আর এ থাকা ও না থাকা হাদিসের ছহি রাবির মৃত্যু। আর এ মৃত্যু একটি গ্রহণযোগ্য অপারগতা। কারণ কেউ মরেগেলে আর কথা বলতে পারেনা। মৃত ব্যক্তির ছহি হাদিসকে যখন কেউ জয়িফ বলছে তখন সে প্রতিবাদ করে বলতে পারছেনা যে এ হাদিস আসলে ছহি।আর তার বলতে না পারার কারণ মৃত্যু জনিত গ্রহণযোগ্য অপারগতা। আর ইসলামে অপারগতা গ্রহণযোগ্য। যেমন দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া ফরজ, কিন্তু পা না থাকলে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া ফরজ নয়।তখন বসে হলেও নামাজ পড়বে। পা নেই অযুহাতে নামাজ বাদ দিবেনা।মাযহাব ইসলামে এমন একটি অপারগতা যা না মেনে উপায় নেই। কাজেই আগে না থাকলেও অপারগতার কারণে পরে এটা না মেনে উপায় নেই।
অনেকে বলছে হাদিসের কিতাব লিখিত হওয়ার পর আর মাযহাব দরকার নেই। কেন সেই অপারগতা কি কিতাব হওয়ার সাথে সাথে উদাও হয়েছে? এখনতো একেক হাদিস গ্রন্থের হাদিস একেক রকম। কোন হাদিস কোন হাদিস গ্রন্থে আছে। কোন হাদিস কোন হাদিস গ্রন্থে নেই।ফল দাঁড়াল এই যে এতে করেও অনিবার্যভাবে হাদিস মানা বিভিন্ন রকম হবে। তারমানে বিভিন্নরকম মাযহাব হবে। তো পুরনো মাযহাব বাদ দিয়ে নতুন মাযহাব মানার দরকার কি? এতো পুরান বোতলে নতুন শরবত।কাজেই লিখিত অলিখিত সব হাদিস মানা হবে। সেই সাথে সময়ের প্রয়োজনে মাযহাব মানা হবে। লা মাযহাব প্রস্তাব অযোক্তিক বিধায় অগ্রহণযোগ্য।সেজন্য লা মাযহাব মানা হবেনা।
কেন লা মাযহাব হব? লা মাযহাব হওয়া যায়কি? লা মাযহাব হয়েও যদি মানুষ বিভিন্নরকম ইসলাম পালন করে তবে আর লা মাযহাব হওয়ার দরকার কি? মাযহাবের কথা হাদিসের কিতাবে নেই অযুহাত এই তো? তো কিতাব ওয়ালা কিতাবে না লিখলে সেটা কার দোষ? আর কিতাব ওয়ালাতো লিখে নাই ছহি রাবি মরে যাওয়ায় জয়িফ সূত্রে তার কাছে হাদিস পৌঁছায়।সংগত কারণে যেহেতু লা মাযহাব হচ্ছেনা বা করা যাচ্ছেনা, কাজেই মাযহাবই সঠিক আছে। আর যদি বল সবাই একদল হওয়া দরকার তবে বড় দলে সবাই সামিল হও। বড় দল হানাফী তাতে সবাই সামিল হলে লেটা চুকে গেল।এটা সম্ভব কিন্তু লা মাযহাব সম্ভব নয়।মাযহাব বাদ দিয়ে হাদিস মানিয়ে কোন দিন মুসলমানকে একদল করা যাবেনা। কারণ এরমধ্যে যারা আহলে হাদিস লা মাযহাব হয়েছে তারা সবাই একদল থাকতে পারেনি বরং বহুদল হয়েগেছে।কাজেই একদল হতে হলে সবাই হানাফী হও। নতুবা চারদল হয়ে হানাফী শাফেঈ হাম্বলী ও মালেকী থাক। সবার সাথে সবাই মিলেমিশে থাক। যখন যে ইমাম নামাজ পড়ায় তখন সে ইমামের পিছনে নামাজ পড়।
চলমান মানসুখ হাদিস মিলে যাওয়া। আসল ও নকল হাদিস মিলে যাওয়া। আলাদা করতে না পারা। অনিবার্য অপারগতা। যেহেতু ইসলামে অনিবার্য অপারগতা গ্রহণযোগ্য সেহেতু ইসলামে মাযহাব গ্রহণযোগ্য। সেহেতু মাযহাবের বিরোধীতা গ্রগণযোগ্য নয়। সেহেতু মাযহাবের বিরোধীতা ফিতনা। ফিতনা হত্যার চেয়ে জঘণ্য পাপ। কাজেই মাযহাবের বিরোধীতা সংক্রান্ত মহাপাপ বা মহা হারাম কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

বিঃদ্রঃ এক হাদিস গ্রন্থে যে হাদিস বলছে অন্য হাদিস গ্রন্থে এর উল্টা হাদিস বলে নাই ঘটনা হলে মাযহাব বাদ দিয়ে আহলে হাদিস হওয়া যেত, কিন্তু সেটা হয়নি। সে জন্য আবার প্রস্তাব হলো এবার আলবানীকে মান। তো আলবানীকে মানা হলে আবু হানিফার (রঃ) কি দোষ?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:১৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য সাইলেন্ট ইকো

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফিকশনাল ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্রতিষ্ঠান, স্থান, সাল ও অপরাধের মোটিভ লেখকের কল্পনানির্ভর। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা অমীমাংসিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×