রাজধানীর যানজট সমস্যা নিরসনে নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। হাতে নেয়া হয়েছে নতুন একাধিক প্রকল্প। সর্বশেষ যানজট নিরসনে নতুন দাওয়াই বাস র্যাপিড ট্রানজিট করতে যাচ্ছে সরকার। যদিও প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অনেক চ্যালেঞ্জ, তবে কাজ শেষ হলে নিশ্চিত সুফল মিলবে। ২০ কিমি সময় অতিক্রম করতে সময় লাগবে ৫০মিনিট। এখন
যেখানে ব্যয় হচ্ছে তিন ঘণ্টা। কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর যানজট নিরসনে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম বাস র্যাপিড ট্রানজিট নির্মাণে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চীনের গেজহুবা গ্রুপ ৮৫৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় ২০ দশমিক ৫০ কিমি দৈর্ঘের এ প্রকল্পের জন্য ১৬ কিমি বিআরটি লেন, ৩২ কিমি ফুটপাথ ও ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন নির্মাণ করা হবে। আগামী ৩০ মাসের মধ্যে এ নির্মাণ কাজ শেষে উভয়দিক থেকে ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে ২০ দশমিক ৫০ কিমি। এর মধ্যে উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সাড়ে চার কিমি এলিভেটেড বিআরটি লেন থাকবে। বাকি ১৬ কিমি থাকবে সমতলে। নির্মাণ করা হবে ছয়টি ফ্লাইওভার। দুই প্রান্ত গাজীপুর ও বিমানবন্দরে থাকবে দুটি টার্মিনাল, আর মাঝের পথে হবে ২৫টি স্টেশন। প্রতি দুই থেকে ৫ মিনিট পরপর স্টেশন থেকে বাস ছাড়বে। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছতে সময় লাগবে ৫০ মিনিট। ১৮ মিটার দৈর্ঘের ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে এ পথে। বাস ভাড়া আদায় হবে ইলেক্ট্রনিক স্মার্ট কার্ডে। গাজীপুর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট চালু হলে টঙ্গী ও উত্তরার সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত সহজতর হবে এবং এর মধ্য দিয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত হবে। মূল নির্মাণের পাশাপাশি কিছু সড়ক প্রশস্তকরণ, সার্ভিস সড়ক ও গাজীপুরে তিন কিমি ড্রেনেজ নির্মাণ, আট লেনের টঙ্গী সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণের খরচ মিলিয়ে এই প্রকল্পে ব্যয় হবে মোট ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মানুষ যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




