somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'মোমেন্টাম ফর চেঞ্জ'

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ ঝলক দেখিয়েছে। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় জলাশয় ঘেরা মাঝখানে ছোট ছোট দ্বীপের মতো কয়েকটি বাড়ি নিয়ে গড়ে উঠা গ্রাম 'সাকিম আলী মাতবর' এখন বিশ্ববাসীর মনোযোগের কেন্দ্রে। এই গ্রামটির পরীক্ষামূলক এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অনুকরণীয় মডেল হয়ে
উঠেছে বিশ্বের অনেক পশ্চাৎপদ জায়গায়। এই গ্রামের আটটি পরিবার তাদের ঘরে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। একজনের বাড়িতে উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ চলে যায় আরেকজনের ঘাটতি পূরণে। সময়োপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহারে সাকিম আলী মাতবর গ্রামের এ উদ্যোগ এক নতুন ধারণা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু-সংক্রান্ত প্যানেল (ইউএনএফসিসিসি) গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের যে ১৩টি প্রকল্পকে 'মোমেন্টাম ফর চেঞ্জ' নামের জলবায়ু অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে, এই গ্রামের প্রকল্প তার একটি। গত জুনে জার্মানির ইন্টার সোলার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে এই প্রকল্প। এতে এক বাড়িতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ অন্য বাড়িতে পাঠানোর জন্য পরিবারগুলোকে ঘরে স্থাপন করতে হয়েছে 'সোলবক্স মিটার' নামের একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র। বিদ্যুৎ ভাগাভাগির এ উদ্যোগের নেপথ্যে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভূমিকা রেখেছে, তাদের মধ্যে গবেষণা প্রকল্পটির দলনেতা ও প্রধান গবেষক ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ অংশীদারিত্বের প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থা সোলশেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা সেবাস্তিয়ান গ্রো। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বে প্রথমবারের মতো কোন ব্যক্তি বাড়িতে সোলার সিস্টেম স্থাপন না করেই তারের মাধ্যমে সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন, এতে কাজে লাগানো হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তির সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিকেও। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়নকারী সরকারি সংস্থা ইডকল। সোলবক্স মিটার উদ্ভাবন ও তৈরি করেছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সোলশেয়ার। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা জার্মান নাগরিক সেবাস্তিয়ান গ্রো এই মিটারকে কিভাবে আরও সহজ ও সস্তা করা যায়, সে জন্য ঢাকায় একটি গবেষণা ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। সাধারণত গ্রামের মানুষ তাদের ঘরে যে সোলার প্যানেল স্থাপন করে, তাতে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ অব্যবহৃত থাকে। এ অব্যবহৃত বিদ্যুৎ অন্যদের কাছে বিক্রি করে অন্যের চাহিদা মেটানোর চিন্তা থেকেই এ প্রকল্প শুরু। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, একেকটি মিটার তৈরি করতে বর্তমানে তিন থেকে চার হাজার টাকা লাগছে। এই মিটার হিসাব রাখছে, একজন গ্রাহক কতটুকু নিজের সোলার প্যানেল থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, আর কতটা সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে ধার করছেন। ধার করা বিদ্যুৎ তাকে অর্থ দিয়ে কিনতে হবে। একইভাবে একজন গ্রাহক কতটুকু বিদ্যুৎ ধার দিলেন, সেটির হিসাব রাখবে এই মিটার। প্রতি ইউনিট (অ্যাম্পিয়ার/ঘণ্টা) বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ১ টাকা ৬৫ পয়সা আর একই ইউনিট বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য ১ টাকা ৪৫ পয়সা। প্রতি ইউনিট কেনাবেচার মধ্যবর্তী ব্যবধান ব্যয় হয় এই ব্যবস্থাটি পরিচালনার পেছনে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের খরচ ২৫ শতাংশ কমে যাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের এক লাখ পরিবারে এই মিনি গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া যাবে। এ ধরনের উদ্যোগ সারাবিশ্বের জন্যই অনুকরণীয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:১৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×