somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৩০ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে নির্মিত হবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে বছরে কমবেশি ৬৫ লাখ যাত্রীর সেবা দেয়া হচ্ছে এখানে। যে হারে যাত্রী বাড়ছে তাতে বছর শেষে হয়ত আর কমপক্ষে লাখ পাঁচেক যাত্রী বাড়বে। ২০২০ সালে সেটা আশি লাখের মতো বাড়বে। এত সংখ্যক যাত্রী বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে সামাল দেয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কেননা আরও কয়েকটি এয়ারলাইন্স পাইপ লাইনে রয়েছে। তারা ফ্লাইট সিডিউল চাচ্ছে। এ অবস্থায় সিডিউল দেয়ার আগে বিমানবন্দরে সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বপুর্ন। যেহেতু বর্তমানের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এ যে বেল্ট ও জায়গা আছে তা বাড়ানোর কোন উপায় নেই। এ সীমিত স্থানেই সব কিছু সামাল দিতে হবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট দিয়ে। এ জন্য সিভিল এভিয়েশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চেকইন কাউন্টার ও কনকর্স হলের মাঝখানের গ্লাস ফেন্স খুলে ফেলার। যাতে এখানে বেশিসংখ্যক যাত্রী একসঙ্গে দাঁড়ানোর সুবিধা পান। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরের সিপিজে, কোরিয়ার ইউনসিন ও বাংলাদেশের শীর্ষ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ডিডিসি যৌথভাবে থার্ড টার্মিনালের সমীক্ষা, নক্সা ও আকৃতি তৈরির কাজ করে। এদেরই হাতে তৈরি করা সমীক্ষা প্রতিবেদন ও ড্রয়িং ডিজাইনেই এখন চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও যাচাই বাছাইয়ের জন্য কাজ করবে নতুন কনসালট্যান্ট নিপ্পন কোং। আগামী তিন মাসের মধ্যে থার্ড টার্মিনালের ড্রয়িং ডিজাইন চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই দরপত্র ডাকা হবে। যা ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যাদেশ দিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে উদ্বোধন করা হবে বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের। বারোটি বোর্ডিং ব্রিজ। প্রতি চারটির জন্য একটি লিফট। বারোটি কনভয় বেল্ট। বিশটা চেকইন কাউন্টার। প্রতিটিতে সিকিউরিটি স্ক্যানার। ঘণ্টায় দুই হাজার যাত্রীর লাগেজ স্ক্যান করার অত্যাধুনিক চেকিং কাউন্টার। থাকছে ১২শ’ গাড়ির পার্কিং সুবিধা। বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীর সেবা প্রদানের সক্ষমতা। এভাবেই ৩০ লাখ বর্গফুট জায়গায় সাজানো হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের দৃষ্টিনন্দন এক ড্রয়িং ডিজাইন। বিশ্বখ্যাত কোরিয়ার ইনশিয়ন কোম্পানি এক বছর ধরে যৌথভাবে এ প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি ও ড্রয়িং ডিজাইনের কাজ করেছে। সরকারের অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প বা থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ কাজকেও অগ্রাধিকার হিসেবে আমলে নেয় জাইকা। এ প্রকল্প নিয়ে জাইকার প্রতিনিধিরা বহিঃসম্পদ বিভাগ ও সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। এতে উভয়পক্ষই সম্মত হয়। এ সময় প্রকল্পের ব্যয়, সময়সীমা ও ডিজাইন নিয়েও তারা একমত হন ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। জাইকা সিভিল এভিয়েশনকে নিশ্চিত করে, প্রকল্প ব্যয়ের চৌদ্দ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব খুব শীঘ্রই জাপান সরকারের অনুমোদন পাবে। ইন্টারন্যাশনাল এ্যাসোসিয়েশন্স অব ট্রাভেলস এজেন্টসের (আইএটিএ) গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বে যাত্রী বৃদ্ধির শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান। যাত্রী বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বিদেশগামী শ্রমিকের উর্ধমুখী অবস্থান। এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশের দরুন যাত্রী বৃদ্ধি পাচ্ছে। থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ করলেও সেটা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে বড়জোর দশ থেকে পনেরো বছর। তারপর কি হবে? সেটা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। তাই পদ্মা সেতুর মতোই গুরুত্ব দিয়ে এখনই উচিত বঙ্গবন্ধু এয়ারপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:২৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×