somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কয়রা, বাংলাদেশের অভিশাপ!

১৫ ই মে, ২০১৮ সকাল ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কয়রা উপজেলা, হয়ত আমরা এই উপজেলাটির নাম খুব কম শুনেছি, বাংলাদেশের একটি জনপদ যেখানে সরকার দূরে থাক সয়ং ঈশ্বর ও যেন ওখানকার মানুশকে এড়িয়ে চলেন। ওদের কেউ নেই।
আমরা ভিনদেশী রোহিংগা, কাশ্মীরি, ফিলিস্তিনি, সুদানি নানার জাতীর নিগ্রহের খবর প্রতিনিয়ত পাই, কিন্তু নিজের দেশে অবহেলিত ঐ অঞ্চলের নিজের চোখে দেখা হাল বর্ণনা করতে চাই। মানবতার চরম বিপর্যয়ের সাক্ষী কয়রা।

সুন্দরবন লাগোয়া খুলনা জেলার এই জনপদ বাংলাদেশের চরম দারিদ্র পীড়িত অঞ্চল। জীবনের মানে সেখানে থমকে থাকে সবসময়, মানবাধিকার দূরে থাক, বেচেঁ থাকার উৎসাহ যেন ভাটা পরেছে ঐ জনপদে।



(আইলার স্যাটেলাইট চিত্র)

দুবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত এনেছে জনপদটিতে একটি আইলা ও একটি সিডর রুপে। সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সমুদ্রের জোয়ারের সাথে নিত্ত নোনা পানিবন্দী জীবনের হাহাকার।
খাবারের কোন জোগান নেই, পানি উন্নয়ন বোর্ড নামকাওয়াস্তে যেই বাধ নির্মাণ করে, টাকার হরিলুটের সেই বাধ প্রতিবছর বর্ষায় ভেংগে যায়। কোথাও না ভাংগলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাধ কেটে দিয়ে ফসলী জমির ক্ষতি করে পানি ঢুকিয়ে তৈরী করে চিংড়ি ঘের। বিস্তীর্ণ সেই জলাভুমিতে গরীব কৃষকের জমি দখল করে তৈরী হয় ঘের। সেখানে আর কোন সাধারন মানুশের জমি নেই সব দখল হয়ে গেছে। কারো রোজগার নেই, কিছু করার নেই। গ্রামের দিকে নেই কোথাও একটু রাস্তা।

রেড ক্রিসেন্ট এর সারি সারি ঘর লাল টিনের তৈরী দেখা মিলবে কয়রাতে, একটুকরো ফসলী জমি পাওয়া যাবেনা, এশিয়ান ডেভেলাপমেন্ট ব্যংকের কাজে যাওয়া মাত্র শত শত মানুশের ভীর কিছু পাওয়ার আশায়। যা কিছু করেছে সব বেসরকারি এন জি ও রা। মানুশের খাবার যেখানে নেই সেখানে সেনেটারি ব্যবস্থা থাকার কথাই ওঠেনা। সরকার কিসের ভিত্তিতে বলে খাদ্য সয়ং সম্পূর্ণ আর স্যনেটারী শতভাগ দাবী করে আমার জানা নাই, বাংলাদেশের শাসকগনের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ ওরা হয়ত কয়রার কথা ভুলে গেছে, স্যনেটারী ল্যাট্রিন না থাকার বিপদ জেনেছি ওখানেই হাতে কলমে, ডায়রিয়ার শত শত শিশু মৃত্যু। চারদিকে পানি নোনা পানির থই থই কোথাও পান যোগ্য পানির দেখা পাওয়া দুষ্কর। লাশ দাফনের জায়গা নেই, ভেলায় ভাসিয়ে দেয়া হয়। চারদিকে চামড়ার সাথে লেগে থাকা হাড্ডিসার শরীরগুলো চোখ মুখ ঠিকরে জানান দিচ্ছে নিজেদের অসহায়ত্ব। আর মৌলিক অধিকার! বিদ্যুত, ইন্টারনেট থাক ওসব বিলাসিতা। বেঁচে থাকার লড়াইটা বড় অসম এখানে।


(কয়রার একটি স্কুলের চিত্র)

একটা বাচ্চা, আমার শার্ট এর হাতল টেনে ধরে বলছে "স্যার একটা মাঠ করি দেন "।
আমি খালি শরীরের ঐ বাচ্চার জীর্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যে সান্তনা দিতে পারিনি।

একটা শিশু কি দেখে বড় হচ্ছে, বাজারের ফার্মেসি তে বসে থাকা একজন বলছে, এখানকার রোজগারের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে পতিতাবৃত্তি, দূর দুরান্ত থেকে লোক আসে বেচে থাকার জন্য গরীব মানুশের সব রাস্তা বন্ধ।
ফসলের জমি নেই, ব্যবসা নেই, মাছ ধরার পানিও ইজারাদারের দখলে, বিশ্বাস হয়নি।
নিজের চোখে দেখতে বের হলাম, সব কথা যে মিলে যাচ্ছে অক্ষরে অক্ষরে। মানবতার কি চড়ম অবনতি।

কি করবে এই গরীব মানুশ গুলো? আমাদের ইটকাঠের সুন্দর শহরে এইসব অবহেলিত মানুশগুল বস্তিতে বসত গড়ে শত কষ্টের মাঝেও, আমরা সেগুলো পুড়িয়ে দেই কিছুদিন পরপর।
আর যাদের শহরে আসার ও শক্তি নেই তারা কি করে বাঁচে ঐ জলদস্যু , ভুমিদস্যু আর লুটেরাদের মগের মুল্লুকে?


(কয়রার জীবন যাত্রা।)

ঢাকার শাসকদের সহকারীরা চালিয়ে যাচ্ছে এক অন্যরকম জাহান্নাম।

ঢাকায় ফ্লাই ওভার করেন, স্যাটেলাইট ফুটান, শাসকের নতুন গাড়ি, নতুন বাড়ি, নতুন নতুন রক্ষিতা, গুলশান, বনানী, ক্রিম এন্ড ফাজ আইস্ক্রিম আর গ্লোরিয়া জিন্সের কফি, আর কয়রা আর এর মত যারা আছে তারা কি আমাদের কলনী?


ওরা আমাদের মানুশ, আমাদের নিজেদের। আমাদের মত চোখ মুখ, একদম নিজেদের ভাই বোন।
ইংরেজ আমলের ভাইসরয়েরা চলে গেছে কিন্তু এখনো আমাদের মুক্তি মেলেনি।
শাসকেরা বৃটিশের মত আচরন করলে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা জন্মাতে সময় লাগবেনা।





(কয়রার ভৌগলিক অবস্থান)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০১৮ সকাল ৮:৪১
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !



বাংলাদেশে নূতন ভাবে এই প্রসঙ্গটি আসতে শুরু করছে ।
আমাদের আইনে এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু আছে কিনা জানা নেই । তবে বিরোধী দল সংসদে
তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদের নতুন ধরন - জুলাই মাসে কই ছিলেন?

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬

১।

জুলাই মাসে কই ছিলেন – গত দেড় বছর ধরে অনলাইনে এই এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি বহুবার। এই প্যাটার্নের প্রশ্ন, অভাগা দেশে বারবার ফিরে আসে। শেষমেশ এই ধরনের প্রশ্নগুলোই নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×