somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাক দিয়ে যাই . . (ছোটগল্প)

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চশমাটা চোখে দিয়ে হতভম্ব হয়ে গেল আরিফ !
মাথার দুই পাশের চুল পুরাই গায়েব ! কেমন যেন বেলের মত লাগছে মাথাটা । পাশ ফিরে নাপিতের দিকে তাকাল সে ।
-দেখছেন স্যার ,এক্কেবারে হিরুর মত লাগতাসে আপনেরে !
- হিরু ! কোন হিরু ? চটকানা দিয়া তোর কানপট্টি ফালায়া দিমু ব্যাটা ! হিরু কাইট দিতে তোরে কে বলছে ?
গোপাল নাপিতের বুকটা ধড়ফড় করে উঠল । আসলেই চড়- টড় দিয়ে বসবে নাকি ? এইসব মাথা গরম ইয়াং পোলাপানের কোন ঠিক ঠিকানা নাই। এই বেটা যে চশমা ছাড়া কিছুই দেখতে পায়না ,আগেই বুঝা উচিত ছিল তার ! চুল কাটার সময় আয়নার দিকে কেমন চোখ বড় বড় করে তাকাচ্ছিল । তখন মনে হচ্ছিল সুন্দর কাটিং দেখে মনে হয় খুশিতে চোখ বড় বড় করে আছে । ভুল হয়ে গেছে । মস্ত বড় ভুল।
রাগে গজগজ করতে করতে সেলুন থেকে বের হয়ে এল আরিফ । আজকের দিনটাই আসলে কুফা ।
***
-আরে আরিফ না ! কিরে তোরে ত চিনায় যাচ্ছে না !
-চিনা যাচ্ছে না মানে ?
-মানে তোরে আরিফ মনে হচ্ছে না , মনে হচ্ছে ছিলা আরিফ ! ছিলা আরিফ দা গ্রেট!
-ফাইজলামি করিস না ! বেশি টাকলা টাকলা মনে হচ্ছে নাকি ?
-না খুব সুইট লাগছেরে !
-বাদ দেতো ! গোপাল নাপিতের কাজকারবারই এইরকম । কথায় আছে না নতুন ডাক্তার আর বৃদ্ধ নাপিত থেকে একশ হাত দুরে থাকা লাগে ।
-আজ তো শুক্রবার ,নামাজ পড়বি না ?
-না রে ইচ্ছা করছে না । চল রুমকীদের বাসার সামনে দিয়ে একটা চক্কর দিয়ে আসি ।
***
আজ ১৯নং কবিরুদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের বার্ষিক স্পোর্টস ডে । হেনা আজ খুব ভোরে উঠেছে । সকালে গোসল করে হাস মার্কা নারকেল তেল দিয়ে চুল জবজবা করে বাধা হয়েছে , এখন ভাইয়ার ডাইরীটা নিতে পারলেই হয় । সে ক্লাস সেভেনের ফার্স্ট গার্ল । এমন দিনে ফার্স্ট গার্লদের হাতে একটা ডাইরী নিয়ে ঘোরাফেরা করতে হয় । সবাই বলে দেখ মেয়েটা কত জ্ঞানী ! আর বেলা শেষে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করতে পারলে ষোলকলা পুর্ন হয় । চারদিক থেকে ধন্য ধন্য শোরগোল পড়তে থাকে ।
হেনার বড় ভাই আরিফের একটি ডাইরি আছে । আরিফ একসময় বেশ ভাল ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল । মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়তে না পারলে একসময় সে সারাদিন মন খারাপ করে থাকত । এলাকার ভাল ভাল ছেলেরা আরিফদের বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে একবার করে বসে কোর-আন , হাদিস পড়ত । সে সময় সে ওই ডাইরীতে কি যেন লিখত আর বসে বসে কি যেন ভাবত । আর এখন . . আর ভাবতে পারে না হেনা .. এলাকায় যেকোন অকাজ হলে ধরে নেয়া যায় ওটা আরিফের নেতৃত্বেই হয়েছে . .
***
পুরনো তোষকের নিচে ডাইরীটা পাওয়া গেল ।ডাইরীর কয়েক পাতা পরেই
বড় করে গোটা গোটা হাতের লেখা
'খোদার সাথে সম্পর্ক ' তার নিচে লেখা

খোদার সাথে যথাযথ সম্পর্ক স্থাপন হচ্ছে আমাদের
চ্যালেঞ্জিং এ জীবনের প্রথম ও প্রধান
মাইলফলক। এ সম্পর্ক
যথাযথভাবে না থাকলে আমাদের সকল
প্রচেষ্টা দুনিয়াদারির রঙে রঙিণ
হবে এবং শয়তান আমাদের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।এক্ষেত্রে যা করনীয়-

(ক) মৌলিক ইবাদত ও আত্ববিচার :
খোদার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র
ইবাদত করলেই হবেনা বরং এ ব্যাপারে পূর্ণ
নিয়মাবলী জানা, খোদাভীতি অর্জন ও ঐকান্তিকতা আবশ্যক ।

(খ) কোরআন হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য
অধ্যয়ন: খোদার সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার
জন্য অবশ্যই কুরআন, হাদীস ও
ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করতে হবে।
জাহেলিয়াতের বিপদসংকুল পথ অতিক্রম
করার জন্য সাহিত্য জ্ঞানের
অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পথ চলতে হবে।
প্রয়োজনীয় জ্ঞান না নিয়ে সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়লে মাঝপথে
জাহেলিয়াতের অন্ধকারে আচ্ছাদিত
হয়ে জীবন কলুষিত হতে পারে।

(গ) নফল ইবাদত, নফল নামাজ ও রোজা:
খোদার সাথে সম্পর্ককে দৃঢ় করার জন্য
নফল ইবাদত অত্যন্ত অপরিহার্য। এর
মধ্যে নফল নামাজ অত্যন্ত উপকারী।
বিশেষভাবে তাহাজ্জুদ নামাজ
সংগ্রামী পথে অত্যন্ত কার্যকরী পথ।নফল ইবাদতের মধ্যে আরও রয়েছে নফল রোজা এবং আল্লাহর
পথে অর্থ ব্যয় করা।

(ঘ) সার্বক্ষনিক জিকির ও দোয়া : খোদার
সাথে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উপায়
হচ্ছে সারাক্ষন আন্তরিকভাবে জিকির ও
দোয়া করা। সংসার ত্যাগ বা বৈরাগ্যের পরিবর্তে হুজুর (সা)আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন নানারকম জিকির এবং ছোট ছোট কথার দোয়া। প্রতিমুহুর্তে নিজের ঈমান, চরিত্র, ছবর ,তাওয়াক্কুল, সংযম ও নিয়মানুবর্তিতার দৃঢ়তা ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য
দোয়া করা উচিত।

পড়তে পড়তে চোখ ভিজে উঠে হেনার ! প্রিয় ভাইয়ের জন্য আক্ষেপে ভরে যায় মন। কোন ফাকে গড়িয়ে যায় সময় । সবুজ মিনার থেকে ভেসে আসে সুমধুর সুর . .'হাইয়্যা আলাল ফালাহ . . . এসো কল্যানের পথে এসো . . .
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×