হতাশার খবর-১
২০১২ সালে শেষ দিকে, সামসাং এবং সনি বাংলাদেশে কয় এক বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করার জন্য যায়গা ও অনুমতি চেয়েছিল যেখানে অন্ততঃ ৫০ হাজার লোকের কর্ম সংস্থান হতে পারত। । এজন্য কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন ইয়াং সরকারের প্রয়োজনীয় সব স্তরেই যোগাযোগ করেন। স্যামসাংয়ের প্রধান কার্যালয় থেকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের প্রধান সরাসরি ফোনে বেপজার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু, সরকারের অসহযোগিতার জন্যে তা হয়নি উপরন্তু আমাদের কর্তারা নাকি এজন্য ঘুষ চেয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশ থেকে ফিরে গিয়ে, সামসাং, নাকি মিয়ানমারে গিয়ে সেই ইনভেস্টমেন্ট করছে।
একই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগে, জাপান টয়োটা ফ্যাক্টরি করতে চেয়ে বিফল হয়ে ফিরে গ্যাছে। উল্লেখ্য, একইভাবে বিএনপি সরকারের আইসিটি বিষয়ে অজ্ঞতা আর একগুয়েমী আমাদের এক দশক পিছিয়ে দিয়েছিল এই দেশটাকে।
হতাশার খবর-২
.....আসিয়ান এর বাংলাদেশকে তাদের জোটে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছিল এবং বাংলাদেশ তা ইতিমধ্যেই রিজেক্ট করছে। চায়নাও, বাংলাদেশকে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের জন্যে আহবান জানিয়েছিল। সেটাও রিজেক্টেড হয়েছে। ওদিকে ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, বর্তমান সরকার শক্তিশালী নেতৃত্ব দিচ্ছে। জি স্যার, তাইতো দেখছি । পরোয়াহীন শক্তিমান সরকার। মজিনা সাহেব আরো বলেছেন..বাংলাদেশের মতো এমন ধৈর্যশীল,... মানুষ কোথাও দেখিনি। জি স্যার, আমরা ধৈর্য ধরে বসে আছি কারণ ২০২১ সাল নাগাদ সরকার নাকি আমাদের স্বর্গে নিয়ে যাবে।
আজকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্লক গুলোর একটা, এই আসিয়ান। থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশ কি অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে গেছে যারা একসময় বাংলাদেশের কাতারে ছিল। হায়! কত বিশাল কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। রাষ্ট্রের জন্যে এতো বড় গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত, অথচ সরকার জনগনের মতামত না নিয়ে বা সংসদ নামের এখন যে রঙ্গমঞ্চটা আছে সেখানে আলোচনা না করেই বাদ দিয়ে দিল। অবিশ্বাস্য শক্তিমান আর আত্ববিশ্বাসী সরকার!! খুব যৌক্তিক ভাবেই অনুমান করা যায়, আসিয়ানে গেলে,থার্ড ক্লাস ভারতীয় পণ্যের বাংলাদেশের রমরমা বাজার নষ্ট হতো । ইউরো মার্কেটে রিজেক্ট হওয়া আম আমাদের ভারতপ্রভূ বোকা বাংলাদেশের মানুষকে খাওয়ানোর সূযোগই পেতোনা। সরকারের বিগত পাঁচ বছরের কাজের ধারাবাহিকতায় ধরে নেয় যায়, তাদের ভারতীয় প্রভূরা গ্রিন সিগনাল দেয়নি বলেই ইনফরমেশনটা সাধারণের গোচরে আনা হয় নাই। "বাস্তবায়ন তো বহুত দূর কি বাত।"
এত জরুরী সংবাদ গুলো নিয়ে আলোচনার মানুষ কোথায় ? দু'দিন পরপর আমরা একেকটা ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরছি আর তলে তলে কত ভয়ঙ্কর ক্ষতিই না করে ফেলছে আমার দেশের এই সব লুটেরা,স্বার্থান্বেষী মানুষগুলো। কিভাবে তারা এই দেশের মানুষের সকল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে, তাদের অযোগ্যতা, ব্যক্তি/গোষ্ঠী স্বার্থ এবং ভারতের দালালী করার জন্যে। কে দেবে এর জবাব ?
কি অবিশ্বাস্য অসচেতন একটা জাতিকে শাসনের সুযোগ পেয়েছে দুইটা স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দল?
অথচ, এরকম একটা/দু'টা সিদ্ধান্ত দেশের চেহারাই পাল্টে দিতে পারত।
....আর কত ক্ষতি হবার পরে, আমরা বুঝতে পারবো?..চলুন আমরা আরো ধৈর্যশীল হই ২০২১ সাল নাগাদ সরকার আমাদের স্বর্গে নিয়ে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



