somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য গল্প

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শীতের গোসল
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
.
- কী রে গরম বীর? (আকাশ)
- কী... (আমি)
- তা এবারও কী শীতের সময় গরম পানি দিয়েই গোসল করবি?
- আরে শীতের দিন গোসল করা মানেই যুদ্ধ না করে বীর হওয়া। আর সেই গোসলটা গরম পানি হোক কিংবা ঠান্ডা পানি হোক।
- তুই আসলেও একখান জিনিস।
- কবে ছিলাম না?
- আচ্ছা বাদ দে। এখন একটা পরামর্শ দে।
- কী বিষয়ে?
- আমার চাচাতো ভাই আজ ১০ দিন হলো গোসল করে না। তাকে গোসল করানোর একটা ব্যবস্থা কর।
- কী? ১০ দিন? সে তো তবে খাটাসের খাতায় নাম লিখিয়েছে। খাটাসের খাতা থেকে নাম কাটাতে হলে চার্জ দিতে হবে।
- চার্জ?
- হ্যাঁ চার্জ।
আকাশ জানে চার্জ বলতে আমি কিসের কথা বুঝিয়েছি। আমার একটু খানি বুদ্ধির দাম ব্যাপক। তাকে ফ্রি ফ্রি আমি বুদ্ধি দেবো কেন?
খানিক সময় ভেবে সে বললো
- আচ্ছা কত দিতে হবে বল।
- যত টাকায় একমাস কোন অভাব ছাড়া চলা যায়।
মদনা আকাশ কী বুঝলো না বুঝলো। সে বললো, আচ্ছা দিবো। তবে বুদ্ধিটা আগে দে।
আমি বললাম, আগে টাকা পে কর।
সে তার মানিব্যাগ ঘেটে পাঁচশ টাকার একটা নোট বের করতেই আমি ছোঁ মেরে কেড়ে নিলাম। দেখলাম তাতে তার কোন রেসপন্সই নেই। মনে হচ্ছে যেন টাকাটা তার না। সে যাক গে, যার টাকা হয় হোক। এখন টাকাটা আমার।
আমি খানিক মাথা চুলকিয়ে বললাম
- তোদের বাড়িতে গরু আছে?
- হ্যাঁ  আছে।
- কয়টা?
- এই পাঁচ ছয়টা হবে।
- প্রতিদিন পায়খানা করে তো?
- মানে?
- মানে গরু প্রতিদিন হাগে তো?
- হ্যাঁ হাগে।
- তাহলে এক কাজ করবি। যখন তোর চাচাতো ভাই ঘুমিয়েে থাকবে, তখন পাঁচটা গরুর গু নিয়ে তার পাছায় লাগিয়ে দিবি।  পারলে কিছু তার হাত পায়েও লাগিয়ে দিস।
আমার অমন বুদ্ধির কথা শুনে আকাশ হা করে আমার দিকে চেয়ে রইলো। আমি বললাম,
- বেটা হা বন্ধ কর। নয়তো গরুর গু তোর মুখের মধ্যে যাবে।
সাথে সাথেই সে মুখ বন্ধ করে নিলো। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সে কোন কথা না বলে পিছনে ফিরে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলো।
.
পরদিন বিকালে ব্রিজের উপর বসে আছি। হঠাৎই কোথ থেকে যেন আকাশ হাঁপাতে  হাঁপাতে এসে আমার সামনে বসে পড়লো। একটু বিশ্রাম নিয়ে সে বললো,
- দোস্ত বাঁচা আমাকে।
আমি বললাম
- কেন? কী হয়েছে?
- কী হয়নি সেটা বল।
- কী?
- সাগর আমাকে তাড়া করেছে।
- সাগর কে?
- আমার চাচাতো ভাই।
- ও, ঐ খাটাস ছেলেটা?
- হ, দোস্ত তুই বাঁচা আমাকে। সে এদিকেই আসছে।
- চুপচাপ তুই বসে থাক এখানে। ওকে আসতে দে।

খানিকবাদে সাগর এসে হাজির। সেও হাঁপাচ্ছে। সে হাঁপাতে হাঁপাতেই বললো,
- কাইশ্যা তুই এখানে?
- আকাশ ইঁদুরের মতো আমার পাশ থেকে মুখ বের করে উঁকি দিলো।
সাগর আবার বললো,
- তুই আজকে যে কামটা করছিস। তা আমার জন্য খুবই লাভজনক।
লাভের কথা শুনতেই আকাশ মুখ বের বললো,
- লাভ? কিসের লাভ?
- আরে এতোদিন গোসল না করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।
- ও।
আকাশ আমার পেছন থেকে বের হয়ে সামনে এসে বসলো। কিন্তু দূর্ভাগ্য তার সহায় থাকায় সে বসার সাথে সাথেই সাগর এক পলথিন গোবর তার গায়ে ঢেলে দিয়ে বললো,
- যা এবার শীতকে দেখে আয়। শালা আমাকে তুই ঠান্ডা পানিতে চুবিয়েছিস। ভেবেছিলি তোকে ছেড়ে দিবো?
সাগরের কথায় আকাশ তার শরীর থেকে গোবর ঝাড়ছে আর বলছে,
- আরে আমি হলাম মহাপুরুষ। প্রতিদিন গোসল করি আমি। আজও করবো।
তার কথা শুনে সাগর ভ্রু কুচকিয়ে বললো,
- মদনা আবার মহাপুরুষ হয়েছে।
- তুই মহাপুরুষের কী বুঝবি? বীর পুরুষের সাথে যে থাকে, মহাপুরুষ বলে তাকে।
- বীর পুরুষ কে?
আকাশ এবার আমাকে দেখিয়ে বললো, এ হলো বীর পুরুষ।
আকাশের কথা শুনে সাগরের হাসতে হাসতে ড্রেনে পড়ার উপক্রম। সে বললো
- এটা তোর বীরপুরুষ? আরে এ তো আজ ১৫ দিন ধরে গোসল করে না। মাঝে মাঝে দেখি পুকুর পাড়ে। সেখানে কিছুক্ষণ ঘুরে ফিরে মাথায় খানিক পানি নিয়ে বাড়ি যায়। আর এটা তোর বীরপুরুষ?
মনে মনে বললাম, মান ইজ্জত সব গেলোরে।
আকাশ আমার দিকে অবাক চোখে চেয়ে বললো, কী রে কী শুনি এসব? তুই নাকি ১৫ দিন গোসল করিস না?
আমি আমতা আমতা করে বললাম, আরে ১৫ দিন তো কম, ১ মাস গোসল না করে রেকর্ড গড়বো।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রকাশিত হলো আমার নতুন উপন্যাস “১০ সেকেন্ড”

লিখেছেন সুম১৪৩২, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩২

আমার সদ্য প্রকাশিত উপন্যাস “১০ সেকেন্ড” পড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করি গল্পটি আপনাদের হৃদয়ে একটি বিশেষ অনুভূতি তৈরি করবে।




বইয়ের ফ্লাপের লেখা

শামসু কখনো নায়ক হতে চায়নি। সে শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×