somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গার্লফ্রেন্ডের ছ্যাঁকা

০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল সকাল বিনোদন দিতে হাজির হয়ে গেলাম আমি কবিসাপ।
.
সেদিন সকাল সকাল সৌরভ কল করে বললো, ভন্ডু তাত্তাড়ি কলেজে আয়।
আমি ঘুম ঘুম চোখে ফোনের স্ক্রিনে একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম। দেখলাম সকাল ৮ বেজে ৩৫ মিনিট। তাড়াতাড়ি করে বিছানা ছেড়ে লাফ দিয়ে উঠে বসলাম।
সৌরভকে বললাম, দুই মিনিট দাঁড়া। বিশ মিনিটে আসছি আমি।
.
চুলের এপাশ ওপাশ পানি মেরে শার্টটা গায়ে দিতে দিতে বাসা থেকে নামলাম। রাস্তায় এসে দ্রুত বাসও পেয়ে গেলাম। কলেজে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগলো না। কেননা শনিবারে ঢাকার শহরে তেমন একটা জ্যাম থাকে না।

কলেজের সামনে নেমে সৌরভকে কল দিলাম। বললাম, কুতায় ঠুমি ভন্ডু?
সে সিক্ত কণ্ঠে বললো, আমি শহীদ মিনারের সামনে।
ওর সিক্ত কণ্ঠ শুনে মনটা কেঁদে উঠলো। ক্যান্টিনে ঢুকে একটু পানি নিলাম চোখের নিচে। যাতে ওকে গিয়ে বলতে পারি, ভন্ডু তোর কান্না ভেজা কণ্ঠ শুনে আমার চোখেও পানি চলে এসেছে।
.
শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে দেখি বেটা ব্যাগ কাঁধে করে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে পিঠে একটা থাবা মেরে বললাম, কিউবে? এত দ্রুত তলব ক্যা?
ভন্ডু আমার নাকের পানি চোখের পানি এক করে বললো, "কবিসাপ, অহনা আমার সাথে ব্রেকাপ করছে। বিশাল মাপের কষ্টরে। কী করবো এখন আমি? ওকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না রে।"

ওর কথা শুনে মনে মনে অনেক অনেক প্রচুর প্রচুর বিশাল মাপের হাসি হাসলাম। মদনায় কয় কি? অহনা নাকি ব্রেকাপ করছে। আহা এই খুশিতে বেটা পার্টি না দিয়ে কান্না করছে কেন?
আমি নিজের হাসিকে কন্ট্রোল করে বললাম, ভন্ডু যা হবার তা তো হয়েই গেছে। চিন্তা করিস না। তোর জন্য আরেকটা অহনা খুঁজে আনবো।

সে কান্না করেই যাচ্ছে। আর বলছে, আমি বাঁচবো না রে ওকে ছাড়া। আজ বাসায় গিয়ে হাত কাঁটবো।

ওর কথা শুনিয়ে আমি ধমক দিয়ে বললাম, কী বললি? হাত কাঁটবি?
ও বললো, হ হাত কাঁটবো।
আমি বললাম, ভীষণ কষ্ট পেয়েছিস?
ও কান্না করতে করতে বললো, হু ভীষণ কষ্ট। কষ্টে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছেরে।

ওর কথা শুনে আমি বুঝে ফেললাম, বেটা পীরের লেভেলে চলে গেছে। আমি ওকে বললাম, কখনও প্যান্টের চেনে তোর নু*নু আঁটকায়ছে?
ও বিস্ময় চোখে চেয়ে বললো, না।
আমি বললাম, তাহলে কুইক বাথরুমে যাবি। প্যান্টের চেনের চিপায় নু*নু আঁটকাইয়ে চলে আসবি।

মদনা কী বুঝলো না বুঝলো। এক দৌঁড়ে বাথরুমে চলে গেলো। খানিকপর দেখি সম্পদের উপরে হাত রেখে বাথরুম থেকে বের হচ্ছে।

আমার সামনে এসে অধিক সিক্ত কণ্ঠে বললো, দোস্ত জ্বলে যাচ্ছেরে।
আমি বললাম, অহনার কথা কি আর মনে পড়ছে?
ও বললো, না মনে পড়ছে না। তবে আমার সম্পদে প্রচুর যন্ত্রনা হচ্ছে। কিছু একটা কর।
আমি বললাম, এবার তো বুঝেছিস, প্যান্টের চেনের চিপায় নু*নু আটকানোর কষ্টের কাছে গার্লফ্রেন্ডের ছ্যাঁকা কিছুই না।

ভন্ডু আমার মাথা নেড়ে "হু" বললো।
.
রাস্তার পাশে থাকা আইসক্রিম বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু বরফ নিয়ে ওকে বললাম, যা এবার তোর সম্পদে লাগা এটা।
.
গার্লফ্রেন্ডের ছ্যাঁঁকা
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪৬
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×