somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসা দিবস

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালোবাসা দিবস
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
.
টং দোকানে বসে চা খাচ্ছে হিমেল, সৌরভ আর হাসান। অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের তিনজনের।
সৌরভ দোকানদার মামাকে তিনটা সিগারেট দিতে বলে হাসান আর হিমেলের উদ্দেশ্যে বলে, আগামীকাল তোদের প্ল্যান কী?
প্রত্যুত্তরে হাসান কিছু বলে না। অপরদিকে হিমেল বলে, কাল সারাদিন ঘুমাবো।

- এই নাও বাবা সিগারেট।
দোকানদার মামা সিগারেট এগিয়ে দিলেন তাদের দিকে। সৌরভ সিগারেটে টান দিতে দিতে বলে, আমি আগামীকাল আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে থাকবো। চাইলে তোরাও আসতে পারিস।
সৌরভের কথা শুনে হিমেল বলে,
- এবারও একট জুটিয়ে ফেলেছিস?
- আরে বেটা এসব জোগাড় করা আমার কাছে কি অসম্ভব কিছু?
- তা না, তবে প্রতিবার কিভাবে জোগাড় করিস?
- সে বিষয়ে তোদের ভাবতে হবে না। বল গতবারের মতো এবারও যাবি নাকি!

হিমেল আর হাসান দু'জনে কিছুক্ষণ চোখাচোখি করে বলে, হ্যাঁ যাওয়া যায়। ফুর্তি করলে মন মেজাজ দু'টোই ভালো থাকে। কিন্তু.....
- কিন্তু কী? (সৌরভ)
- গার্লফ্রেন্ড তোর। আর আমরা সবাই মিলে ভাগ করে নিলে তোর সমস্যা হবে না তো? (হিমেল)
- আরে ধুর, এ তো কেবলই টাইম পাস আর মজা। ওর সাথে আমার রিলেশনের আজকের দিনটাই শেষ দিন। প্রতিবারই তো তোরা যাস। এবারও যাবি।
- হ্যাঁ, তা ঠিক। তা মেয়েটা দেখতে কেমন?
- তোদের মাথা ঘুরিয়ে যাবে দেখলে।
- বলিস কি? তবে তো এই মেয়েকে পেতেই হবে।
- কালকে কল করলে চলে আসিস।
- ওকে দোস্ত।
.
হিমেল আর হাসান বাড়ি চলে যায়। সৌরভ বসেই থাকে টং দোকানে। সন্ধ্যা হলে সেও বাড়ির দিকে রওনা দেয়।

রাতে হিমেল নিজের রুমে বসে ল্যাপটপে ফেসবুকিং করছে। মাস খানেক ধরে সে একটা মেয়েকে পটানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মেয়েটা কিছুতেই পটছে না। মেয়েটাকে অনলাইনে দেখে সে ইনবক্স করে।

- হাই অধরা কেমন আছো?
- এই তো ভালো, তুমি কেমন আছো?
- তুমি ছাড়া কেমন থাকি সেটা তো তুমি জানো। তা আগামী দিনের প্ল্যান কী তোমার?
- বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরবো ফিরবো।
- তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে?
- হ্যাঁ, কেন?
- না, এমনিই।
- হু।

হিমেল ফেসবুক থেকে বের হয়ে আসে। মুহূর্তেই তার উচ্ছ্বাসিত মনটা খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন আগেও মেসেন্জারে কথা বলার সময় মেয়েটি বলেছিলো, তার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই।
কিন্তু আজ? আজ মেয়েটে বলছে, আগামীকাল সে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে বের হবে।

- ভাইয়া আসবো? (হঠাৎই তার বোন তার রুমে নক করে)
- আয়।
- ভাইয়া দেখতো এই শাড়িটা কেমন?
হিমেল এক ঝলক শাড়িটার দিকে তাকিয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে বলে, অনেক সুন্দর।
- কালকে পড়বো শাড়িটা, কেমন মানাবে বলতো!
- একদম কাউয়ার মতো লাগবে। যা এখান থেকে।
তার বোন চলে যায় রুম থেকে।
.
পরদিন অর্থ্যাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সৌরভ কল দেয় হিমেল আর হাসানকে। সে বলে, দোস্ত ঘণ্টা খানেকের মধ্যে চলে আয় আমাদের বাসার পাশের আমবাগানটার কাছে।

হিমেল যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে থাকে। নীল পাঞ্জাবি, পায়জামা, জুতা সবকিছু পড়ে। তবুও কী যেন নেই, বলে মনে হয় তার। ঠিক তখনই তার বোন তার রুমে প্রবেশ করে বলে...
- কী? ঘড়ি খুঁজছিস?
- হ্যাঁ, কিন্তু....
- কিন্তু আমি জানলাম কী করে তাই না?
- হ্যাঁ।
- এই যে তোর ঘড়ি আমার কাছে।
- দে, ঘড়িটা দে।
- দিতে পারি, তার আগে বল আমাকে কেমন দেখাচ্ছে?
- একদম পেত্নীর মতো।
- হুহ, তাহলে আর ঘড়িটা পেলি না।
- না না, তোকে একদম পরীর বাচ্চার মতো লাগছে।
- না হয়নি, ভালো করে দেখে বল। মন থেকে বল।
হিমেল তার নিজের শরীরে সেন্ট মারতে মারতে বলে, হ্যাঁ অনেক সুন্দর লাগছে তোকে।
হিমেলকে ঘড়িটা দিয়ে তার বোন রুম থেকে প্রস্থান করে।
.
এদিকে সৌরভ কয়েকবার ফোন দিয়েছে হিমেলকে। হিমেল বলেছে, দোস্ত আরেকটু অপেক্ষা কর, চলে আসছি আমি।
বিকেল চারটার দিকে হিমেল আমবাগানে পৌঁছে যায়। গিয়ে দেখে সৌরভ আর হাসান তার অপেক্ষাতেই দাঁড়িয়ে আছে। তাকে আসতে দেখেই তারা বলে উঠে, দোস্ত মজা হবে আজ।
- মেয়েটি এসেছে? (হিমেল)
- হ্যাঁ, ও রুমের মধ্যে আছে।
- চল তাহলে।
- হুম চল।

রুমের সামনে গিয়ে হিমেল সৌরভকে বলে, দোস্ত তুই আগে ভেতরে গিয়ে মেয়েটাকে রেডি করে রাখ। তারপর আমরা ঢুকছি।
সৌরভ ভেতরে ঢুকে যায়। হিমেল আর হাসান বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছু সময় পর সৌরভ হিমেলের ফোনে ফোন করে বলে, আয় ভেতরে আয় তোরা।

হিমেল আর হাসান দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে। রুমটা অন্ধকার। মৃদু মৃদু আলো জ্বলছে রুমে। মৃদু আলোতে হিমেল দেখতে পায়, একটা অর্ধ নগ্ন মেয়ে খাটের সমীপে দাঁড়িয়ে কাউকে জড়িয়ে ধরে আছে।
পাশে থেকে হাসান সৌরভের উদ্দেশ্যে বলে ওঠে, দোস্ত রুম তো অন্ধকার। লাইটটা জ্বালিয়ে দে।

সৌরভ লাইটটা জ্বালিয়ে দেয়। লাইটের আলোয় অর্ধ নগ্ন মেয়েটার দিকে চোখ পড়তেই হিমেল চমকে ওঠে।
এসব কী দেখছে সে! মেয়েটা যে তার বোন। পাশে তাকিয়ে দেখে ফ্লোরে তার বোনের সেই শাড়িটা পরে আছে।
.
রিপোস্ট
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×