somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অর্থনৈতিক অঞ্চল আইনে থাকছে না শ্রমিক অধিকার × এটি কালো আইন, এতে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হবে : ট্রেড ইউনিয়ন

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে শ্রমআইন নিষিদ্ধ করে আইন করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তারা বলেছেন, কোন শিল্পাঞ্চলে এ আইন কার্যকর হলে শ্রমিকদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হবে। বাংলাদেশের ভূখ-ে কোন শিল্পকারখানা ও ব্যাংক-বীমা হলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুয়ায়ী হওয়া উচিত বলে তারা সংবাদকে জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন-২০১০-এর ১৩ নম্বর ধারার (১) এর 'ড' উপধারাতে বলা হয়েছে 'সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন অঞ্চল বা অঞ্চলের কোন প্রতিষ্ঠানকে নিম্নবর্ণিত সব বা যেকোন বিধান হতে অব্যাহতি দিতে পারবে, অথবা এ মর্মে নির্দেশ দিতে পারবে যে, উক্ত সব বা যেকোন আইনের বিধানাবলী, উক্ত প্রজ্ঞাপনে বিধৃত পরিবর্তন বা সংশোধনসাপেক্ষে, কোন অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যথা- ......(ড) বাংলাদেশ শ্রমআইন-২০০৬ (২০০৬ সালের ৪২ নম্বর আইন)...'এ নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে সেখানে কোন শ্রমআইন কার্যকর থাকবে না।। শ্রমিকরা আইনত কোন কার্যক্রম চালাতে পারবে না। ফলে সেখানে শ্রমিকদের প্রাপ্যসহ শ্রমিক অধিকারের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা যেভাবে পরিচালনা করবে শ্রমিকরা সেভাবে চলতে বাধ্য থাকবে। কোন বঞ্চনা বা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে এ আইন অনুযায়ী কোন প্রতিকার পাবে না।
নতুন এ আইনকে কালোআইন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরী। প্রবীণ এ শ্রমিক নেতা বলেন, এটা কোনভাবেই গ্রহণ যোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, এমনিতেই কলকারখানাগুলোতে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম চালাতে পারে না। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতে শ্রমআইন কার্যক্রম চালানোর আইনি বিধান থাকলেও সেখানে কোন রকম ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম চালাতে দেয়া হয় না। তারপর যদি কোন বিশেষ শিল্প অঞ্চলে অন্য কোন আইন দিয়ে শ্রম আইনকে অকার্যকর করে দেয়া হয় তাহলে সেখানে শ্রমিকরা অধিকারের কোন কথা বলতে পারবে না।
এ আইনকে প্রচলিত আইনের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক শ্রমিক নেতা হাবিবুর রহমান সিরাজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যেখানেই এবং যে অঞ্চলেই হোক না কেন দেশের ভূখ-ের মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠান হলে তাকে প্রচলিত আইন মানতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক-বীমা বা যেকোন শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলেই তা শিল্পনীতির আলোকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। প্রচলিত আইনে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটা না হলে তা হবে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী।
ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমকে অন্য আইন দিয়ে রহিত করা হলে তা হবে মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। এটা হবে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা-বিরুদ্ধ কাজ। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যপরিষদের সমন্বয়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খান বিষয়টিকে সে ভাবেই দেখেন। তিনি বলেন, কোন শিল্প এলাকায় উদ্যোক্তাদের শ্রমআইন থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে-এটা হতে পারে না। এটা একই সঙ্গে মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। একদিকে আইন করা হবে আর অন্যদিকে আর একটি আইন দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হলে তা হবে সরকারের দ্বিমুখী নীতিরই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, সরকার যদি মনে করে শ্রমিকদের অধিকার হরণ করে শিল্পায়ন করা যাবে_ তবে ভুল করবে। শ্রমিকদের অধিকার স্তব্ধ করে শিল্পায়ন হয়েছে-এমন নজির কোথাও নেই। বরং তা শিল্পের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। শ্রমআইন সংবিধান স্বীকৃত আইন। তাই শ্রমআইনকে অস্বীকার করা মানে একই সঙ্গে সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারকে হরণ করার সামিল।
তিনি বলেন, এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা ইপিজেডে দেখেছি শ্রমআইনকে অন্য আইন দিয়ে অকার্যকর করে উদ্যোক্তাদের সুবিধা করে দেয়া হয়েছে। সেখানে মালিকরা শ্রমিকদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করেছে। শ্রমিকদের নির্যাতন করেছে।
তিনি বলেন, শ্রমআইন নিষিদ্ধ করে সেখানেও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়নি। মাঝে মধ্যেই শোনা গেছে শ্রমিক অসন্তোষ-বিক্ষোভ। নতুন অর্থনৈতিক জোন করে শ্রমআইন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলে সেখানেও শ্রমিকরা তাদের দাবি-দাওয়া তুলবে না-এ নিশ্চয়তা কে দেবে?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×