somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিচারণ:ঐতিহাসিক ১২ই জানু্য়ারি

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(সামহোয়ারইন এ আমি নতুন নই।গত দুই বছর ধরে আমি এর একনিষ্ঠ পাঠক।কিন্তু কখনো লেখার সাহস হয়নি।আজ সাহস করে লিখলাম।আশা করি ভাষা ও বানানঘটিত দুর্বলতাগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন :P )

১৯৯৭ সাল এর ১২ই জানুয়ারি।তখন ক্লাস নাইন এ পড়ি।বার্ষিক পরিক্ষার পরে সব খালাতো ভাই-বোনেরা মিলে নানীর বাড়ি গিয়েছি।আমার আম্মুরা পাঁচ বোন আর এক ভাই।সেই সুবাদে আমাদের একটা মাত্র মামা।মামা সবার ছোট।আমরা যখন স্কুল লেভেলে পড়ি,তখন মামার বয়স ২৪-২৫।তো পাঁচ খালার মধ্যে তিন খালার আমরা সাতজন ছেলে-মেয়ে।সব কাজিনরা একসাথে হলে তো কথাই নেই।বান্দরের দল আমরা আর সাথে মামা।
যাই হোক,একদিন রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে মামা বললো ,"চল,তোদেরকে আজ স্পেশাল পান খাওয়াবো"।আমরাতো সব হৈ হৈ করে উঠলাম।লাফাতে লাফাতে সবাই হাঁটতে হাঁটতে একটু দুরে পান এর দোকানের দিকে চললাম।পানওয়ালা পান কেমন বানিয়েছিলো মনে নেই,কিন্তু সবাই মিলে খাবার সময় সেই পান অমৃত মনে হছ্ছিলো।
পান খাওয়া শেষে মামা দ্বিগুন উৎসাহে বললো,"চল আমরা লালদিঘীটা একবার চক্কর দিয়ে আসি।"আমরা তো দাঁতের সবগুলো পাটি বের করে সাঁয় দিলাম :D।আমরা জানতাম না নাটোর শহরের লালদিঘীটা কত বড়!!
আমরা হাঁটা ধরলাম।আমাদের সাথে যোগ দিলো একটা কুকুর।আমার এক কাজিন এর নাম আকা।সেই কুকুর তো আকা ভাইয়ার পিছু ছাড়েনা।আমরা আকা ভাইয়ার নামের সাথে মিল রেখে কুকুরের নাম দিলাম বাকা।তখন আবার জেমস এর "আঁকা-বাকা মেঠোপথ ধরে" গানটা খুব হিট।আমরা গানটা গাইতে গাইতে আকা ভাইয়াকে জ্বালাইতেছিলাম। বাকা-কে এক দোকান থেকে বিস্কুটও কিনে দেয়া হলো।
এভাবে হাঁটতে হাঁটতে এক সময় পুরো দিঘীটা চক্কর দেয়া হয়ে গেলো।আমরা বিজয়ীর হাসি নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলাম।সবার মনে ফূর্তি।বাসার কাছাকাছি আসতেই সবাই রেলগাড়ির মতো একজনের ঘাড়ে আরেকজন হাত দিয়ে গান গাইতে শুরু করলাম "দিনে নবী মোস্তফায়,রাস্তা দিয়া হাইট্টা যায়****"।
বাসায় ঢুকে দেখি সব থমথমে।এই সময় ঘড়ির দিকে খেয়াল হলো।তখন রাত সাড়ে বারোটা পার হয়ে গিয়েছে।রেলগাড়ির পিছনে তাকিয়ে দেখা গেলো শ্রদ্ধেয় মামুজান আমাদের পিছনে নেই।কখন তিনি চম্পট দিয়েছেন কেও দেখেনি।জানা গেলো আব্বু আর খালুরা সবাই আমাদের খুঁজতে বের হয়েছে অনেক আগে।আমার আম্মুকে দেখলাম খাটের কর্নারে বসে কাঁদতেছে।ভয়ে আমাদের আত্মারাম খাঁচাছাড়া।আমার এক কাজিনের আবার সাহস একটু বেশি।সে কি যেন একটা বলতে যাচ্ছিলো,তার আগেই আমার নানা কোথা থেকে ঊদয় হয়ে তার দিকে একটা আন্গুল ঊঁচিয়ে বললেন "তুমি অপরাধী"।সেই রাতে ঐ কথাটা আমাদের রক্তের মধ্যে একটা হিমশীতল স্রোত বইয়ে দিয়েছিলো।আব্বুরা বাসায় ফিরে আসবার পরে তারা কিছু বলার আগেই একজন কেঁদে দিলো।ফলে সেই যাত্রা আমরা রক্ষা পেয়ে গেলাম :P:P
পরের দিন অবশ্য মামা সন্ধ্যার আগে বাড়িমুখো হয়নি।আর যখন ফিরেছিলো ,তখন ;);)।আর রাতে নানার সেই ডায়ালোগ নিয়ে তখন সে কি হাসাহাসি :D
এরপরে আমরা বেশ ক'বছর এইদিনটিতে সবাই সবাইকে চিঠি দিতাম।দিনটিকে ঐতিহাসিক ১২ই জানুয়ারী হিসেবে পালন করা হতো।তারপর ধীরেধীরে একসময় চিঠি লেখা আর হতো না কাওকে /:)।শেষ চিঠি কবে লিখেছিলাম ভুলেই গেছি /:)
আজ নানা বেঁচে নেই।কিন্তু এখনও কেও কোনো অন্যায় করলে আমরা নানার মতো এখনো আন্গুল তুলে বলি "তুমি অপরাধী" :D
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃষ্টি দিনের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫



টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×