somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অন্যরকম হিমু
অন্যরকম হিমু নামে নির্বাচিত মুক্তমনা ব্লগার ও লেখক। উল্লেখ্য, যুক্তি যতটা পছন্দ করি মুক্তমনার দোহায় দিয়ে ধর্ম নিয়ে অযৌক্তিক কথাকে ঠিক ততটা মনেপ্রানে ঘৃনা করি।

চলো বহুদূর (Go beYond)

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের শুরুটা হয়েছিল বেসম্ভব সুন্দর ভাবে।

সেদিন হালকা বাতাস বইছিল। আমি ঘুড়ির লাটাইটা হাতে নিয়ে লাল কাগজে তৈরী ঘুড়িটার সাথে আকাশের সৌন্দার্য দেখছিলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, আরো একটু বেশি সৌন্দার্য নিয়ে একটা পরী আমার পাশে দাড়িয়ে ঘুড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি অবাক হলাম, ঘামতেও থাকলাম (ভয়ে)। পরীটা আমাকে অবাক করে তার দৃষ্টিটা ঘুড়ি থেকে আমার দিকে করল। আমি তাকিয়ে থাকলাম। ততক্ষনে ঘুড়ির সুতাটা কেটে গেল। সাথে আমার মনের সুতাও। তবে মনটা ঘুড়ির মত দুর আকাশে যেতে চাইছিল না। শুধু পরীর কাছ দিয়েই ঘোরাফেরা করছিল। আমাকে আবারও অবাক করে দিয়ে বলতে থাকল....
"আমি সারাহ ফারিয়া। এখানে নতুন এসেছি। ওইতো ওই বাসায় উঠছি (পাশের ভবনটা দেখিয়ে)। আম্মু আর আমি আপনাদের বাসায় বেড়াতে আসছি...."
আমাকে কিছু না বলতে দিয়েই সে ছাদ থেকে নেমে গেল। আমি শুধু তার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আর বুঝলাম, আমার ভিতর কি যেন একটা হয়ে গেল। তখন হুমায়ুন সাহেবের ডায়লগটা খুব মনে পড়ছিল, "ভালবাসাবাসির জন্যে অনন্তকালের প্রয়োজন নেই, একটি মুহূর্তই যথেষ্ট..."।

আমি প্রতিদিন বিকালে ছাদে আসতাম। ১তলা বাড়ির ছাদ থেকে ওর ২তলার রুমটাই চোখ রাখতে বেশ সুবিধাই হচ্ছিল।
একদিন খুব সকালে তাজা একটা গোলাপ নিয়ে ওদের বাসার নিচে আমার অবস্থান।
ফারিয়া আমার দিকে আসছে দেখে গোলাপটা পিছনে নিয়ে স্ট্যাচু রুপ ধারন করলাম। ও আমাকে অতিক্রম করে কিছু দুর গিয়ে আবার আমার দিকে ফিরে আসল। আমাকে কিছু কথাও বলল। যা শোনার জন্য কখনই আমার পুর্ব প্রস্তুতি ছিল না....
"নাম মাসুম তাই তো? সেদিন তোমাদের বাসায় গিয়েছিলাম। প্রথম দিন থেকেই আমাকে তোমার ভাল লেগেছে। পিছনের গোলাপটা গত রাতে আমাদের বাড়িওয়ালার বাগান থেকে চুরি করে আমার জন্য নিয়ে এসেছ। এখন ভয়ে কিছুই বলতে পারছ না....."
এ সব কিছুই আমার কানের উপর দিয়ে গিয়েছিল। সে হাত থেকে গোলাপটা নিয়ে চলে গিয়েছিল আর যাওয়ার আগে পিছন ফিরে একটা হাসি। সে হাসির অর্থ আমার জানা ছিল না। তবে তা প্রকৃতির সাথে মিলে গিয়েছিল।

শুরু হয়েছিল আমাদের ভালবাসা।

আমি প্রতিদিন তাকে একটা করে গোলাপ দিতাম। ও অনেক খুশি হত। একদিন গোলাপ আনতে ভুল করেছিলাম তাই ও আমার উপর কতই না রাগ করেছিল। সেদিন আমাদের প্রিয় বসার জায়গা লেকের পাড়টা কেমন রুক্ষ রুপ ধারন করেছিল। আমরা প্রতিদিনই এই লেকের পাড়ে বসে সময় কাটাতাম৷ ও আমাকে শাসন করত, রাগ করত আবার ভালবাসত।

একদিন....
দুজনে মিলে বাসায় ফিরছিলাম। দেখলাম ওদের নিচের তলায় নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। পরে জানতে পারলাম, ভাড়াটিয়ার ছেলে ঢাবিতে পড়ে। বেশ স্মার্ট। ভাড়াটিয়া চাকুরীর খাতিরে এখানে এসেছে।

যাই হোক ভালই ছিলাম আমরা, ভাল ছিল আমাদের ভালবাসা।

এরই কিছুদিন পর থেকে ফারিয়ার কিছু পরিবর্তন দেখা গেল৷ ও আগের মত আমাকে ফোন অথবা টেক্সট করেনা, দেখাও করে না। আবার এর মধ্যে ওর নতুন এক মামার উদয় হয়। তিনি প্রতিরাতে দুবাই থেকে ওর ফোনে কল করে ওর আম্মুর সাথে সারা রাত কথা বলতেন৷ আমি ওর নম্বর ব্যাস্ত পেতাম। এভাবেই আমাদের দুরত্ব বাড়ছিল।
একদিন এলাকার এক ছেলে বলল, ফারিয়াকে ঢাবির ঐ ছেলেটার সাথে রিক্সায় করে ঘুরতে দেখেছে। শুনলাম কিন্তু বিশ্বাস করলাম না।

কিছুদিন পর ফারিয়া আমাকে দেখা করতে বলল। লেকের পাড়ে একটা গোলাপ নিয়ে আমি ওর সাথে দেখা করলাম। সেদিন ও আমাকে অনেক কথা বলল। কথাগুলো শুনছিলাম আর মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমার কলিজাটা কচুকাটা কাটতেছিল। আমি কিছুই করতে পারছিলাম না। যাওয়ার সময় আমাকে কি সুন্দর অসুন্দর করে 'বাই' বলেছিল। আমি তার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে তার প্রতিশ্রুতিগুলো মনে করছিলাম 'চলো বহুদুর'। গোলাপটা আমার পাশেই পড়েছিল....

আমি এখনও লেকের পাড়টাতে যায়। সঙ্গী একটা গোলাপ। আর আসার সময় গোলাপটা লেকের পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে আসি। গোলাপটি একটু ডোবে একটু ভাসে আর মৃদ্যু স্রোতে এগিয়ে যায়....
(১৪/০৩/২০১৪)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:১৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×