
'ঐশীর ফাসির রায়' হয়েছে। সবার সাথে সাথে আমিও আনন্দিত কারন একজন ডায়নী, কুচরিত্রী, নেশাখোর, খুনির বিচার হয়েছে। দেশের প্রতি প্রেম চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে, দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা তরে তরে বেড়ে যাচ্ছে।
..... আমি সব সময়-ই ডি এল রায়কে তিরস্কার করে বলি "এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি"। কিন্তু না, আজ বলতে ইচ্ছে করছে না। কারন, এদেশে বিচার ব্যবস্থা সত্যিই ন্যায় বিচার (?) দিতে শিখেছে।
আসলেই কি তাই?? হয়তো না। কারনটা একটু ভাবনার বিষয়। পাঠককে প্রশ্ন করি, আপনি কি কখনও পকেট খরচের টাকা না দেওয়ায় আপনার পিতার গালে চড় কষেছেন? জানি, তা করেননি। প্রয়োজনে পিতার পকেট চুরি করেছেন তবুও অমন কাজের কথা মনেও পোষন করেননি। তাহলে কেন ঐশী মেয়েটা খুনের আশ্রয় নিল? কি এমন ঘটনা ঘটলো যে তাকে খুনই করতে হলো? কথাগুলো বাতাসে প্রলাপ।
আমি মানছি যে সে সবচেয়ে জঘন্য কাজটি করেছে। কিন্তু কেউ কি ভেবেছেন... কেন সে এই খুনের আগে নিজেই একবার আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্তে গিয়েছিল? তার পিতা-মাতাকে খুন করলেও কেন তার আদরের ছোট ভাইয়ের গায়ে আচোড়ও কাটেনি? এটুকুতো অন্তত জানেন যে খুনের পর পুলিশের কাছে সে নিজেই আত্মসমার্পন করেছিল? তার অনুশোচনা ই তাকে এমন কাজে ধাবিত করেছিল।
আমি জানি এই সমাজ ই তাকে খারাপ বানিয়েছে। সঠিক পরিচালনার অভাবে নেশাগ্রস্ত হয়ে ভুল পথে যাওয়া একটা মেয়ে সে। শুধুমাত্র পিতা-মাতার স্নেহ অভাব, বেখেয়াল আর আধুনিকতায় গা ভাসানো প্রশ্রয়-ই তাকে এতটা নিকৃষ্ট করেছে। তবুও তার শাস্তি হওয়া দরকার। অন্যায়ের শাস্তি দরকার। তাই বলে ফাসি?
..... সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার বয়স ছিল ১৮ বছরের কম। তাকে সংশোধন করার সুযোগ না দিয়ে বরং ডাক্তারী পরীক্ষায় তার বয়স ১৮ বছরের বেশি প্রমান করে তাকে শাস্তির ব্যাবস্থা করা হলো। অথচ এই বিচার ব্যবস্থাই ৭ খুনের প্রমানিত প্রধান আসামীকে রিমান্ড না দিয়ে জামাই আদরে কারাগারে পাঠায়। আইনের সুশাসন তখন কই থাকে?
আর এই বয়সের কথাই যদি ধরা হয় তাহলে তো বলতেই হয় 'এদেশের যেসব চাকুরিতে বয়স নির্ধারিত তাদের প্রত্যেককে ডাক্তারী পরীক্ষা করা দরকার'।
রাজন হত্যার বিচার নিয়েই ধরুন... সবাইকে বলতেই হবে "সঠিক বিচার" হয়েছে, আমিও এর বাইরে বলবো না। কিন্তু আমি এর সাথে এটুকুই বলবো 'আসলেই কি বিচার হয়েছে নাকি আসামীদের টাকা বস্তা ফুরিয়ে গিয়েছে বলেই তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে?'। কেন একথা বলছি তা অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। কারন, আসামীগন যত যত টাকা দিতে ঢেলেছিলেন তত তত দৌড়াতে পেরেছিলেন একথা কারো অজানা নয়। যে-ই টাকা বস্তা শেষ তখনই আসামীর লেজে ন্যায় বিচারে দড়ি দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হলো 'আমরা ন্যায় বিচারক'। এত কিছু বলার পরেই কেবল বলবো 'বিচার হয়েছে'।
বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে কিন্তু কোন বিচার যদি দুর্বলকে খোয়াড়ে পাঠিয়ে আইনের সুবিচার দেখায় (?) তাহলে তার প্রতি কতটা সন্মান রাখা উচিৎ আমার জানা নেই। এরা পারে ডায়রিয়া রোগীর জন্য বাথরুম ব্যবস্থা বন্ধ করতে। এরা পারে ৫৭ ধারা জোরদার করতে।
..... এরা পারেনা এমপি লিটনের বিচার করতে, এরা পারেনা মন্ত্রীর নাবালক মাতাল ছেলের বিচার করতে, পারেনা ঐশী গড়ার কর্মকারদের বিচারের আয়তায় আনতে।
ঐশীর খাতার প্রলাপগুলো পড়লে এ সমাজের প্রতি ধিক্কার আসে। স্কুলখাতার ১২ পৃষ্ঠা জুড়ে লেখা 'মা-বাবাসহ কেউ তাকে বোঝার চেষ্টা করেনি। কেউ ভালো দিকগুলো দেখেনি। সবাই শুধু তার খারাপ দিকগুলো খুঁজে বেড়িয়েছে।'
..... সম্বোধনহীন ওই সুইসাইড নোটজুড়েই জীবনের প্রতি চরম বিতৃষ্ণা, না পাওয়ার বেদনা আর নানা কষ্টের স্মৃতি ফুটে উঠেছে। এতে এক স্থানে লেখা রয়েছে, 'কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আমার হাত কাপছে।'
..... শেষের পৃষ্ঠায় লেখা, 'লেখার মতো আরও অনেক কিছুই আছে। কিন্তু আর কিছুই লিখতে পারছি না। জ্বরের জন্য হাত কাঁপছে। শরীর জ্বলন্ত আগুনের মতো গরম। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। এখন যে কেউ একজন গায়ে হাত রাখবে, এমন কেউ নেই। থেকেও যেন নেই। হায়রে পৃথিবী! কত ভালোবাসার, কত সাধের! আমি ভাববো, একসময় পৃথিবী নামে আমার পরিচিত একটা ছেলে ছিল!'
এই প্রলাপগুলো শুধুই প্রলাপ। এগুলো থেকেও তো বোঝা যায় তারও স্বাধ ছিল স্বাভাবিক ভাবে বাচার।
..... লেখাগুলো ক্রমে অগোছালে হয়ে যাচ্ছে, জানিনা আসলে কি বলা দরকার বা কি বলা উচিত। তবে বেলা শেষে একটুই বলবো; বিচার হওয়া দরকার ছিলো, বিচার হয়েছে, তবে হয়তো (?) সুবিচারটা হয়নি।
(১৪/১১/২০১৫)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



