somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সভ্য
আমি একজন শখের ব্লগার, ব্লগ লিখছি প্রায় বারো বছর হবে, তবে কোনো ব্লগে বেশীদিন থাকতে পারিনি, কেননা, লেখার কারণে হউক, বা ব্লগের নিয়ম কানুনের কারণে হউক, বার বার থেমে যেতে হয়েছে, ব্লগ লেখার বা হেল্প চাওয়ার কারণে সব কিছু হারিয়েছি।

চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে একদিন

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১৯৮৪ সাল, ফাষ্ট ইয়ারের শেষের দিকের ঘটনা। সকাল থেকে ঝির ঝির বৃষ্টি, কলেজে যাবো কি যাবো না বুঝতে পারছি না, নাস্তা খাওয়া হয়ে গেছে, আবার ও বিছানা নিয়েছি..বাহিরে অঝোর ধারায় ঝরিছে শ্রাবণ।

গতরাতের অর্ধেক পড়া হুমায়ূণ আহমেদ নিয়ে বসবো কিনা ভাবছি..তখন বাবার গলা শোনা গেলো, "কি? কলেজ হবে?
বাবার এই এক প্রবলেম, কলেজ হলে পঞ্চাশ টাকা দিতে হবে, আর বৃষ্টির কারণে যদি না যায় তাহলে সেটা দিতে হবে না..আমি সেই সবে মাথা ঘামাচ্ছি না..টাইম হলে কাপড় পড়ে চলে যাবো এমন চিন্তা...

কর্মাস কলেজের ক্লাশ তাও মন্জুর হাসি দত্তের প্রথম পিরিয়ড মিস করা যাবে না, আমি ভাবছিলাম, এইদিকে মা চাই কলেজ যাওয়ার আগে গরম গরম ভাত যদি কিছু খাইয়ে দেওয়া যায়। সেটা নিয়ে মা বিজি।

কিছুক্ষণ পর বাবা অফিসে চলে গেলো তার পুরানো সাইকেল নিয়ে..আমি এতক্ষণ কিছু মনে করিনি এমন ভাব নিয়ে থাকলেও এবার ঠিক ঠিক ভাব নিলাম, মা'কে বললাম..দাও, টাকাটা দাও..

কি...রে তুই তো কলেজে যাবি না, টাকা কেনো নিবি..মার প্রশ্ন? মা'কে বললাম, কখন বললাম আমি কলেজে যাবো না..মা বলছে এই ঝির ঝির বৃষ্টিতে কলেজে যাই কেউ..আমি একটু মুড অফ করে বললাম মা প্রথম ক্লাশটা সিরিয়াস ক্লাস, যেতে হবেই..মা বললো..তুই এই বৃষ্টিতে যাবি আর তোর শার্টে পড়বে চিটে...সেই দাগ কে উঠাবে শুনি?

আমি পাত্তা না দিয়ে মা'র থেকে টাকা নিয়ে বাইক বের করলাম কেননা তখন বৃষ্টি খানিক ধরে এলো বলে কথা। এই ম্যাডামের ক্লাস আমার মিস হয় না এটা কলেজের সবাই জানে..তখন আমার একটা এম.টি ফাইভ মোটর সাইকেল ছিলো..কাপড় পড়ে বই খাতা ব্যাগে ঢুকিয়ে পুরো ফিটিং নিয়ে বের হতে যাবো মা এসে দাড়ালো, বললো দাড়া, কপালে সাইন অফ দা ক্রস দিয়ে দিলো..মা এইটা সব সময় করবেই.. মায়ের.আশীর্বাদ।

ছুটে চলেছি সরকারী কর্মাস কলেজের উদ্দেশ্যে, তার আগে বাইকে এক লিটার তেল ঢুকিয়ে নিলাম। কলেজে যেতে যেতে বৃষ্টি বাবুর আর দেখা নেই, পুরা অফ..হালকা রোদ ও উঠেছে..আমি ফেচি বিল্ডিং পার হয়ে কলেজের মুখে পৌছতেই দেখলাম মোটা আসিফকে..সে রিক্সা থেকে নামছে...

(আসিফকে অনেক মিস করি..কোথায় যে আছে ছেলেটা, তার বাবা রেলের বড় কর্তা ছিলেন) আমি ইশারায় আসিফকে বললাম তুই আয় আমি বাইক ষ্ট্যান্ডে রাখছি..।
যেহেতু বৃষ্টি হয়েছে চারিদিকে কাদা ময়লা পানি..জুতার অবস্তা বেশী খারাপ..জিন্স পেনট'এর নীচের দিকে বেশ কাদা লাগে....কাদা আমার দুচোখের বিষ। আমি ঢুকতে যাবো তখন মোটা আসিফ ও চলে এসেছে..আমি আগে ও পিছনে...
আমরা এগিয়ে যাচ্ছি..সেইদিন নোটিশ বোর্ডে কোনো নোটিশ ছিলো যার ফলে ছাত্র ছাত্রীদের ঢুকতে বেশ সময় লাগছিলো..আসিফ আমাকে ধাক্কাচ্ছে..আমি বললাম, এমন করছিস কেন..সামনে মেয়ে, গায়ে লেগে যাবে যে..আসিফ বলল আমি কিছু করছি না পিছন থেকে ধাক্কা হচ্ছে..

এইভাবে এক পা দু পা করে এগুচ্ছি, সিড়ি দিয়ে দুই ধাপ উঠতে হবে, আমি উপরে উঠছি আর ঠিক তখন দেখলাম ময়লা কাদা লাগানো ভিজা তেনা তেনা একটা পাচ শ টাকার নোট। আমি এগিয়ে গিয়ে সেই টাকার উপর পা দিয়ে রেখেছি আর আগ বাড়াচ্ছি না...আসিফ বলছে..কিরে..দাড়িয়ে গেলি কেন?

আমি বললাম ওয়েইট জুতার ফিতা খুলে গেছে..এইটা বলে আমি চট করে জুতার ফিতা লাগানোর ভান করে এক ফাকে টাকাটা হাতে নিয়ে ফেললাম আর সাইড কেটে আসিফকে বললাম নোটিশ বোর্ডে কি লেখা আছে সেটা পড়ে ওয়াশরুমের দিকে আয়.....
বাদবাকীটা শুধুই ইতিহাস। বেশ মজা হয়েছিলো দিনটি আমি আসিফকে ফিফটি ফিফটি হিসাব দিলাম আর তাতেই আসিফ আমাকে তার খুব প্রিয় বন্ধু বানিয়ে ফেলে..এতটুকুই ঘটনা তবে সেইদিন আমরা খাওয়া দাওয়া করেছি, ঘুরেছি, সিনেমা দেখেছি (দি রেইন, ছবির নাম) এই ছবি আমি দেখছিলাম আর আসিফ কাচ্চি বিরায়ানী খেয়ে আরামসে এয়ারকন্ডিশনের ঠান্ডায় ঘুমাচ্ছে..এই হারামী নাক ও ডাকছিলো..সেই দিনটির কথা মনে পড়ে গেলো আজকের বৃষ্টি দেখে। (ইচ্ছে করে সংক্ষিপ্ত করলাম কেননা বড় লেখা হলে অনেকে পড়তে চাই না, আমরা টিয়া পাখি দিয়া হাত গুনিয়েছি, তারপর মারবেল দিয়ে লটারী ও খেলেছি, বেশ মজা হয়েছে, যদি এই স্মৃতি চারণ ভালো লাগে তবে আরেকটা লিখবো যেটা আমার জীবনের সেরা স্মৃতি)।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৩৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার কথা : তৃতীয় পর্বের পর

লিখেছেন সুম১৪৩২, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩০



“আসলে উনি কে…?”
এই শিরোনামের একটি লেখা দিয়েই আমার লেখালেখির শুরু।
সামুতে।
এটার পর, আমি এই গল্পের কয়েকটা পর্ব লিখেছিলাম। মোট তিনটি । শেষ পর্বটির নাম ছিল—“পশ্চিম পাড়ার পথে”।

গল্পটার সময়কাল ১৯৯০ সাল।
রহস্য আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধ ভাঙার আওয়াজ আজ আর কেন আ্ওয়াজ করছেনা ?

লিখেছেন সূচরিতা সেন, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩০



সত্যি করে বলছি মাঝে মাঝে ভাবি এটা কি সেই বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ? একটা সময় যে বাঁধ ভাঙা আওয়াজের
একটাই পরিচয় ছিল,বিশ্বের সব থেকে বড় বাঙলা ভাষীর ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৯



মুনা, আজ ঢাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম।
যদিও অনেকের কাছে এই শীত টুকুই অনেক শীত। আমার আবার শীত কম। তুমি শুনলে অবাক হবে এই শীতে আমি পাতলা একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান - বাংলাদেশ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০

ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। একেবারে উথাল পাথাল অবস্থা। যেকোন সময়ে সরকার পতন হয়ে যেতে পারে।
এর আগে কয়েক বছর আগেও এমনটা হয়েছিল, হিজাব ইস্যু নিয়ে লোকজন সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শীতার্ত একটি শিশু ও দুটি কুকুর

লিখেছেন ইসিয়াক, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩২


রাত বাড়ে যত তাপমাত্রা নামে তত,
পা ফাটে, ঠোঁট ফাটে গভীর হয় ক্ষত।

একটা শিশু কাঁপছে শীতে ছাতিম গাছটার নীচে।
দুটো কুকুর গা ঘেঁষাঘেসি করে তাকে ছুঁয়ে আছে।

শীতার্ত সবাই তারা,সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×