
- কবি, তুমি ঘুমাও এবার । অবসন্ন ভোর সন্নিকটে!
- গিয়াছে চলিয়া যে পাইয়াছিলাম কোন এক মধুর গগনে গোপনে ধূম্রজালের আঁড়ালে...
- তুমি কী এবার সাধুতে চলে গেছো !
- ডোন্ট টক, দেয়ার ইজ সামথিং আই কেয়ার ।
সুধাইয়া দিয়াছিলাম অন্তরিন্দ্রিয়ের হাঁসফাঁস বিষণ্ণতাগুলো চুপি চুপি তার হৃদয়ের কর্ণে...
- হয়েছে তোমার এবার ? কবি ? নয়তো আমিও শুরু করে দেব কিন্তু ! এই দিলাম...
থাকতে নেই কোন সৌজন্যতা হারিয়ে যাওয়ায়
যতসব ছিন্ন করে অগোচরে ঢুকে যাও অজানার পথে
চেয়ে দেখ এই জীবনের কোন রঙ নেই চেনা ধুলিকণায় !
- স্টপ ! স্টপ !!
শুষ্ক হৃদয়ে করো কী রোপণ ?
ভালোবাসা ? নাকি দীর্ঘশ্বাস ?
যোজন যোজন দুয়ারে থাকিয়াছি অপেক্ষায়....
- আবার ! আবারও তুমি ভুল পথে যাচ্ছ? এই শোন, এবার ঘুমাও ভাই । তোমার মস্তিষ্কের ব্যাটারী শেষ হয়ে গেছে !
- তুমি আমার সাথে এমন করছো কেনো ! বারংবার আমাকে কবি বলে সম্বোধন করছো কেনো ?
- ওমা ! এ কী বলছো তুমি ! তোমাকে কী বলে ডাকবো তাহলে ?
- কবি বাদে যে কোন কিছু ।
- তোমার সাথে কবি ছাড়া আর কিছু যাবে বলে আমার মনে হচ্ছে না । তুমি যে লিখে চলেছো অজস্র কবিতা !
- কবিতা লিখলেই সবাই কবি হয় না ।
- কী বলেরে এই পাগলা কবি ! তাহলে তোমাকে কী বলে ডাকবো ?
- তুমি ডাকতে পারো আমায় উদ্ভাস্তু ।
- এ কেমন সম্ভাষণ ! আমি এই নামে তোমায় ডাকতে পারবো না ।
- হ্যাঁ, আমি উদ্ভাস্তু । তোমার কী মনে হয়েছে আমি জীবন নিয়ে ভেবেছি কখনো ? সবাই যা নিয়ে দলছুট, আমি নীরব, নিষ্প্রভ । জীবনের ঘরে আমি নিষ্প্রাণ উদ্ভাস্তু। তাকেও তুমি জিজ্ঞেস করে দেখো, সেও বলবে আমার হেঁয়ালিপনার কথা ।
- এসব বিভ্রান্তিমূলক কথা ছাড়ো । তোমার কবিতাই তো এক একটা জীবন । তোমার সাথে আর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না । এখন ঘুমাতে যাও, আমারও চলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে ।
- যেও না চলিয়া মোরে একাকী করিয়া
তুমি না থাকিলে যায় মোর অন্তর পুড়িয়া
এই ঘরপোড়া জীবনে তুমিই যে হয়েছো আমার এক টুকরো আলো
প্রত্যুষের আঁড়চোখে তোমায় দেখি, নিদ্রাহীন হৃদয়েও দেখি তোমায়
তোমার বক্ষে রেখে মোর বক্ষ মরিতে চাইয়াছি যে ওগো ।
- ধুত ! এতো ইমোশনাল করে দিও না তো ! তুমি এখন না ঘুমালে আমায় দেখবে কীভাবে প্রত্যুষে ।
তুমি বলছো যাকে আলো সে তো যায় হেরে সেই আলোতেই । আমার সময় পুরিয়ে আসছে, জানো না আমি দেখতে পারি না ভোর, না পারি দ্বিপ্রহর, বিকেল... । আলোর এক একটি ক্ষণ আমার মৃত্যু । সন্ধ্যায় হয় জন্ম আমার, যখন তোমার হয় প্রত্যুষ । তোমার নিদ্রাহীন দিবায় আমি বহুদূর, থেকো না তুমি সেথায়, নয়তো দেখে ফেলবে আমার বিশ্রী স্বার্থপরতা ! পারবেনাকো ছুঁতে আমায় মায়াবী তোমার ওই দুই চোখে । রেখেছো কী আমায় এই চোখের আঁড়ালে , যেথায় তুমি জ্যোতিহীন দৃষ্টিচারী !
এ কী ! তুমি কাঁদছো কেনো, কবি ?
- জেনে রেখো যেইদিন আমার নীদ্রাহীন চোখ না দেখিবে তোমায়
সেইদিন মরণ হইবে আমার এই শহরে, চোক্ষের আঁড়ালে, নিঃসঙ্গ নিঃশ্বাসে।
- না, না । বলো না কবি এভাবে । কোথাও যেন খুব ব্যাথা অনুভব হয় ।
জনম জনম তোমার কৃপায়, তোমার একচ্ছত্র হয়ে যেন দিতে পারি তোমায় বিদায় । জানো তো তুমি, আমার মরণ তোমারও পরে, তারও পরে, এরও পরে ! এভাবে কত কবি এই হৃদয়ের জমিনে রক্তজবা হয়ে ফুটে আছে, তার সৌরভেই তো এই দেহে এতো রূপ, এতো ঝংকার । ভাবছি রাখবো তোমায় সাদা গোলাপ করে ।
একি ! কবি, তুমি ঘুমিয়ে পড়লে যে ! যাক ভালোই হলো । আমার স্বার্থপরতাকে আজও ডেকে রাখতে পারবো । কবির চুলগুলো কেমন রুক্ষ হয়ে গেছে ।
গেঁথে দেই তার চুলগুলোর মাঝে কিছু জ্যোৎস্না, হয়তো তার নিদ্রাভূত চোখে কিছু আঁধার খেলা করবে সুখ স্বপ্ন হয়ে । কবি তুমি কী জানো, দেখি আমি তোমায়, যখন দেখো না তুমি আমায় । চললাম কবি, তোমার প্রত্যুষের অপেক্ষায়.....
ছবি কৃতজ্ঞতা- নেট ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



