somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প দ্বীপের খোঁজে...

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ভাবছি অনেকদিন ধরে, অনেকদিন... একটা গল্প লিখবো । কবিতায় আর হৃদয় ভরছে না। তাই বিয়োগাত্বকভাবে ভেবে চলেছি... যাবতীয় আনকোরা কাব্যিক ঘ্রাণমাখা শব্দ বের করে দেয়ার একটি অ-পাহারাদার সুযোগ খুঁজছি ! লিখতে বসলেই মস্তিষ্কে রিমঝিম শব্দ ঝরে, কী করে আমি একটি গল্প লিখি ! মাঝে মাঝে রুদ্রমূর্তি হয়ে শব্দগুলোকে মুঠে মুঠে ধরে ধরে হৃদয়ের দেয়ালে আছাড় মারি ! কিন্তু এতে ঘটে হিতে বিপরীত ! হৃদয়ের নরম দেয়ালে ওরা দোল খায়, ওদের পেট থেকে আরো শব্দ উগরে বের হয় ! আমি খুঁজি বিষয় ওরা দেয় শিহরণ, আমি খুঁজি বাক্য ওরা দেয় চরণ, আমি খুঁজি প্যারা ওরা দেয় স্তবক....আমি গুটিসুটি হয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে রওয়ানা হই মৃত্তিকা পথে, বিভ্রম জেগে দেখি আমি জোনাকজ্বলা জ্যোৎস্না পথে আকাশতরীতে!

নিতান্তই গল্পের ভেলায় বৈঠা নিয়ে বিপরীতে এঁকে যেতে চাই বহমান স্রোত, গল্পের ঘরে গল্প, গল্পানুভব ! কিন্তু এই অকূল দরিয়ার অতলে শুধুই শব্দের জল, শব্দের জলদেবী- আমার গল্পের ভেলায় হামলে পড়তে চায় ! আমি বৈঠার বেগ বাড়িয়ে দেই, গল্প সাওয়ারি হয়ে ছুটতে থাকি শব্দের সমুদ্রে, অতন্দ্র নাবিকের বেশে নিজেকে উদ্ধার করতে । গল্পের দ্বীপ এখনো বহুদূর, অজস্র খরস্রোতা শব্দ ঢেউ পাড়ি দিতে হবে...

জলের গায়ে জ্যোৎস্না ভাসে
ওরা প্রেম
ওরা অভুক্ত
নিমগ্নে নিঃসৃত নোনা
বিষণ্ণতা
ভাঙন
নীরবতা...

একি ! ওরা আমাকে গ্রাস করতে চাইছে, বিভ্রান্ত করছে, আমি আবারও কবিতায় ঢুকে যাচ্ছি ! নিউরণকে শান্ত করলাম, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলাম । কঠিন শপথে নিজেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করলাম- কবিতাকে ছুটি দিলাম। সকল উপকরণাদি- জ্যোৎস্না, জোনাক, চন্দ্র, জল, অশ্রু, অনুভব, প্রেম, সন্ধ্যা, রাত্রি, বিষণ্ণতা, নীরবতা, নিশীথ, ডম্বুর, অঙ্ঘুর, ঘংগুর নীলাম্বরী ঝেড়ে ফেলে দিলাম ! আজ আমি গল্প লিখবো, গল্পের দ্বীপে যাবো । একাকি মধ্য দরিয়ায় গল্পের খড়কুটোয় বানানো ছোট্ট তরীতে খাচ্ছি ঘুরপাক । এখনো তীরের সন্ধান মেলে নি, চোখের আঙ্গিনায় শুধু জলছবি, শব্দকবি। আমি দিশেহারা, পথহারা নাবিক । এগিয়ে যাচ্ছি উদ্দেশ্যহীন গল্পের ভেলায় শব্দের সমুদ্রে ! অনুপ্রেরণা দেবে কে আমায় ? কোন নিশাচর বিহঙ্গ ? যে অথৈ সমুদ্রে চন্দ্রের কিরণে উড়ে যায় কূলের ঠিকানায় ! নাকি হতচ্ছাড়া মেঘদল ? যে আকাশের বুকে বৈঠা চালায় ? আরশিতে রূপ দেখতে দেখতে যে পার করে সমুদ্র !

আমার দেহে কাঁপন, ক্রমশ দূর্বল হচ্ছি । আর কতদূর পাড়ি দিলে একটি গল্প পাবো, হৃদয়ের শীরায় শীরায় যন্ত্রণা । আমি দেখি নিঃসৃত তাজা রক্তের দাগ । বৈঠা থমকে যাচ্ছে, ধীরে ধীরে চেতনা যাচ্ছে খসে । চোখের পাতার সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে আমি দেখছি আলো, একটি আকাঙ্ক্ষার গল্পের দ্বীপ । তীর ঘেঁষে সদ্য জন্ম নেয়া কোমল সবুজ ঘাস জল পান করছে ! আমি জেগে রইলাম, অণুপ্রেরণা পেলাম, এই অদূরে তীর, গল্পের দ্বীপ । সুদীর্ঘ পথ গল্পের স্রোত আঁকতে আঁকতে এখন সকল স্রোত আমার অণুকুলে । তাই ভেলা চলছে বৈঠাহীন । গল্পের চাদর গায়ে দিয়ে আমি মুড়িয়ে আছি চাতক পাখির মতো । ঢেউয়ের নৃত্যে ভেলা ভেসে যাচ্ছে তীরে । এই ক্ষতবিক্ষত হৃদয়েও ঢেউগুলো নিয়ে আমার গর্ব হচ্ছে, এ গুলো যে আমার সৃষ্টি !

যখন আমি গল্পের দ্বীপে সবুজ ঘাসের বিছানায় আঁচড়ে পড়লাম তখন চেয়ে দেখি ভেলা বৈঠার অবশিষ্ট এই নিষ্ঠুর শব্দ সমুদ্র খেয়ে নিচ্ছে । আমি চোখ বুজে আকাশ দেখার চেষ্টা করছি । আমি যন্ত্রণাক্লেষ্ট হৃদয় নিয়ে কোথাও হারিয়ে যাই....

....নরম শুভ্র কোমল বনগোলাপের ঘ্রাণ মাখানো বিছানায় জেগে উঠি যখন আমি তখন ভাবতে পারি নি কতকাল আমি হারিয়ে ছিলাম । অজস্র উৎসুক শব্দের দৃষ্টি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার মনে পড়ছে, আমি গিয়েছিলাম গল্প দ্বীপের খোঁজে, আমি পেয়েছিলাম সেই অধরা গল্প দ্বীপ ! তবে কেন এই আমি বিরক্তিকর শব্দ ঘরে ! তবে কী সবকিছু বিভম ছিলো, বিভ্রান্তি ছিলো ? আমি বিছানা ছেড়ে বেরিয়ে আসি, উজ্জ্বল রোদের ঝলকানিতে চোখ মেলতে কষ্ট হচ্ছে । আস্তে আস্তে চোখ খুলে দেখি আমার সামনে সেই সমুদ্র যা পাড়ি দিয়ে আমি গিয়েছিলাম গল্প দ্বীপে । আমি চিৎকার দেই, আমি গল্প দ্বীপে খবর পাঠাতে চাই ।

আমার চিৎকার শুনে কিছু শীতল বাতাস আমার কর্ণে লেগে যায়, ওরা বলে- তোমার গল্প তোমার শব্দঘর, শব্দসমুদ্র । তোমার হৃদয় বেঁচে থাকে শব্দে, যাদের তুমি ক্ষরণ চেয়েছিলে ! যাকে তুমি গল্প দ্বীপ মনে করো সে তোমার এই শব্দ সমুদ্রের বুকে বসত করে, এমন আরো অজস্র গল্প দ্বীপ শব্দজলে ডোবে, শব্দজলে জাগে । তুমি নিরাশ হইয়ো না, খুঁজে দেখো তোমার শব্দ, চরণ, অনুভবের রেখা ধরে অজস্র গল্প জেগে আছে উজ্জ্বল হয়ে তোমার অপেক্ষায়....


ছবি- গুগল ইমেইজ !
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৩৯
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হয় না দেখা আর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


কতদিন হলো, হয় না দেখা
রঙধনু মেলা, শীত কাটে না
আর ঐশ্বর্য উষ্ণ বেলা
চঞ্চলতায় টিপুটিপু খেলা;
বিস্মৃতির পাতায় ডুবে যাচ্ছে
চাঁদ না দেখার আর্তনাদ,
ভেঙ্গে পরেছে অমোঘ
অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ঘুণ ধরেছে
নুনে পরেছে সময়ের ছলনা
মুখ ফিরেছে বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×