
রাত্রির সাথে বসে আছি আমি, রাত্রিও বসে আছে আমার সাথে! একটি অবস্থান- সামনে সমুদ্র, পেঁছনে শৃঙ্গ, ডানে জঙ্গল, বামে মরুভূমি, উপরে আকাশ, নিচে মৃত্তিকা একই বর্তিকায় আবদ্ধ । চারপাশে ঘুরছে বাতাস। দিনের আলো এখনো নেভে নি। নীলের সাথে সাথে সারিসারি শ্বেত মেঘদলও রূপ বদল করছে । রাত্রি চুপচাপ বসে আছে । আমি কৌতুহল সংযত করতে না পেরে রাত্রিকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এমন নীরব হয়ে আছো কেন! রাত্রি কোন উত্তর করলো না, আমার প্রশ্ন শুনে একটু নড়েও উঠলো না! এমন চুপচাপ রাত্রিকে বিগত সময়ে কখনো দেখি নি, যদিও এমন মূহুর্তও রাত্রির সাথে আমার কখনো আসে নি ! আমি দেখার চেষ্টা করলাম রাত্রি ঠিক কোন দিকে দৃষ্টিপাত করে আছে। কিন্তু আমি বিভ্রান্ত। আমি বুঝতে পারছি না রাত্রির চক্ষু ঠিক কোন দিকে মগ্ন! আমি কিছুটা ভীত হয়ে বসে আছি। ভাবতে লাগলাম রাত্রি কী আমার সাথে অভিমান করেছে!
হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম রাত্রি প্রসারিত হতে শুরু করলো, অলঙ্কৃত কালো রঙ নিয়ে! চারপাশে লালচে হলুদ বর্ণ লেগে যাচ্ছে...। ধীরে ধীরে চারদিক তার বুকে গ্রাস হতে লাগলো... আকাশ, মৃত্তিকা, সমুদ্র, শৃঙ্গ, জঙ্গল, মরুভূমি... এভাবে চারপাশ যখন রাত্রি সম্পূর্ণ গ্রাস করতে লাগলো আমি বিস্মিত দৃষ্টি অবনত করে রাখতে পারি নি। আমার দৃষ্টির সামনে ক্ষণিকের মধ্যে সবকিছু যেন অদৃশ্য হয়ে গেল, যেন মিলিয়ে গেল সব, ধারণ করলো রাত্রির রঙ! হঠাৎ রাত্রি পেঁছন থেকে জিজ্ঞেস করলো, কী দেখছো অবাক হয়ে! আমি কিছুটা থমকে গিয়ে রাত্রির দিকে দৃষ্টি ফেরালাম, তখন দেখতে পেলাম, অদৃশ্য হওয়া সবকিছু আমার চোখের সামনে ভেসে আছে, সমুদ্র, শৃঙ্গ, জংগল, মরুভূমি, আকাশ, মৃত্তিকা... আমি এক ধ্যাণে রাত্রির দিকে তাকিয়ে রইলাম, এ যেন খুব অচেনা মূহুর্ত! রাত্রিও আমার দিকে তাকিয়ে রইলো অবাক হয়ে। সেও যেন আমার মধ্যে এমন কিছু দেখছে যা আমি তার মধ্যে দেখছি! আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কে রাত্রি? রাত্রি উত্তর করলো, আমি তোমাদের নাম দেয়া রাত্রি। তুমি যা দেখছো আমি তাই, আবার হয়তো তাই নয়। তোমাদের দেখার মধ্যে রয়েছে হাজারো কারণ অর্পিত অনুভব। যদি বলি আমি সবকিছু, সর্বময়, সর্বব্যাপ্তি তবে তাই আমি। আমি খুলে দেই সেই চক্ষু যে চক্ষু দিনের আলো অগ্রাহ্য করে! আমি সেই চক্ষু মেলে ধরি যে চক্ষুর সামনে থাকে একটি সত্য আয়না।
আমি বললাম, মানুষ যে রাত্রি নিয়ে অনুভবে লিপ্ত থাকে, যে রাত্রি নিয়ে হৃদয়ে আল্পনা আঁকে, যে রাত্রিকে নিয়ে গল্প কবিতায় মুগ্ধতা প্রকাশ করে তুমি কী সেই রাত্রি? রাত্রি উত্তর করলো, আমি সেই রাত্রি নই, হয়তো কারো কারো কিছু কিছু অনুভব মিলে যায়। ওরা নিজস্ব জ্ঞানে শুধু বিভিন্ন আঙিকে আমাকে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু 'আমিকে' তারা ব্যাখ্যা করতে পারে না। তোমাকেও যদি বলি আমাকে ব্যাখ্যা করো তুমিও তা পারবে না। রাত্রির কথা শুনতে শুনতে আমিও তাকে ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করলাম। রাত্রি হঠাৎ বলে উঠলো, তুমিও আমাকে ব্যাখ্যা করতে চাইছো! আমি চমকে উঠলাম, আমি কী ভাবছি রাত্রি তা জানলো কীভাবে! রাত্রি আবার বলে উঠলো, তুমি ভাবছো আমি কীভাবে তোমার হৃদয়ের খবর জেনেছি! আমি মাথা নাড়লাম৷ রাত্রি বললো, তুমি কী জানো, তুমি আবৃত রাত্রি দিয়ে ৷তোমার মধ্যে প্রবহমান সবকিছুই রাত্রির মধ্যে বাস করে, সেখানে কোন আলো নেই। তোমার সেইসব অন্ত্রে দিনকে পৌঁছাতে হলে তুমি তোমাকে খুঁড়তে হবে। আর তুমি যদি তোমাকে খুঁড়ো তবে তুমি কখনো দিনের খোঁজ পাবে না! আমাকে কী তোমার ম্যাজিসিয়ান মনে হচ্ছে? কিংবা মনে হচ্ছে কোন ধাঁধাঁ? উন্নত মস্তিষ্ক দিয়ে ধরে ফেলতে পারলেই আমি ধরা খেয়ে যাবো! না, আমি এমন কিছুই নই। আমাকে ধরতে হবে এমন কোন বিধানও নেই, বরং আমাকে ধরতে চাইলে তোমার মনে হবে আমি দূরে সরে যাচ্ছি ক্রমশ.... কিন্তু আমি দূরে যাচ্ছি না, মূলত আমি সবকিছুকে ধরে রাখি ! মানুষ আমাকে হৃদয়ে ধারণ করে এভাবেই যা আমি নই! আমি শুধু নিয়মতান্ত্রিক কক্ষে চলা এক কক্ষপথ... সবকিছুকে দিন থেকে রাত্রিত্বে ফেলে দেই, আবার সবকিছুকে রাত্রিত্ব থেকে দিনে ফেলে দেই! প্রকৃতিকে আমি নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা করে দেই, আমি তাকে চেপে ধরে রাখতে চাই না।
আমি রাত্রিকে চুপ করিয়ে বললাম, তুমি নিজেকে নিজেও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছো! তুমি নিজেকে লুকোতে চাচ্ছ! আমি তোমাকে ব্যাখ্যা করবো, আমি তোমাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করবো... কোন একদিন, কোন এক মূহুর্তে, তোমার রঙে !
রাত্রি আমার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে ! আমি সেই দৃষ্টিকে অগ্রাহ্য করে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম !
ছবি বন্ধু- গুগল ইমেইজ
রাত্রিত্ব-তিন ।
রাত্রিত্ব-দুই।
রাত্রিত্ব ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



