somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মরক্কোর ইমিগ্রেশনে একদিন

০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পাঁচ দিনের হলিডে শেষ করে ফিরছি মরক্কো থেকে। ছিলাম মারাকেশ শহরের এভিনিউ আবদেল করিম আল খাত্তাব এলাকায়। সেখান থেকে এয়ারপো্র্টে নামিয়ে দিয়ে ট্যাক্সী ড্রাইভার বলল, হ্যাভ আ সেফ জার্ণী। ভাড়ার সাথে বকশিস দিয়ে বললাম, থ্যান্ক ইউ।

বোর্ডিং পাস নেয়ার পরে দেখলাম এখনো ঘন্টা দুয়েক বাকি। বসে থাকা অথবা কয়েকটি শপে ঢুঁ মারা ছাড়া করার কিছুই নেই। সঙ্গে থাকা মরক্কান দিরহাম চেন্জ করার জন্য গেলাম একটি মানি এক্সচেন্জে। ইউকে মুদ্রায় দশ পাউন্ড এর একটি নোট দিয়ে আরো পয়ত্রিশ মরক্কান দিরহাম ফিরিয়ে দিল মেয়েটি। আমি এক বোতল পানীয় কেনার জন্য বিশ দেরহাম রেখে বাকিগুলো বকশিস হিসাবে দিয়ে দিলাম মেয়েটিকে। খুশী মনে একটি সুন্দর হাসি দিয়ে বলল, থ্যান্ক ইউ।

এয়ারপো্র্ট সিকিউরিটি পেরিয়ে দাড়ালাম ইমিগ্রেশনের লাইনে। অনেকগুলো লাইন। অপেক্ষাকৃত কম ভীড় দেখে এগিয়ে গেলাম একটি লাইনে। ইমিগ্রেশন পুলিশ ইউরোপীয়ানদের ট্যুরিস্ট্যদের পাসপোর্ট দেখছে আর সিল মারছে।এক সময় এল আমার পালা।



পাসপোর্ট দেখে প্রতিটি পাতা উল্টাতে লাগল। কয়েকটি দেশের ভিসা লাগানো আমার পাসপোর্টে। কি করি জিগ্ঙেস করলো। বললাম, প্রাইভেট সার্ভিস। বলল, তোমার অকুপেশন তো প্রাইভেট সার্ভিস না।

আমি বললাম, পাসপোর্টে আমার অকুপেশন স্টুডেন্ট কারন যখন পাসপোর্ট করি তখন আমি স্টুডেন্ট ছিলাম। এখন আমার ভিসা হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। সে জন্যই আমি এখন আর স্টুডেন্ট নই।

এখানকার ইমিগ্রশনের লোকজন ভাল ইংরেজী বলতে পারে না।ফ্রেন্চ আর অ্যারাবিক এদের অফিসিয়াল ভাষা। আমার কথার মাঝখানেই থামিয়ে দিল। এরপর সে বলল, তোমার তো ভিসা নেই!তুমি এখানে ওভারস্টে করেছো।

হোয়াট! বলে কি সে। এখানে উল্লখ্য, আমার ভিসার মেয়াদ দশ দিনের। আগস্টের ১৬ তারিখ পেয়েছিলাম ভিসা। মরক্কোতে প্রবেশের শেষ দিন ২৫সে সেপ্টেম্বর। আমি সে দিনই আসি এখানে। ছিলাম পাঁচ দিন। সে হিসাবে আরও পাঁচ দিন বাকি। কিন্তু সে দিকে গেল না ইমিগ্রশন অফিসার।



আমাকে ভিসার তারিখ দেখিয়ে বলল, এখানে কয় তারিখ লেখা আছে। আমি বললাম, ২৫ তারিখ।
আজ কয় তারিখ?
২৯ তারিখ।
সো?
আমি বললাম, ২৫ তারিখ হচ্ছে এখানে 'ইন' করার শেষ দিন। এরপর থেকে আরও দশ দিনের ভিসা আছে আমার। এমনকি, আমি যদি ১৬ই আগস্ট আসতাম তাতেও আমার দশ দিনের ভিসা ছিল। এটা ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসতো না।

আবার সে বলল, আজ কয় তারিখ?
২৯।
এখানে কি লেখা আছে?
আমি বললাম, ২৫।
কয়দিন?
৫দিন।
সে আবার বলল,তুমি এখানে পাঁচদিন ওভারস্টে করেছো।

আমি বললাম, দেখ, আমি ভিসা নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। এই দেশে ঢুকেছি এই এয়ারপোর্ট দিয়েই। আমার যদি ভিসা না-ই থাকতো তাহলে সে দিন ইমিগ্রেশন অফিসার বলে নি কেন? আমি ফেরত চলে যেতাম।

সে আমার কোন কথা শুনতে রাজী না। আবার কথার মাঝখানে হাত তুলে থামিয়ে দিল। সাথে অশোভন ভাবে এ্যা এ্যা করলো। আমাকে আর কিছু বলতেই দিল না।

বলল, তুমি এখানে ওভার স্টে করেছো। এরপর চোখ রাঙিয়ে যে ইঙ্গিত করলো তাতে আমার মনে ভয় ধরে গেল। অশূভ কোন কিছুর আভাস পেলাম।

সমস্যা হল সে ভাল ইংরেজী বলতে পারেনা। আবার আমার কোন কথা শুনতেও চায় না।

আমাকে কাউন্টারে দাড় করিয়ে রেখে সে উঠে গেল কার কাছে জানি। আমার তো বিপর্যস্ত অবস্থা। অনেক কথাই মাথায় আসতে লাগল। কী জন্য যে হলি ডে কাটাতে আসলাম এখানে! এরা গায়ের চামড়া দেখে মানুষ বিচার করে। আমি ইউ কে থেকে তোমার দেশে এসে ওভারস্টে করতে যাব কোন কারনে! যেখানে আমার নিরাপদ চাকুরী ও ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। ইউ কে'তে হলে তুমি আজ এখানে বসে এমন অশোভনভাবে এ্যা এ্যা করতে পারতে না!

প্রায় বিশ মিনিট পর ফেরত আসল সে। রাগে গরগর করতে লাগল। সম্ভাব্য শিকার হাত ফসকে গেলে যে রকম হয় সে রকম ভাবেই। সম্ভবত তার বড়কর্তা বলেছেন সব কিছু ঠিক আছে।

আমাকে আর কিছু না বলেই সিল মেরে পাসপোর্ট ফেরত দিল। নিতান্ত অনিচ্ছায় তাকে থ্যান্ক ইউ বললাম।

বিনা কারনে আমাকে হয়রানি করার জন্য তার অন্তত এপোলজি প্রকাশ করাটা উচিত ছিল। কিন্তু সে কিছুই বলল না।
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×