পাঁচ দিনের হলিডে শেষ করে ফিরছি মরক্কো থেকে। ছিলাম মারাকেশ শহরের এভিনিউ আবদেল করিম আল খাত্তাব এলাকায়। সেখান থেকে এয়ারপো্র্টে নামিয়ে দিয়ে ট্যাক্সী ড্রাইভার বলল, হ্যাভ আ সেফ জার্ণী। ভাড়ার সাথে বকশিস দিয়ে বললাম, থ্যান্ক ইউ।
বোর্ডিং পাস নেয়ার পরে দেখলাম এখনো ঘন্টা দুয়েক বাকি। বসে থাকা অথবা কয়েকটি শপে ঢুঁ মারা ছাড়া করার কিছুই নেই। সঙ্গে থাকা মরক্কান দিরহাম চেন্জ করার জন্য গেলাম একটি মানি এক্সচেন্জে। ইউকে মুদ্রায় দশ পাউন্ড এর একটি নোট দিয়ে আরো পয়ত্রিশ মরক্কান দিরহাম ফিরিয়ে দিল মেয়েটি। আমি এক বোতল পানীয় কেনার জন্য বিশ দেরহাম রেখে বাকিগুলো বকশিস হিসাবে দিয়ে দিলাম মেয়েটিকে। খুশী মনে একটি সুন্দর হাসি দিয়ে বলল, থ্যান্ক ইউ।
এয়ারপো্র্ট সিকিউরিটি পেরিয়ে দাড়ালাম ইমিগ্রেশনের লাইনে। অনেকগুলো লাইন। অপেক্ষাকৃত কম ভীড় দেখে এগিয়ে গেলাম একটি লাইনে। ইমিগ্রেশন পুলিশ ইউরোপীয়ানদের ট্যুরিস্ট্যদের পাসপোর্ট দেখছে আর সিল মারছে।এক সময় এল আমার পালা।
পাসপোর্ট দেখে প্রতিটি পাতা উল্টাতে লাগল। কয়েকটি দেশের ভিসা লাগানো আমার পাসপোর্টে। কি করি জিগ্ঙেস করলো। বললাম, প্রাইভেট সার্ভিস। বলল, তোমার অকুপেশন তো প্রাইভেট সার্ভিস না।
আমি বললাম, পাসপোর্টে আমার অকুপেশন স্টুডেন্ট কারন যখন পাসপোর্ট করি তখন আমি স্টুডেন্ট ছিলাম। এখন আমার ভিসা হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। সে জন্যই আমি এখন আর স্টুডেন্ট নই।
এখানকার ইমিগ্রশনের লোকজন ভাল ইংরেজী বলতে পারে না।ফ্রেন্চ আর অ্যারাবিক এদের অফিসিয়াল ভাষা। আমার কথার মাঝখানেই থামিয়ে দিল। এরপর সে বলল, তোমার তো ভিসা নেই!তুমি এখানে ওভারস্টে করেছো।
হোয়াট! বলে কি সে। এখানে উল্লখ্য, আমার ভিসার মেয়াদ দশ দিনের। আগস্টের ১৬ তারিখ পেয়েছিলাম ভিসা। মরক্কোতে প্রবেশের শেষ দিন ২৫সে সেপ্টেম্বর। আমি সে দিনই আসি এখানে। ছিলাম পাঁচ দিন। সে হিসাবে আরও পাঁচ দিন বাকি। কিন্তু সে দিকে গেল না ইমিগ্রশন অফিসার।
আমাকে ভিসার তারিখ দেখিয়ে বলল, এখানে কয় তারিখ লেখা আছে। আমি বললাম, ২৫ তারিখ।
আজ কয় তারিখ?
২৯ তারিখ।
সো?
আমি বললাম, ২৫ তারিখ হচ্ছে এখানে 'ইন' করার শেষ দিন। এরপর থেকে আরও দশ দিনের ভিসা আছে আমার। এমনকি, আমি যদি ১৬ই আগস্ট আসতাম তাতেও আমার দশ দিনের ভিসা ছিল। এটা ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসতো না।
আবার সে বলল, আজ কয় তারিখ?
২৯।
এখানে কি লেখা আছে?
আমি বললাম, ২৫।
কয়দিন?
৫দিন।
সে আবার বলল,তুমি এখানে পাঁচদিন ওভারস্টে করেছো।
আমি বললাম, দেখ, আমি ভিসা নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। এই দেশে ঢুকেছি এই এয়ারপোর্ট দিয়েই। আমার যদি ভিসা না-ই থাকতো তাহলে সে দিন ইমিগ্রেশন অফিসার বলে নি কেন? আমি ফেরত চলে যেতাম।
সে আমার কোন কথা শুনতে রাজী না। আবার কথার মাঝখানে হাত তুলে থামিয়ে দিল। সাথে অশোভন ভাবে এ্যা এ্যা করলো। আমাকে আর কিছু বলতেই দিল না।
বলল, তুমি এখানে ওভার স্টে করেছো। এরপর চোখ রাঙিয়ে যে ইঙ্গিত করলো তাতে আমার মনে ভয় ধরে গেল। অশূভ কোন কিছুর আভাস পেলাম।
সমস্যা হল সে ভাল ইংরেজী বলতে পারেনা। আবার আমার কোন কথা শুনতেও চায় না।
আমাকে কাউন্টারে দাড় করিয়ে রেখে সে উঠে গেল কার কাছে জানি। আমার তো বিপর্যস্ত অবস্থা। অনেক কথাই মাথায় আসতে লাগল। কী জন্য যে হলি ডে কাটাতে আসলাম এখানে! এরা গায়ের চামড়া দেখে মানুষ বিচার করে। আমি ইউ কে থেকে তোমার দেশে এসে ওভারস্টে করতে যাব কোন কারনে! যেখানে আমার নিরাপদ চাকুরী ও ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। ইউ কে'তে হলে তুমি আজ এখানে বসে এমন অশোভনভাবে এ্যা এ্যা করতে পারতে না!
প্রায় বিশ মিনিট পর ফেরত আসল সে। রাগে গরগর করতে লাগল। সম্ভাব্য শিকার হাত ফসকে গেলে যে রকম হয় সে রকম ভাবেই। সম্ভবত তার বড়কর্তা বলেছেন সব কিছু ঠিক আছে।
আমাকে আর কিছু না বলেই সিল মেরে পাসপোর্ট ফেরত দিল। নিতান্ত অনিচ্ছায় তাকে থ্যান্ক ইউ বললাম।
বিনা কারনে আমাকে হয়রানি করার জন্য তার অন্তত এপোলজি প্রকাশ করাটা উচিত ছিল। কিন্তু সে কিছুই বলল না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


