আজ একুশে ফেব্রুয়ারী। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা সহ পৃথিবীর সকল জাতির মাতৃভাষাকেই আমি শ্রদ্ধা করি, তবে কেন যেন পাকিস্তানের মাতৃভাষাকে আমি শ্রদ্ধা করতে পারি না।
১৯৫২ সালে একটি দাবি নিয়ে ছাত্র জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে, এবং পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক সহ নাম না জানা অনেক বাঙালি নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকারের জন্য প্রান দান করেন। যার ফলশ্রুতিতে আজ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, কবিতা লিখি, গান গাই। কিন্তু আসলেই কি আমরা বাংলার সম্মান রক্ষা করতে পারছি?
আমাদের দেশে এখন তিনটি ভাষার স্লো পয়জনিং হচ্ছে।
প্রথমেই আসবে হিন্দি ভাষার কথা। মুহম্মদ আলী জিন্নাহ জোর খাটিয়ে যা করতে পারেনি তা ভারতের কর্তারা ধীরে ধীরে সেটা করে ফেলছে। আজ আমাদের দেশের ছোট বাচ্চারা দেশাত্নবোধক গানের বদলে হিন্দি গান গাইতে শেখে। ভালবাসার চিঠির জায়গাটা এখন হিন্দি এসএমএস এর দখলে। দোষটা কার? আমাদের দেশের কোন সরকারই এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবেন না। একদম ফ্রিতে ভারতীয় চ্যানেল আমাদের দেশে প্রদর্শিত হচ্ছে, কোটি ডলার রেভিনিউ উঠিয়ে নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ উদাস..
এমনকি আমাদের নিজেদের মেইনষ্ট্রিম মিডিয়াগুলো ভারতীয় সংস্কৃতিকে ফলাও করে প্রচার করে, পত্রিকায় দেশের সংস্কৃতির বদলে ভারতীয় সংস্কৃতি প্রচার হচ্ছে। আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো বস্তাপচা মানহীন অনুষ্ঠান প্রচার করে সাথে সীমাহীন বিজ্ঞাপন। এজন্য আমাদের দর্শক এখন হিন্দি চ্যানেলে আসক্ত!
এবার আসি উর্দুর প্রসঙ্গে! আমি ইসলাম সম্পর্কে খুব বেশি জানি না, তবে যতটুকু জানি, মুসলমানদের কাছে আরবী ভাষা সবচেয়ে পবিত্র। পাকিস্তানে কোন নবী বা রাসূল এসেছিলেন কি না আমার জানা নেই। এদেশে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কিছু বলতে গেলে ভয় করে, না জানি কোনদিক দিয়ে মার খেতে হয়!
কোন এক অজানা কারনে আমাদের দেশের ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে ইমাম-মোল্ল্যাদের ভিতরে আরবীর চেয়ে উর্দূপ্রীতি বেশি। মক্কা মদীনার পাশেই তারা পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে বসাতে চান। কারন জানি না। বিভিন্ন ইসলামী মাহফিলে যতটা না বাংলায় বক্তৃতা শোনা যায়, তার চেয়ে উর্দূ বেশিই শোনা যায়। কওমি মাদ্রাসায় যারা শিক্ষালাভ করে, তারা পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পক্ষে কথা বলতে শিখে যায়। বাংলাদেশের চেয়ে তারা পাকিস্তান আফগানিস্তান নিয়ে বেশি উৎসাহী। আমাদের দেশে মুসলিম বিশ্বের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জমায়েত হয়। বিশ্ব ইজতেমা। অথচ এই ইজতেমার আখেরী মোনাজাত আর বয়ানে উর্দুর প্রভাব লক্ষ্যনীয়।
এবার আসি ইংরেজী প্রসঙ্গে। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজী অবশ্যই গুরুত্বপূর্ন, তবে গুরুত্বটা যদি বাংলাভাষার চেয়ে বেশি হয়ে যায় তবে সেটা আফসোসের বিষয়। আমাদের দেশের এলিট শ্রেনীর মানুষ তাদের সন্তানকে বাংলাশিক্ষায় পড়াতে অনিচ্ছুক, ইংরেজী মিডিয়াম স্কুলে তারে বেসি আসক্তি। ব্যাপারটা ৫০ এর দশকের মত, শুধু উর্দূর জায়গায় ইংরেজী। আমাদের দেশের সর্বস্তরে এখনও বাংলাভাষা চালু হয়নি। ব্যর্থতা আমাদের সবার।
আমাদের ভাষাকে রক্ষা করা উচিৎ, নিজ নিজ জায়গায় থেকেই শুরু করা উচিৎ। একে অন্যকে দুষতে শুরু করলে হয়তো কখনো মঙ্গোলিয়ার মত নিজের শিকড়, নিজের ভাষাকেই ভুলে যাবো।
-ষ্টুয়ার্ট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



