somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাবেয়া রাহীম
কস্তুরী খুঁজে ফিরে তার সুবাস..হায় মৃগ, যদি জানত গন্ধ কার! পাখিও খুঁজে ফিরে শিস--হায়, যদি সে জানত! সুর থাকে ভেতরে, অন্তরে.। চুপটি করে এই তো এখনো ডাকে, ব্যকুল হয়ে - ডাকে আর ডাকে ।।

সুফিবাদ বা সুফী দর্শন একটি ইসলামি আধ্যাত্মিক দর্শন ( ১ম পর্ব)

২৫ শে মার্চ, ২০১৭ ভোর ৬:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুফি তথা সুফিজমের উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে একাধিক মত। সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে ‘সুফ’ তথা ছাগল বা ভেড়ার লোম থেকে সুফি নামটি এসেছে । কেউ কেউ বলেন ‘সাফি’ অর্থাৎ ময়লা পরিষ্কারক থেকে সুফি কথাটি এসেছে। আরবি ‘সাফা’ (পবিত্র) শব্দ থেকে সুফি শব্দটির উৎপত্তি বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। বস্তুত: অন্তরের ময়লাকে পরিষ্কার করার লক্ষ্যেই সুফিরা নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।

সুফিবাদ (সুফীবাদ বা সুফী দর্শন ) একটি ইসলামি আধ্যাত্মিক দর্শন। আত্মা সম্পর্কিত আলোচনা এর মুখ্য বিষয়। আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনই হলো এই দর্শনের মর্মকথা। পরম সত্তা মহান আল্লাহ কে জানার আকাঙ্খা মানুষের চিরন্তন। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আধ্যাত্মিক ধ্যান ও জ্ঞানের মাধ্যামে জানার প্রচেষ্টাকে সূফী দর্শন বা সূফীবাদ বলা হয়। হযরত ইমাম গাজ্জালী(রঃ) মতে, " মন্দ সবকিছু থেকে আত্মাকে প্রবিত্র করে সর্বদা আল্লাহর আরাধনায় নিমজ্জিত থাকা এবং সম্পূর্ন রূপে আল্লাহতে নিমগ্ন হওয়ার নামই সূফী বাদ। আত্মার পবিত্রতার মাধ্যমে ফানাফিল্লাহ (আল্লাহর সঙ্গে অবস্থান করা) এবং ফানাফিল্লাহর মাধ্যমে বাকাবিল্লাহ (আল্লাহর সঙ্গে স্থায়িভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া) লাভ করা যায়। যেহেতু আল্লাহ নিরাকার, তাই তাঁর মধ্যে ফানা হওয়ার জন্য নিরাকার শক্তির প্রতি প্রেমই একমাত্র মাধ্যম। মহব্বতের মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে দিয়ে আল্লাহর অস্তিত্বে লীন হয়ে যাওয়া। যাকে মনছুর হাল্লাজ (র.) পরিণত করেছিলেন ‘ফানা ফিল্লা’তে।

যে মতবাদ ধর্মের গতানুগতিকতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে হৃদয়ের উপলব্ধি দিয়ে বিচার করে, সেটাই সুফিবাদ। হজরত জুনাইদ বোগদাদি (র.) সুফিবাদকে অভিহিত করেছেন ‘নিজের অজ্ঞতার উপলব্ধি’ বলে। অজ্ঞতা বলতে বলা হচ্ছে "বিশালত্ব" তথা আল্লাহকে জানার ও তাঁকে চেনার ব্যাপারে অজ্ঞতা। আল্লাহকে জানার ও চেনার উপায় হোল ভক্তি ও প্রেম । এই প্রেমের অন্য নামই সুফিবাদ। আর এই প্রেমের সাধকরাই সুফি সাধক।

অনেকে নবী পাক (স.)’র মাধ্যমে সুফিজমের প্রারম্ভ বলতে চেয়েছেন। এর পক্ষে যৌক্তিকতা হল নবী পাক (স.) নবুওয়্যাত প্রাপ্তির আগে পবিত্র কাবার প্রায় ৫ কি.মি. দূরত্বে গারে হেরায় মহান আল্লাহ পাকের ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। এখানেই পবিত্র কুরআনের প্রথম শব্দ "ইকরা" নাযিল হয়। এক মতে হযরত হাসান আল বসরী (রহ.) সর্বপ্রথম সুফি বলে গণ্য হয়ে থাকেন ।


প্রিয় নবী (সাঃ) সাহাবাদেরকে ৪টি বিদ্যা শিক্ষা দিতেন---শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফত। মোরাকাবা করলে হৃদয়ের কালিমা বিদুরিত হয়, হৃদয় আলোকিত হয়। মোরাকাবার নিয়ম হল প্রতি ওয়াক্ত নামাজ শেষে ও রাত্রির তৃতীয় অংশে (রহমতের সময়) জেগে বা অন্য যে কোন সময় আল্লার ধ্যনে মগ্ন থাকা নিজের জীবনের ভুল, বেয়াদবী জন্য মহান আল্লাহর কাকুতি মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করা । এভাবে অধিককাল মোরাকাবা করলে দিলের চোখ খুলে যায়। আর ঐ চোখেই কেবল মো'মেন বান্দার নামাযের মেরাজ হয়ে থাকে।

মোরাকাবা হল নফল ইবাদত। নফল ইবাদত হল আল্লাহর নৈকট্য লাভের উত্তম পন্থা। তাই মোরাকাবা সাধকের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সাহাবায়ে কেরামগণ প্রথমে মোরাকাবা করেছেন। পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদত নির্দেশিত হয়েছে।

অবশ্য আরেক মত হচ্ছে পবিত্রআসহাব-ই-সুফফা অর্থাৎ বারান্দার এ সাহাবাগণের আদর্শই সুফিরা গ্রহণ করেছিলেন এবং সূফফা থেকে সুফি শব্দটি নেয়া হয়েছে। রাসুল(সাঃ) মদিনায় হিজরতের পরে মসজিদে নববীর বারান্দায় একটা ছাউনির নিচে থাকতেন। রাসুল(সাঃ) সাহাবাদের জন্য ধ্যান বা মোরাকাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। এখানে বসে হজ্ব ও ওমরায় আসা নবীর আশেকরা কুরআন পাঠ, নফল নামাজ, ধ্যান বা মোরাকাবা, দরুদ ও মিলাদ শরীফ পড়ে থাকেন। ছাউনি শব্দটা থেকেই এসেছে সুফি শব্দটা। তাঁরা সেখানে থাকতেন সংসার তথা যাবতীয় কিছু ত্যাগ করে। তাঁরা লোমের কম্বল এবং পোশাক ব্যবহার করতেন । ওই সাহাবিগণ ব্যবসা-বাণিজ্য-চাষাবাদ কিছু করতেন না, এমনকি থাকতেন না পরিবারের সাথেও। মক্কা - মদিনা অথবা যেখানেরই অধিবাসী হোন না কেন- যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রেমে নিবেদিত ও সমর্পিত হয়েছিলেন তাঁরাই এসে থাকতেন ওই তিনদিক খোলা ছাউনির তলায়। পুরো দলের মধ্যে হয়ত দু-চারজন কাঠ কাটতে গেলেন, বিক্রি করে সবার জন্য দু-চার টুকরা করে রুটির জোগান দেবেন- বাকিরা ওই ছাউনিতেই। রাসূলের গোলামিতে। তাঁর পায়ের তলায়। দিন নেই, রাত নেই। গ্রীষ্ম-শীত-ধূলিঝড় নেই। তাঁদের না আছে এক টুকরা বাড়তি কাপড়, না একটা বাক্স-পেঁটরা। দাঁড়াতে পারেন না, অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান- এই এঁরাই আবার কী করে যেন রাতের পর রাত পার করে দেন সালাতে। দয়ার সাগর রাসূল (সাঃ) তাঁদের ছাড়া খাবেন না। বসবেন না। উঠবেন না। এই আসহাবে সুফফারা দিনের পর দিন রোজা রেখে রাতের পর রাত কুরআন তিলাওয়াত ও আধ্যাত্ম্যসাধনায় এমন মগ্ন ছিলেন, যে ইসলামের ব্যবহারিক প্রকৃত রূপ হিসাবে তাঁদের দেখেই মানুষ দলে দলে শামিল হত। এসে পড়ত তাদের পান্ডিত্য দেখে, মোহ- বরজনের আজব মোহ দেখে। এভাবে যারা করেছেন, তারাই শুধু সুফী নন। ইসলামের পূরো রীতিটা যেই অনুসরণ করেন, শেষতক তিনিই সুফী।



কাশফ কি ;-- কাশফ মানে হল অজানা কোন বিষয় নিজের কাছে প্রকাশিত হওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ কর্তৃক তার কোন বান্দার নিকট এমন কিছুর জ্ঞান প্রকাশ করা যা অন্যের নিকট অপ্রকাশিত। আর এটি কেবলমাত্র নবী-রাসূলগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তিনি অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী। তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারু নিকট প্রকাশ করেন না’। ‘তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। তিনি তার (অহীর) সম্মুখে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন’ (জিন ৭২/২৬-২৭)। এখানে ‘রাসূল’ বলতে জিবরীল ও নবী-রাসূলগণকে বুঝানো হয়েছে। তবে কখনও কখনও রীতি বহির্ভূতভাবে অন্য কারু নিকট থেকে অলৈাকিক কিছু ঘটতে পারে বা প্রকাশিত হতে পারে। যেমন ছাহাবী ও তাবেঈগণ থেকে হয়েছে। অতএব এরূপ যদি কোন মুমিন থেকে হয়, তবে সেটা হবে ‘কারামত’। অর্থাৎ আল্লাহ্ তাকে এর দ্বারা সম্মানিত করেন।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৮:১১
১৮টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শনিবারের চিঠিঃ পর্ব পাঁচ (ধারাবাহিক সাপ্তাহিক কলাম)

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:০৯



.
১।
.
"লেখালিখিতে কি কোন আনন্দ আছে? আমি জানি না। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে, লেখালিখির জন্য কঠিন বাধ্যবাধকতা আছে, কিন্তু এই বাধ্যবাধকতা কোথা থেকে আসে, তাও আমার জানা নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাখ টাকার বাগান খায় এক টাকার ছাগলে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:৩৭

স্বাধীনতার অব্যবহিত পর আওয়ামীলীগের একটা অংশ গিয়ে জাসদ করল। তৎকালীন সরকারকে হটাতে এমন কোনো কাজ নেই তারা করে নি। খুন, ডাকাতি, লুটতরাজ সব চলল। তৈরি করল ১৫ আগস্টের ক্ষেত্র। ঘটল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধু ও মধুমক্ষিকা; স্রষ্টার সৃষ্টিনৈপুন্যতার অনন্য নিদর্শন

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫৭

ছবি: অন্তর্জাল।

মধু ও মধুমক্ষিকা; স্রষ্টার সৃষ্টিনৈপুন্যতার অনন্য নিদর্শন

মধু। সুমিষ্ট পানীয়। শ্রেষ্ঠতম ঔষধি। বহু রোগের আরোগ্য। দেশ-কাল-জাত-পাতের উর্ধ্বে সকলের প্রিয় এক পানীয়। কিন্তু কে দেয় এই পানীয়? কী তার সৃষ্টিকৌশল?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মীয় পোষ্টে কমেন্ট করলেই 'নোটীশ' এসে উপস্হিত হয়।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:১৪



*** এক নোটীশেই জেনারেল হয়ে গেছি, অভিনন্দন জানাতে পারেন।

জলবায়ু সমস্যা, গ্লোবেল ওয়ার্মিং, আকাশের ওযোন-লেয়ার নষ্ট হওয়া সম্পর্কে আপনি কখন প্রথম শুনেছেন? ইহা কি শেখ সাহেবের মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলাবতী ছবি ব্লগ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১১


কলাবতী ফুল অনেকেরই ভালো লাগে ,নজর কাড়ে । আবার ভালোবাসে কেউ কেউ।
যতই রূপবতী গুণবতী হোক এই ফুল তবুও সে পড়ে থাকে অবহেলায় রাস্তার পাশে ,নর্দমার পাশে ,জঙ্গলে ,পরিত্যক্ত জায়গা।
দু চারজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×